শিরোনাম

ভাল-মন্দের কাজের উপর পয়েন্ট ভিত্তিক জীবন

জিয়া উল ইসলাম  |  ১২:৩০, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮

কলকাতার একটি বাংলা ছবিতে দেখিয়েছিল নায়কের নায়িকা পেতে দরকার ১০০ পয়েন্ট। নায়ক যদি ভাল কাজ করে তাহলে তার পয়েন্ট বাড়ে আর যদি সে খারাপ কাজ অর্থাৎ মারামারি করে তাহলে তার যে পয়েন্ট ৫০ আছে তার থেকে কমতে থাকে । যদি এই ছবির মত আমাদের দেশে পয়েন্ট ভিত্তিক জীবনব্যবস্থা হয় তাহলে কেমন হয়। ধরুন বলা হলো সব নাগরিক এর পয়েন্ট ১০০ যদি সে এই পয়েন্ট বাড়িয়ে ২০০ করতে পারে তাহলে তাকে নাগরিক সুবিধা বেশি দেওয়া হবে । ২০০ পয়েন্ট এর অর্জনের বিনিময়ে তাকে হাসপাতারে ফ্রি সুবিধা দেওয়া হবে। আর এজন্য অবশ্যই তাকে ভাল কাজ করতে হবে আর যদি সে ঘুস খায় তাহলে তার ১০০ পয়েন্ট থেকে ধীরে ধীরে কমবে তখন সে অটোমেটিক ভাবে নাগরিক সুবিধা কম পাবে । আর এরকমই নাগরিকদের পয়েন্ট ভিত্তিতে ভাল-মন্দের তারিকা করা হচ্ছে চীনে। সেদেশের বিশালসংখ্যক জনগণকে তাদের কাজকর্ম, আচার আচরণের ভিত্তিতে পয়েট দেয়া হচ্ছে এবং সেই পয়েন্ট নথিভুক্ত হচ্ছে কম্পিউটারে । যারা বেশি পয়েন্ট পাবেন তাদের জন্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ভাল সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। আর যারা আইন ভাঙবেন, নিয়ম মেনে চলবেন না, তাদেরকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। চীনের পূর্বাঞ্চলের রংচাং শহরে যেখানে সামাজিক পয়েট ব্যবস্থার কাজ জোরেসোরে চলছে সেখানে সরকারি ভবনে মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন তাদের ব্যক্তিগত স্কোর জানার জন্য। প্রত্যেক নাগরিক দেওয়া হয়েছে ১০০০ পয়েন্ট যেটি ‘এ’ রেটিং হিসাবে নথিভুক্ত হচ্ছে। এরপর ভাল কাজ করলে কেউ তার পয়েন্ট দ্বিগুণ-তিনগুণ বাড়িয়ে নিতে পারেন। তখন তার রেটিং গিযে দাঁড়াবে ‘ডাবল এ’, বা ‘ট্রিপল এ’ তে। আর মন্দ কাজ করলে পয়েন্ট নামতে নামতে ‘ডি’ রেটিংয়ে পৌঁছবে। যেমন এক নাগরিক নিজের পাড়ায় সেবামূলক কাজ করে, গরীবদের সাহায্য করে, বরফ খুঁড়ে অসমর্থ প্রতিবেশির রাস্তা পরিস্কার করে বাড়তি ৬৫ পয়েন্ট পেয়েছেন। ফলে তার পয়েন্ট ১০৬৫ হয়েছে । আর এই বাড়তি পয়েন্টের সুবাদে তিনি এখন বিনাখরচে চিকিৎসা সেবা প্ােচ্ছন। আর মন্দ কাজ মূলত আইন ভাঙলে নাগরিকরা পয়েন্ট হারাবেন। যেমন দং জিয়াওপিং তার বাড়ির উঠানে পরিষ্কার না রাখার জন্য দুপয়েন্ট হারিয়েছে । অর্থাৎ তার নিধারিত পয়েন্ট ১০০ থেকে এখন তার পয়েন্ট ৯৮ । এর ফলে তার ব্যাংক ঋণ পাওয়া প্রায় বন্ধ হতে গেছে । কোনো কোনো চাকরির জন্য তার আবেদন করার পথও বন্ধ হয়ে গেছে । আর এর জন্য দং জিয়াওপিং ক্ষুব্ধ নন বরং লজ্জিত। স্থানীয় রেস্তোরাঁর ম্যানেজার চাং সিয়া হাও জানান, ‘পর্যবেক্ষকরা যখন তার রেস্তেরাঁ পরিদর্শন করতে আসেন তখন তারা দেখতে চান রান্না করা খাবার আর কাঁচা খাবার আলাদাভাবে রাখা হচ্ছে কিনা। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ চীনে। আমরা ভাল পয়েন্ট স্কোর করলেই ভবিষ্যতে নতুন রেস্তোরাঁ খোলা আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে । চীনের নতুন এই সামাজিক পয়েন্ট ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য সামাজিক মূল্যবোধের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা। আইন ভাঙা বা নিয়ম অগ্রহ্য করার পরিণতিকে সামাজিক স্তরে নিয়ে যাওয়া । তবে এই পয়েন্ট ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ এক নাগরিক লিও চুনচান বলেন,চীনে একদলীয় শাসনব্যবস্থায় ক্রেতা ও ভোক্তাদের আস্থা খুব কম। সবকিছুই কমিউনিস্ট পার্টির নিযন্ত্রণে। তাই 'সাধারণ নাগরিকের জন্য ‘এ’ রেটিং বাড়ানো প্রায় অসম্ভব। এটা সম্ভব একমাত্র কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্যদের জন্য। সামাজিক এই পয়েন্ট ব্যবস্থা চীনের বিভিন্ন শহরে চালু হলেও এখনও তা অনেকটা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। তবে সমালোচক বলছেন, ‘এই প্রকল্প পরিচালনা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ, তার ওপর রয়েছে দেশের প্রতিটি মানুষের আচার আচরণের সব তথ্য সরকারি ভান্ডারে নথিভুক্ত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি। এখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব হবার বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।’ এসব মোকাবেলা করে ২০২০ সালের মধ্যে দেশটির ১৩০ কোটি মানুষের জন্য এটা জাতীয় প্রকল্পে রূপ দেয়া কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত