শিরোনাম

২০১৮ সালের প্রভাবশালী সেরা ১০ মুসলিম

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৫:১৭, জানুয়ারি ০৫, ২০১৯

ভূপ্রকৃতি উষর মরুভূমিময় জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত বেসরকারি স্বাধীন গবেষণা সংস্থা দ্য রয়েল ইসলামিক স্ট্যাটিজিক স্টাডিজ সেন্টার। এটি একটি জ্ঞান নির্ভর আন্তর্জাতিক সংগঠন। যারা মূলত বিশ্বব্যাপি প্রভাশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি জরিপ পরিচালনা করেন। তারা বিভিন্ন বিষয় গবেষণাকর্মের পাশাপাশি বিগত ২০০৯ থেকে ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস ফাইভ হানড্রেড মোস্ট ইনফ্লুনসিয়াল মুসলিম’-শিরোনামে প্রতিবছর সারাবিশ্বের প্রভাবশালী ও খ্যাতনামা মুসলিম ব্যক্তিত্বদের তালিকা প্রকাশ করে আসছেন। দীর্ঘ নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে তারা এই তালিকা তৈরি করেন। প্রথমে দ্য রয়েল ইসলামিক স্ট্যাটিজিক স্টাডিজ সেন্টার বছরব্যাপি জরিপ চালিয়ে বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের নাম নির্বাচন করে। এরপর তারা এই ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের নাম নির্বাচন করার পর আরো দুই ধাপে দুটি জরিপ পরিচালনা করেন। প্রথম ধাপে সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০ জন ব্যক্তিত্বকে নির্বাচন করা হয় এবং দ্বিতীয় ধাপে সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০ জন ব্যক্তিত্বকে নির্বাচন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় একই পদ্ধতি ব্যবহার করে সম্প্রতিতাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের বিশ্বের সর্বাধিক প্রভাবশালী সেরা ১০ জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এবার তাদেরকে নিয়ে লিখেছেন- জিয়া উল ইসলাম

রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সারাবিশ্বের সর্বাধিক প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় প্রথমে রয়েছেন। ২০১৬ ও ২০১৭ সালের তালিকায় তিনি অষ্টম স্থানে ছিলেন। ৬২ বছর বয়সী এরদোয়ান মূলত রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ও আধিপত্যের বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হয়েছেন। টানা ১১ বছর তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী থাকার পর ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি তুরস্কের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ১৯৫৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ইস্তাম্বুলে ‘জুরজু’ বংশে জন্মগ্রহণ করেণ।তাঁর শিশুকাল কেটেছে কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে। তের বছর বয়সে আবার ইস্তাম্বুল চলে আসেন।এরদোগানের পরিবার ছিল দারিদ্র-অসহায়। মাদ্রাসায় পড়েছেন তিনি ইস্তানবুলের মাদ্রাসা থেকে ১৯৭৩ সালে ‘কোরআন’ পড়ার সাথে হেফজও শেষ করে। তুর্কির প্রসিদ্ধ মারমারাহ ইউনির্ভাসিটি থেকে তিনি ‘অর্থশাস্ত্র এবং প্রশাসনিক বিজ্ঞানে’ মাস্টার ডিগ্রী অর্জন করেন। সত্তর দশকে তিনি নাজিমুদ্দিন আরবেকানের নেতৃত্বে হিজবুল খালাসিল ওয়াতানি দলে যোগ দেন।কিন্তু ১৯৮০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর তুরস্কের সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৮৩ সালে রাজনৈতিক দলগুলোর নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে এরদোগান হিজবু রাফাহ এ যোগ দেন। ১৯৯৮ সালে ধর্মীয় উগ্রতার অভিযোগে তাঁকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। এমনকি এক রাজনৈতিক সমাবেশে কিছু ইসলামি কবিতা পাঠ করার কারণে তাঁকে কারাগারে যেতে হয়। ১৯৯৪ সালে বিপুল ভোটে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন এরদোগান। ২০০২ সালে আব্দুল্লাহ গুলের নেতৃত্বে এরদুগানের (এ কে পি পার্টি) বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। এরপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে তিনি বিজয়ী হয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এরদোগান তুরস্কের সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ সব খাতে ঐতিহাসিক উন্নয়ন করেন। সেই সাথে বহির্বিশ্বের সাথে সম্পর্কও জোরদারভাবে করেন। বিশেষ করে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সাথে (ভিসা,সীমান্ত ইত্যাদি বিষয়ে) শিথিল করেন।গাজায় নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য অনেক সাহায্য করেন। ইসরাইল-আমেরিকার শত বাধা এবং চোখ রাঙ্গানী সত্বেও তিনি গাজার মজলুম মুসলমানদের পাশে ছিলেন। ইসরাইলের সাথে সব সম্পর্কও ছিন্ন করেন। অবশ্য পরে কিছু শর্তে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেন। মিসরের স্বৈরচারী অবৈধ সেনা শাসনেরও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। এরদোগানে ১৯৭৮ সালে বিয়ে করেন। প্রায় ৪০ বছরের বৈবাহিক জীবনে দুই মেয়ে এবং দুই ছেলের বাবা হয়েছেন। তার স্ত্রীর নাম এমিনি এরদোগান। বর্তমানে তিনি আধুনিক তুরষ্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এবং সারাবিশ্বে মুসলিম প্রভাবশালী নেতা হিসেব পরিচিতি।

সালমান বিন আবদুল আজিজ বিন আল সৌদ
সারাবিশ্বের সর্বাধিক প্রভাবশালী ১০ জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। ২০১৬ ও ২০১৭-তে তিনি তৃতীয় স্থানে ছিলেন। সালমান ডিসেম্বর ৩১, ১৯৩৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইবনে সৌদের ২৫তম সন্তান। তার মায়ের নাম হাসসা আল সৌদাইরি। সালমান এবং তার ছয় ভাই সৌদাইরি সেভেন হিসেবে পরিচিত। তিনি রিয়াদের ঐতিহাসিক মুরাব্বা প্রাসাদে বেড়ে ওঠেন।সালমান রাজধানী রিয়াদের প্রিন্স স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এই বিদ্যালয়টি ইবনে সৌদ কর্তৃক শুধুমাত্র তার সন্তানদের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তিনি ধর্ম ও আধুনিক বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশুনা করেন। সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ হলেন সৌদি আরবের বাদশাহ, দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম এবং আল সৌদের প্রধান। তিনি ২০১১ সাল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তারও আগে ১৯৬৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রিয়াদ প্রদেশের গভর্ণর নিযুক্ত ছিলেন। সালমান জানুযারি ২৩, ২০১৫ তারিখে তার সৎভাই বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের স্থলাভিষিক্ত হন। সালমান বিন আব্দুল আজিজ তিনবার বিবাহ করেন। তার প্রথম স্ত্রী সুলতানা বিনতে তুর্কি আল সৌদাইরি যিনি, জুলাই ২০১১ সালে ৭১ বছর বয়সে মারা যান। এই পরিবারের সালমানের সন্তানরা হলেন, প্রিন্স ফাহাদ, প্রিন্স আহমদ, প্রিন্স সুলতান, প্রিন্স আব্দুল আজিজ, প্রিন্স ফয়সাল এবং প্রিন্সেস হাসসা।

অধ্যাপক ড. শেখ আহমদ মুহাম্মদ আল-তৈয়ব
২০১৭ সালে প্রথম ও ২০১৬ সালে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিশরীয় অধ্যাপক ড. শেখ আহমদ মুহাম্মদ আল-তৈয়ব এবার নবম স্থানে রয়েছেন। প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ক্ষমতার কারণে তিনি তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি আল-আজহার ইউনিভার্সিটির প্রধান শায়খ এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের গ্র্যান্ড ইমাম। এর আগে প্রায় সাত বছর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও মিশরের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

শায়খ হাবিব উমর বিন হাফিজ
অষ্টম স্থানে রয়েছেন শায়খ হাবিব উমর বিন হাফিজ। তিনি ইয়েমেনের তারিমে অবস্থিত ‘দারুল মুস্তাফা’ সংস্থার পরিচালক। প্রিয় নবী (সা.)-এর জীবনীভিত্তিক বিভিন্ন রচনাকর্ম ও আয়োজনের কারণে তিনি বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণকারী এই ব্যক্তিত্ব তালিকায় এবারই প্রথম স্থান পেয়েছেন। ২০১৭ সালে প্রথম ও ২০১৬ সালে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিশরীয় অধ্যাপক ড. শেখ আহমদ মুহাম্মদ আল-তৈয়ব এবার নবম স্থানে রয়েছেন। প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ক্ষমতার কারণে তিনি তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি আল-আজহার ইউনিভার্সিটির প্রধান শায়খ এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের গ্র্যান্ড ইমাম। এর আগে প্রায় সাত বছর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও মিশরের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

শায়খ সালমান আল-আওদাহ
তালিকার দশম স্থানে রয়েছেন সৌদির বিখ্যাত স্কলার ও শিক্ষাবিদ শায়খ সালমান আল-আওদাহ। তিনি এবারই প্রথম তিনি তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তার জন্ম ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি। সৌদি রাজপরিবারের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কথা বলায় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর তিনি একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। গ্রন্থকার হিসেবে তিনি বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন।

বিচারপতি মুফতি তাকি উসমানি
বিশ্ববিখ্যাত স্কলার ও পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক মুফতি তাকি উসমানি রয়েছেন তালিকার ষষ্ঠ স্থানে। গত দুই বছরের তালিকায় তিনি ছিলেন ২২ নম্বরে। তার দেশ পাকিস্তান।
৭৩ বছর বয়সী বরেণ্য এই ব্যক্তিত্ব সামগ্রিক জ্ঞান-অভিজ্ঞানে অগাধ পান্ডিত্য, কর্মখ্যাতি ও পারিবারিক আভিজাত্যের বিবেচনায় তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ইসলামী আইনশাস্ত্র ও অর্থনীতির অঙ্গনে মাইলফলকের ভূমিকা রয়েছেন দীর্ঘকাল ধরে। উর্দু, বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় তার গ্রন্থাদি রয়েছে।

সাইয়েদ আলী হুসাইন সিস্তানি
বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালের জরিপে তিনি টপ টেন তালিকাতে ছিলেন না। তবে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের জরিপে সপ্তম স্থানের অধিকারী ছিলেন। তার দেশে ইরান। তিনি ০৪ আগস্ট ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বর্তমান বয়স ৮৬ বছর। পান্ডিত্যপূর্ণতা এবং বংশধারার বিবেচনায় তিনি প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব বিবেচিত। তিনি একজন ঐতিহ্যবাহী শিয়া মুসলিম। তিনি ইরানের একজন বিপ্লবী নেতা হিসেবে পরিচিত।

কিং আবদুল্লাহ
জর্ডানের রাজা কিং আবদুল্লাহ দ্বিতীয় বিশ্বের সবেচেয় প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার তৃতীয় স্থানে আছেন। ২০১৬ ও ২০১৭ সালের জরিপে তিনি প্রথম ছিলেন। তার দেশ জর্ডান। বর্তমানে তার বয়স ৫৪ বছর। রাজনীতি এবং ঐতিহ্যবাহী বংশের বিবেচনায় তিনি প্রভাবশালী নির্বাচিত। তিনিও একজন ঐতিহ্যবাহী সুন্নি মুসলিম নেতা। বর্তমানে তিনি জর্ডানের হাশেমাইট কিংডমের রাজা এবং জেরুজালেমের বিভিন্ন অঞ্চলের জিম্মাদার হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। মুসলিম বিশ্বের দুটি বিরাট দ্বন্দ্ব নিরসনে ভূমিকা পালন করার মাধ্যমে কিং আবদুল্লাহ (দ্বিতীয়) বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হন।

আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি
বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ইরানের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব সাইয়েদ আয়াতুল্লাহ আলী আল-খোমেনি। গত দুই বছরের জরিপ-তালিকায় তিনি চতুর্থ স্থানে ছিলেন এবারও ২০১৮ সােেল জরিপে চতুর্থ স্থানেই আছেন । তিনি ইরান দেশে ১৭ জুলাই ১৯৩৯ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। ৭৭ বছর বয়য়ে এই ইরানী প্রভাবশালী এ ধর্মীয় নেতা রাজনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার কারণে তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তিনি একজন ঐতিহ্যবাহী শিয়া মুসলিম। পাশাপাশি একজন বিপ্লবী শিয়া নেতা। বর্তমানে ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সবোর্চ্চ নেতা হিসাবে বিশ্বে তার পরিচিতি।

কিং মুহাম্মদ ষষ্ঠ
মরক্কোর রাজা কিং মুহাম্মদ ষষ্ঠ তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। গত দুই বছরও তিনি একই স্থানে ছিলেন। তার দেশ মরক্কো। ২১ আগস্ট ১৯৬৩ সালে জন্ম মোতাবেক তার বয়স ৫৩ বছর । কিং মুহাম্মদ ষষ্ঠ এ রাজা রাজনীতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ও দেশীয় সার্বিক উন্নয়নের বিবেচনায় প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তিনি পারিবারিকভাবে সরাসরি মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর বংশধর। গত ৪০০ বছর ধরে কিং মুহাম্মদের পূর্বপুরুষরা মরোক্কো শাসন করে আসছেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত