শিরোনাম

শীত রূপের জৌলুস ছড়িয়েছে চারদিকে

প্রিন্ট সংস্করণ॥জিয়া উল ইসলাম  |  ০৮:৪৩, নভেম্বর ৩০, ২০১৮

শীত বাংলা সনের পঞ্চম ঋতু। পৌষ ও মাঘ মাস এই দুই মাস মিলে শীতকাল। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শীতকাল হলেও বাস্তবে নভেম্বর থেকেই হালকা শীত অনুভূত হয়। দেশে ঋতু শুরুর আগেই প্রকৃতিতে শীতের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। সারাদেশে বইছে হিমেল ঠাণ্ডা হাওয়া। অনেকেই গরম কাপড় জড়িয়ে বাইরে বের হচ্ছেন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমের হিমেল হাওয়া দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। তবে তারা জানান, ঠা-া পড়লেও এখনই হাড়কাঁপানো শীত আসছে না। মধ্য ডিসেম্বর থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। এ সময় মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শীত আসলেই শীতের নিজস্ব রূপ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। শীত নিয়ে রয়েছে অনেক গান কবিতা। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ তার কবিতায় বলেছেন ‘শীতের হাওয়ার লাগল নাচন আমলকির এই ডালে ডালে, পাতাগুলি শিরশিরিয়ে ঝরিয়ে দিল তালে তালে।’ শীতের সকালে ঘাসে ঘাসে শিশির পড়া নিয়ে কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় শীতের রূপ তুলে ধরে বলা হয়েছে “চালতার পাতা থেকে ঝরে পড়েছে শিশির বিন্দু, স্তব্ধ রাতের অন্ধকারে গাছের শাখায় শিকার ধরতে ওত পেতে আছে পেঁচা, মাকড়সার জালে জমেছে মুক্তার মতো শিশির বিন্দু” এরকম শীত নিয়ে রয়েছে অনেক গান কবিতা। ইট পাথরের রাজধানী ঢাকায় শীত একটু দেরিতেই আসে। শীতের তীব্রতা কম বোঝা যায়। এর কারণ হিসাবে ধুলোবালি দোষ দিচ্ছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞগণরা। তারা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ধুলোবালির আধিক্য খুব বেশি। ঢাকা এখন ধুলোবালির মহনগরীতে পরিণত। ধুলোমেঘের সৃষ্টি হয়ে সূর্যের আলো সহজে নামতে পারে না। এখন ভরবছর মাঠে ধানসহ কোনো না কোনো ফসল থাকায় আকাশে ধুলোর আস্তরণ জমছে। ডিসেম্বরের মধ্যভাগে ধুলোর আস্তরণ পূর্বদিক থেকে আসতে শুরু করে। ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে তা উল্টো দিকে ঘুরে যায়। শৈত্যপ্রবাহের অন্যতম কারণ এই ধুলোমেঘ। বিশ্ব পরিবেশবিজ্ঞান সমিতি ও ভারতের যৌথ গবেষণায় এমন প্রমাণ মিলেছে। কিন্ত গ্রাম বাংলায় শীত তাড়াতাড়ি আসে মূলত সেখানেই ছড়িয়ে যায় শীতের রূপ। দেখা মেলে শীতের। সকাল-সন্ধ্যা কুয়াশার ঘনঘটা। সূর্যের লুকোচুরি খেলা। শরীরে স্পর্শ করে হিমেল বাতাস। রাতভর ঝরে পড়া শিশিরে ভিজে ওঠে গাছপালা। শীতের সকালে ও সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ির উঠানে খড় লতাপাতা জ্বালিয়ে চারধারে বসে ও দাঁড়িয়ে উষ্ণতা নেয় বয়স্ক ও শিশুরা। চলে বাড়ি বাড়ি শীতের পিঠা উৎসব। আমাদের পাশের দেশ ভারতে ইতোমধ্যে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। কাশ্মীরে ইতোমধ্যে চলছে তুষারপাত। উত্তর ভারতে চলা শৈত্যপ্রবাহের জেরেই তাপমাত্রা কমে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে এর প্রভাব বাংলাদেশে এসে পড়ছে। তবে, হাড়কাঁপানো শীতের জন্য আরও একমাস অপেক্ষা করতে হবে। মধ্য ডিসেম্বরের পর থেকেই মূলত আসল শীত শুরু হবে। এরকমই বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত