শিরোনাম

আলজিয়ার্সই হবে উঁচু মিনারের মুসলিম স্থাপনার ইতিহাস

প্রিন্ট সংস্করণ॥ জিয়া উল ইসলাম  |  ০৩:০২, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

আফ্রিকা মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র ও বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম রাষ্ট্র হচ্ছে আলজেরিয়া । আলজেরিয়ার উত্তরে ভূমধ্যসাগর, পূর্বে তিউনিসিয়া ও লিবিয়া, দক্ষিণে নাইজার, মালি এবং মোরিতানিয়া, পশ্চিমে মরক্কো ও পশ্চিম সাহারা। উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় ভূমধ্যসাগরের তীরে গড়ে উঠছে এই মুসলিম রাষ্ট্র। দেশটির নয়-দশমাংশ জুড়ে সাহারা মরুভূমি। ভূমধ্যসাগরের তীরে উপকূলীয় সমভূমি রয়েছে। আলজেরিয়ার প্রায় সব মানুষ দেশটির উত্তরাঞ্চলে উপকূলের কাছে বাস করে। দেশটি উত্তরপ্রান্তে অবস্থিত অঞ্চলটি তেল নামে পরিচিত। এটি মূলত তেল অ্যাটলাস পর্বতমালাটি নিয়ে গঠিত, যা উপকূলীয় সমভূমিগুলিকে দক্ষিণের দ্বিতীয় অঞ্চলটি থেকে আলাদা করেছে । দক্ষিণের দ্বিতীয় অঞ্চলটি প্রায় সম্পূর্ণই মরুভূমি আবৃত। এই অঞ্চলটি আলজেরিয়ার আয়তনের সিংহভাগ গঠন করেছে। এটি মূলত গোটা উত্তর আফ্রিকা জুড়ে বিসৃত সাহারা মরুভূমির পশ্চিম অংশ।আলজেরিয়া ১৯শ শতকের মাঝামাঝি থেকে ১৯৬২ সালে ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের আগ পর্যন্ত ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। আট বছর ধরে সংঘটিত স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশটির অশেষ ক্ষতিসাধন হয়, এবং এখান থেকে বহু ইউরোপীয় চলে যায়। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে সামরিক বাহিনী ও ইসলামী মৌলবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষ দেশটিকে গৃহযুদ্ধে ঠেলে দেয়। তবে সরকারী উদ্যোগের ফলে ২১শ শতকের শুরুতে এই যুদ্ধ অনেকাংশেই দমন সম্ভব হয়েছে। একসময় আলজেরিয়ার অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর, তবে বর্তমানে পেট্রোলিয়ামের রপ্তানি করে আলজেরিয়া আফ্রিকার ধনী দেশগুলির মধ্যে একটি হয়েছে। আলজেরিয়ার বেশির ভাগ লোক আরব, বার্বার কিংবা এই দুইয়ের মিশ্রণ। বার্বারেরা প্রথম উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় বসতি স্থাপন করে। ৭ম শতকের শেষভাগে আরব মুসলিমেরা উত্তর আফ্রিকা জয় করে এবং ইসলাম ও আরবি ভাষার প্রচলন করে। বর্তমানে আলজেরিয়ার প্রায় সবাই মুসলিম ও আরবিভাষী। সংখ্যালঘু বার্বারেরা ইসলাম গ্রহণ করলেও নিজ ভাষা ও রীতিনীতি বিসর্জন দেয়নি। আলজেরিয়াতে ফরাসি ভাষাও বহুল প্রচলিত।
আলজেরিয়ার প্রচুর লুক্কায়িত খনিজ সম্পদ আছে, যার মধ্যে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস অন্যতম। বেশ কিছু মরূদ্যান আছে, রয়েছে উচ্চভূমির অরণ্যের সেখানে এখনও চিরহরিৎ এর দেখা মেলে। পাওয়া যায় লাল মাটি, ও বিভিন্ন শিলা , আছে অনেক দ্বীপ। আর এই দ্বীপ থাকার কারনেই দ্বীপ সমূহ নিয়েই আলজেরিয়ার নাম হয়েছে। আলজেরিয়ার আরবি নাম আলজাজাইর (অর্থাৎ দ্বীপসমূহ); দেশটির বৃহত্তম শহর আলজিয়ার্স এ দেশের রাজধানী ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত। এই রাজধানীর মোহাম্মদিয়া নামক স্থানে প্রায় ২৬৫ মিটার উচ্চতা মিনারে গড়ে উঠছে ‘আলজেরিয়া গ্রান্ড মসজিদ’। সৌদি আরবের মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির পর বিশ্বের সর্ববৃহৎ মসজিদ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে বা বলা চলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ এটি । সৌদি সংবাদমাধ্যম আল অ্যারাবিয়ার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘আলজেরিয়া গ্রান্ড মসজিদ’ মসজিদটির আয়তন ২০ হাজার বর্গমিটার। মসজিদটির মিনারের উচ্চতা ২৬৫ মিটার। এই মিনারই হবে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মিনার। এ মসজিদে একসঙ্গে এক লাখ ২০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। ১৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে ২০১২ সালে শুরু হয় মসজিদটির নির্মাণকাজ। মসজিদ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানা গেছে, মসজিদটিকে একটি বিজ্ঞান চর্চা কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।মসজিদটির ডিজাইন করেছেন জার্মানের প্রকৌশলী ‘ইউরগান এঙ্গেল’। মুসলিমদের মধ্যে ইতিহাস ঐতিহ্য এবং ঘনিষ্ঠ সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে এই মসজিদ। ‘আলজেরিয়া গ্রান্ড মসজিদ’টি ২০১৯ সালে প্রথম দিকে উদ্বোধন হবে । সম্প্রতি আলজেরিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ ইসা এমনই কথা জানিয়েছেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত