শিরোনাম

ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক স্থাপনা আল-আহসা

প্রিন্ট সংস্করণ॥ জিয়া উল ইসলাম  |  ০১:১৮, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮

এশিয়ার সবচেয়ে বড় ২১ লাখ ৫০ হাজার বর্গ কি.মি. আয়তনের দেশ সৌদি আরব। সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে দেখা যায় তিনটি পর্যায়ে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠা পায়। ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দ বা ১১৫৭ হিজরি থেকে ১২৩৩ হিজরি প্রতিষ্ঠা পায় প্রথম সৌদি রাষ্ট্র। মুহাম্মাদ বিন সউদ ইতিহাসের প্রথম সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দ বা ১২৪০ হিজরি থেকে ১৩০৯ হিজরি দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায়। দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন তুর্কি বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন সউদ। অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি পুনরায় আরব ভূখণ্ডে আরবীয়দের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনেন। আর তৃতীয় সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পায় ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে বা ১৩১৯ হিজরিতে আবদুল আজিজ বিন আবদুর রহমান বিন ফয়সাল আল সউদের হাত ধরে। তবে আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠা পায় ১৯৩২ সালে। কারণ ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এ মর্মে রাজকীয় ফরমান জারি হয়যে, এখন থেকে অধিকৃত আরব অঞ্চল ‘আল মামলাকাতুল আরাবিয়্যা আস-সাউদিয়্যাহ’ নামে পরিচিতি লাভ করবে। এর পর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। (সূত্র: A History of Saudi Arabia ) সৌদি রাষ্ট্রের নাম আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজের পিতা সৌদের নাম অনুসারে রাখা হয়। সৌদি রাষ্ট্র মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। ইসলামের দুই পবিত্র মসজিদ মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববি সৌদি আরবে রয়েছে। সৌদি আরবের উত্তরে জর্দান ও ইরাক, উত্তর-পূর্বে কুয়েত, পূর্বে কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত, দক্ষিণ-পূর্বে ওমান ও দক্ষিণে ইয়েমেন অবস্থিত। সৌদি আরব মূলত চারটি স্বতন্ত্র অঞ্চল হেজাজ, নজদ, আলহাসা পূর্বাঞ্চলীয় আরব এবং আসির দক্ষিণাঞ্চলীয় আরব নিয়ে গঠিত। আলহাসা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত এক পুরনো শহরের নাম। আল-আহসার অবস্থান রাজধানী রিয়াদ থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দূরে। আল-আহসা পারস্য উপক‚ল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মরূদ্যান রয়েছে। এখানে প্রায় ১৮ লাখ মানুষের বসবাস। আলহাসায় প্রায়ই বৃষ্টি হয়, এমনকি মাঝেমাঝে বন্যাও দেখা দেয়। মরুভূমির মাঝে এমন বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার আচরণ বেশ বিরল। এক সময় আরব উপদ্বীপের পূর্বাঞ্চলীয় মরূদ্যান এলাকাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্র ছিল। এখানে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা অনেক ঐতিহ্যের অস্তিত্ব রয়েছে। বাগান, খাল, ঝর্ণা, ক‚প ও হ্রদের পাশাপাশি মরূদ্যান, কিছু পুরনো বাড়িঘরের স্থাপনাও রয়েছে। এই মরূদ্যানের মাধ্যমে আরব উপদ্বীপের এ অংশে মানুষের বসবাস কবে থেকে শুরু হয়েছে তার ধারণা পাওয়া যায়। আলহাসায় ঐতিহাসিক দুর্গ, মসজিদ, ক‚প ও পানি ব্যবস্থাপনার উপকরণ রয়েছে। এ এলাকা হস্তশিল্প সামগ্রীর জন্যও বিখ্যাত। বিশ্বের সবচেয়ে দামি লাল চাল আলহাসায় চাষ করা হয়। ‘হেসাবি লাল চাল’ নামে খ্যাত প্রতি কেজি চাল ৫০ রিয়ালেরও বেশি দামে বিক্রি হয়। সৌদি আরবের মতো জায়গায় এমন সুবিধা আলহাসা ছাড়া অন্য কোথাও নেই। হাসা মরূদ্যানটির ৩০ লাখ পামগাছ, ৪ লাখ ফলগাছ রয়েছে। তা থেকে বছরে এক লাখ টন খেজুর ও ১৩ হাজার টন ফল পাওয়া যায়। এখানেই সৌদির সর্ববৃহৎ ৩ লাখ ৭৯ হাজার স্কয়ার কিলোমিটার তেলের খনি অবস্থিত। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো নতুন সাতটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম হলো সৌদি আরবের আলহাসা মরূদ্যান। বাহরাইনে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৪২তম অধিবেশনে আলহাসার নাম ঘোষণা করা হয়। আলআহসা শহর সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। প্রতি বছর প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক সেখানে ভ্রমণ করেন। আল-আহসা নয়নাভিরাম উপত্যকা ও ?দৃষ্টিনন্দন খর্জুরবীথির কারণে বেশ খ্যাতি লাভ করেছে। আলআহসাকে দূর থেকে দেখলে মনে হয়ে, ‘মরুর বুকে যেন এক টুকরো সবুজ’। গত ১২ ডিসেম্বর, পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় শহরটিকে আরব ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ও পর্যটনগত অবস্থান বিবেচনা করে আল-আহসাকে ২০১৯ সালের আরব পর্যটন রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত