শিরোনাম

হিমালয় আছড়ে পড়ার সময় কি আসন্ন!

প্রিন্ট সংস্করণ॥জিয়া উল ইসলাম  |  ০০:২৮, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৮

হিমালয় সৌন্দর্যে মুগ্ধ পৃথিবীর সব মানুষ। হিমালয় এক বিস্ময়কর রহস্য। তাবৎ দুনিয়ার মানুষকে হাজারো বছর ধরে অভিভূত হিমালয়ে। হিমালয় হলো পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ। আজ থেকে প্রায় ৬ কোটি বছর আগে জন্ম হয় এ পর্বতমালার। মূলত ভূমিকম্পের কারণেই জন্ম হয় এই পর্বতমালার। হিমালয় পর্বতমালায় যে সমান্তরাল তিনটি রেঞ্জ বা সারি রয়েছে, তাতে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৪ হাজার ফিট উঁচু পর্বতচূড়া আছে ১০৯টি। এই ১০৯টি চূড়ার মধ্যে ৯৬টি আছে পর্বতমালার ওই সমান্তরাল তিনটি রেঞ্জে। সবার দক্ষিণে যে শিখর বা চূড়াটি রয়েছে তা প্রায় ৫০০০ ফিট উঁচু, মধ্যসারির পর্বতগুলোর সর্বোচ্চ উচ্চতা ৭০০০ থেকে ১৫০০০ ফিট। এর পরই রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতচূড়াসংবলিত হিমালয় রেঞ্জ। এই রেঞ্জেই আছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার বা ২৯ হাজার ৩৫ ফিট উঁচুতে অবস্থিত এভারেস্ট চূড়া।‘হিমালয়’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। এর অর্থ তুষারের আবাস বা বাসা। কারণ, এর সবচেয়ে উঁচু চূড়াগুলোসবসময় তুষার দিয়ে ঢাকা থাকে। আমরা জানি, পাহাড়ের চেয়েও উঁচু যেগুলো, সেগুলোকে আমরা পর্বত বলি। আর অনেকগুলো পর্বত একসঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে থাকলে, সেগুলোকে আমরা বলি পর্বতমালা। হিমালয় এমনি অনেকগুলো পর্বতের সমষ্টি; মোট ৬৬টি পর্বত, তিনটি সমান্তরাল রেঞ্জে উঠে গেছে ভারত, বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের সমতল ভূমির বিপরীতে। এই বিশাল পর্বতমালাকে যদি এক বিশালাকার দানবের আকারে ভাবি, তাহলে দেখতে পাবো যে, এর দেহের মাঝে অবস্থিত ভূটান, নেপাল আর ভারতের সিকিম প্রদেশ। এর বিস্তৃত অংশ এবং কয়েকটি চূড়া আছে পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান, চীন ও তিব্বতের প্রান্ত ঘিরে। এই হিমালয় পর্বতমালা নিয়ে ভারতের ভূমিকম্প বিশারদদের প্রকাশিত একটি রিপোর্টেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। আনন্দবাজারে বলা হয়Ñ ভারতের ভূমিকম্প বিশারদদের মতে, ৮.৫ মাত্রা ভূমিকম্প হতে চলেছে এই পর্বতমালায়। ভারতের বেঙ্গালুরুর ‘জওহরলাল নেহরু সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড সায়েন্টিফিক রিসার্চ’-এর ভূকম্পবিদ সিপি রাজেন্দ্রনের নেতৃত্বে চালানো এক গবেষণায় এমনই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এই দাবির সাথে একমত মার্কিন বিশেষজ্ঞরাও। সম্প্রতি ‘জিওলজিক্যাল জার্নাল’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হিমালয়ের তলার প্লেটে চাপ বাড়ছে। প্লেটের একটি অংশ, আরেকটি অংশের ওপর কয়েকশ বছর ধরে চাপ বাড়িয়েই চলেছে। মাটির তলার প্লেট সেই চাপ সহ্য না করার জায়গায় পৌঁছেছে। অন্তত একটি ৮.৫ রিখটার স্কেলের ভূমিকম্প এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। নেপালের মোহনখোলা এবং ভারতের চোরগলিয়া অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালানো হয়েছে। স্থানীয় স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পাশাপাশি ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো এবং গুগল আর্থের বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে এলাকার ভূপ্রকৃতির পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা। এরপরই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন ভারতীয় ভূতত্ত্ববিদদের এই দলটি।গবেষক রাজেন্দ্রনের দাবি মাটির তলার চাপ যে জায়গায় পৌঁছেছে, সেখানে একটি অংশ, অন্য অংশের থেকে প্রায় ১৫ মিটার সরে যেতে পারে। মাটির তলার এই ১৫ মিটার সরে যাওয়ার প্রভাব বহুগুণে বেড়ে পৌঁছবে উপরে। যার ভয়াবহতা বিচারের জায়গায় এই মুহূর্তে নেই বিজ্ঞানীরা।জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধে সি পি রাজেন্দ্রন দাবি করেন, এই মাত্রার ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে উত্তর ভারত। এই প্রলয় সামাল দেয়ার কোনো প্রস্তুতি এই মুহূর্তে নেই ভারতের। গত কয়েক বছর ধরেই হিমালয়ের বিভিন্ন অংশে আমরা ছোট ছোট কম্পন লক্ষ্য করছি, যা আসলে বড় মাত্রায় কেঁপে ওঠার লক্ষণ। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রজার বিলহ্যাম দীর্ঘদিন ধরে হিমালয়ে ভূকম্পনের মাত্রা নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন। তার কথায়, ভারতীয় বিজ্ঞানীরা যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, তা একদম সঠিক। রিখটার স্কেলে ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্পন তীব্রতা কী হিমালয় আছড়ে পড়ার সময় আসন্ন?

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত