শিরোনাম

এখন তোরা মানব হ

প্রিন্ট সংস্করণ॥সুমন আহমেদ সানি  |  ১৮:৫৬, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৮

একসময় পল্লিতে দাপিয়ে বেড়ানো মানবের আদি সংস্করণ বানর এখন পুরান ঢাকার বাসিন্দা। ছিন্নমূল মানব যেমন খাদ্যসংকটে পল্লি ছেড়ে শহরমুখো হয়, তেমনি ওরাও এখন শহরবাসী, স্থায়ী বাসিন্দা। পেটের জালায় বানরকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করলেও খাদ্যাভাব পিছু ছাড়েনি। এখানেও ওদের কাড়াকাড়ি করে খেয়ে বাঁচতে হয়।

এরাও মানুষের মতো দল-জোটবদ্ধ হয়ে বাস করে। মানুষের মতো দল-জোটে লড়াইও করে। তবে রাজনীতিকদের মতো এক দল ছেড়ে আরেক দলে পল্টি দেয় না। ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে না ওদের নামে। চুরির অভিযোগে মামলা হয় না, খয়রাতি মালে ভাগ বসানোর প্রতিযোগী হয় না, জনদরদী সেজে মায়াকান্নায় বুক ভাসিয়ে শেষে জনগণের ঘাড় মটকাতেও দেখা যায় না ওদের।

হয়তো আদিতে বানরদেরই একটি প্রজাতি ব্যাংকঋণ নিয়ে নিজের টাকা মনে করে আর ফেরত দেয় না। কোটি কোটি টাকার ঋণের দায়মুক্তি পেয়ে যায় ওদেরই নতুন প্রজাতির কর্তাকৃপায়। এসব কর্তারাই প্রাকৃতজনের খেদমত করার নামে মাসে দেড়-দুলাখ আসরাফি নিয়ে নিজ আওলাদদের খেদমতে প্রবৃত্ত হয়। ডারউইনের ‘বানর থেকে মানবের উৎপত্তি’ আর ‘দুর্বল মেরে সবল বাঁচা’র সেই

তত্ত্বের ধারকদের হাতে না হলে যে ডারউইন মানব হয়ে উঠবেন তা কী করে হয়?
কবছর আগে খাদ্যাভাবে বানর প্রজাতি যখন বিলুপ্তির পথে তখনই নজর কাড়ে প্রকৃতিবাদীদের। তাদের হম্বিতম্বিতে সরকার এ প্রজাতি রক্ষায় দায়িত্ব দেয় নগর কর্পোরেশনের ওপর। কর্পোরেশন বরাদ্দ দিয়ে মাঝে মাঝে লোকদেখানো কিছু খাদ্য সরবরাহ করে বটে। তবে বরাদ্দের বেশিটায় ভাগ বসায় বানরের শেষোক্ত প্রজাতি মানুষেরা। ইদানিং পুরো বরাদ্দই লোপাট করে বানরের নাতিপুতি, ভাই-ভাতিজারা। কারণ এই মানুষেরাও হয়তো ওইসব বানরেরই বংশবদ। ওরা পেটে সেই ক্ষুধার আগুন নিয়ে স্থানীয়দের সাথে ঝগড়া-ফ্যাসাদ করে একমুঠো মুড়ি, দু-একটি কলা বা বাসি-পচা ভাত আদায় করে বেঁচেবর্তে আছে কোনোরকমে। অন্তত এখন তোরা মানব হ...।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত