শিরোনাম

দীপবীরের বিয়ে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০০:৫৪, নভেম্বর ১৭, ২০১৮

ইতালির লেক কোমোতে দক্ষিণ ভারতীয় রীতিতে বিয়ে করেছেন দীপিকা-রণবীর। বলিউডের জুটির বিয়েতে খাবারের মেন্যুতে কী ছিল, আমন্ত্রিত অতিথি কারা ছিলেন, বিয়েতে কী পোশাক পরেছিলেন , এই নিয়ে ভক্তদের আগ্রহও কম ছিলো না। এখন চলছে আলোচনা তাই এবার দীপিকা-রণবীর কে নিয়ে লিখেছেন-জিয়া উল ইসলাম

রণবীর ও দীপিকা এখন স্বামী-স্ত্রী
রাম-লীলা ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করতে গিয়ে দারুণ সখ্য গড়ে ওঠে দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিংয়ের মধ্যে। দীর্ঘ ৬ বছর প্রেম করার পর অবশেষে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন তারা। ১৪ ও ১৫ নভেম্বর ইতালির লেক কোমোয় কন্নড় ও সিদ্ধি এই দুই রীতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় রণবীর ও দীপিকার। ইতালির স্থানীয় সময় সকাল সাতটার দিকে কনকানি রীতিতে বিয়ে হয় রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোনের। এর আগের দিন, দিনের বেলা ছিল দীপবীরের মেহেদি অনুষ্ঠান। রাতে হয় আংটিবদল। কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল লেক কোমোর ভিল দ্য বালবিয়ানেল। দীপবীর চান না তাঁদের আগে তাঁদের বিয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে। তাই বিয়েতে আমন্ত্রিত মাত্র ৪০ জন অতিথিকে অনুরোধ করেছিলেন কোনো ছবি না তোলার। এমনকি নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া ছিল, সব অতিথি ও রিসোর্ট কর্মীদের হাতে নিরাপত্তার বিশেষ ব্যান্ড পরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং সবার ফোনের ক্যামেরায় বিশেষ স্টিকার লাগিয়ে দেওয়ার, যাতে ফোন দিয়েও কেউ ছবি তুলতে না পারে। ইতালিতে বিয়ের চারটি অনুষ্ঠানের প্রতিটিতেই দীপিকা ও রণবীর সিং পরছেন ভারতীয় বাঙালি ডিজাইনার সব্যসাচী মুখার্জির নকশা করা পোশাক। কন্নড় রীতিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে রণবীরের পরনে ছিল সাদা পাঞ্জাবি ও ধুতি এবং দীপিকার পরনে ছিল সোনালি রঙের শাড়ি। পরের ছবিতে রণবীর সিংকে দেখা গেছে লাল শেরওয়ানি ও মাথায় লাল পাগড়ি এবং দীপিকার পড়নে দেখা যাচ্ছে লাল লেহেঙ্গা। রণবীর ও দীপিকা তারা এখন স্বামী-স্ত্রী। এখন থেকে এক ছাদের নিছেই সংসার পাতবেন দীপিকা-রণবীর।

কপিরাইটার হিসেবে বিজ্ঞাপনে কাজ করতেন রণবীর
১৯৮৫ সালের ৬ জুলাই মুম্বই শহরে এক সিন্ধি পরিবারে রণবীর সিং-এর জন্ম তাঁর বাবার নাম জগজিৎ সিং ভবনানী এবং মায়ের নাম অঞ্জু ভবনানী। ভারত বিভাজনের সময় সিন্ধু প্রদেশের করাচি থেকে রণবীরের ঠাকুরদা সুন্দর সিং ভবনানী ও ঠাকুরমা চাঁদ বার্ক মুম্বইতে চলে আসেন। রণবীর তাঁর বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। ছেলেবেলা থেকেই রণবীর স্কুলের একাধিক নাটক ও বিতর্কে অংশও নিতেন। মুম্বইতে এইচ. আর. কলেজ অফ কমার্স অ্যান্ড ইকোনমিকসে ভর্তি হওয়ার পর রণবীর উপলব্ধি করেন চলচ্চিত্রে সুযোগ পাওয়া অতটা সহজ নয়। চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরাই এই ধরনের সুযোগ পান। তাই অভিনয়র বাসনাকে “দূরাকঙক্ষা” মনে করে তিনি সৃজনশীল লেখালিখিতে মন দেন। এরপর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর অফ আর্টস ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অভিনয়ের ক্লাস করার সিদ্ধান্ত নেন এবং থিয়েটারকে মাইনর হিসেবে গ্রহণ করেন। পড়াশোনা শেষ করে ২০০৭ সালে রণবীর ফিরে আসেন মুম্বইতে। এরপর কয়েক বছর ওঅ্যান্ডএম ও জে. ওয়াল্টার টমসনের মতো কয়েকটি এজেন্সির সঙ্গে কপিরাইটার হিসেবে বিজ্ঞাপনের কাজ করেন। এরপর কিছুদিন তিনি সহকারী পরিচালকের কাজও করেন। ২০১০ সালে যশ রাজ ফিল্মসের রোম্যান্টিক কমেডি ব্যান্ড বাজা বারাত ছবিতে একটি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এটিই ছিল তাঁর অভিনীত প্রথম ছবি। এরপর রণবীর অভিনয় করেন রোম্যান্টিক ড্রামা লুটেরা (২০১৩), সঞ্জয় লীলা ভংসালী পরিচালিত ট্র্যাজিক রোম্যান্স গোলিয়োঁ কী রাসলীলা রাম-লীলা (২০১৩) এবং অ্যাকশন-ড্রামা গুন্ডে (২০১৪) ছবিতে। গোলিয়োঁ কী রাসলীলা রাম-লীলা ছবিটি ছিল তাঁর অভিনীত বাণিজ্যিকভাবে সফল ছবিগুলির মধ্যে সর্বাগ্রগণ্য। ২০১৫ সালে তিনি অভিনয় করেন কমেডি-ড্রামা দিল ধড়কনে দো ছবিতে। এই বছরই বাজীরাও মস্তানী ছবিতে তিনি প্রথম বাজিরাওয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এই ছবিটি ছিল বলিউডের সর্বাধিক বাণিজ্যসফল ছবিগুলির অন্যতম। ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসাও অর্জন করে এবং এই ছবিতে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন।

দীপিকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ছিলেন
১৯৮৬ সালের ৫ জানুয়ারি ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্মগ্রহণ করেন দীপিকা পাড়ুকোন। বাবা সাবেক ব্যাডমিন্টন তারকা প্রকাশ পাড়ুকোন। মা উজ্জ্বলা। দীপিকার ছোটবেলা কেটেছে ভারতের বেঙ্গালুরুতে। দীপিকা একসময় জাতীয় পর্যায়ের ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ছিলেন। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি ব্যাডমিন্টন ছেড়ে মডেলিংকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ড পড়াশোনা করেছেন দীপিকা। শোবিজের মোহময় জগতে এসে পড়াশোনায় আর এগোতে পারেননি। বলিউডে পা রাখার আগে তিনি কিংফিশার ক্যালেন্ডারের বিখ্যাত মডেল ছিলেন। ২০০৬ সালে কানাড়া ছবি ‘ঐশ্বরিয়া’ দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করা দীপিকার বলিউডে প্রথম সিনেমা ‘ওম শান্তি ওম’। ছবিটি মুক্তি প্রায় ২০০৭ সালে। প্রথম সিনেমা দিয়েই দীপিকা কোটি ভক্তকে নিজের করে নিয়েছেন। পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ নারী অভিষেক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। এরপর ‘বাচনা এয় হাসিনো’, ‘লাভ আজ কাল’, ‘ককটেল’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’-এর মতো একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করেছেন। ২০১৭ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘পদ্মাবত’ সিনেমায় অভিনয় করে দুনিয়াজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের মন জয় করেন। ২০০৯, ২০১২, ২০১৩ সালে তিনি যথাক্রমে ‘লাভ আজ কাল’, ‘ককটেল’ ও ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। ২০১৩ সালে ‘গোলিও কি রাসলীলা রামলীলা’ ও ২০১৫ সালে ‘পিকু’র জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। এরপর ২০১৫ সালে ‘বাজিরা মাস্তানি’ সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পান। বলিউড সিনেমার বাইরে দীপিকা পাড়ুকোন এযাবৎ তিনটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন। ২০১৪ সালে তামিল ফিকশন ‘কোচাদাইয়ান’-এ রজনীকান্তের বিপরীতে অভিনয় করে দক্ষিণে তোলপাড় সৃষ্টি করেন দীপিকা। একই বছর তিনি ‘ফাইন্ডিং ফ্যানি’ নামে ইংরেজি ভাষার একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০১৫ সালে ‘মাই চয়েজ’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এরপর ২০১৭ সালে তাঁর হলিউডের প্রথম ছবি ‘ট্রিপল এক্স: রিটার্ন অব জেন্ডার কেইজ’ মুক্তি পায়। ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাপ্তাহিক ‘ইস্টার্ন আই’য়ের জরিপে ‘এশিয়ার সেরা আবেদনময়ী নারী’র তালিকায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান দখল করেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে, ২০১৭ সালে তিনি আয় করেছেন ১১ মিলিয়ন ডলার। দীপিকা ভারতীয় এনজিও ইন্ডিয়ান সাইকিয়াট্রিক সোসাইটির শুভেচ্ছাদূত হিসাবে কাজ করছেন।

ইনস্টাগ্রামে প্রথম স্বীকার করেন দীপিকা
ইনস্টাগ্রামে দীপিকা নিজের নতুন লুকের সেলফি তুলে বলিউড তারকা রণবীর সিং একটি পোস্ট দেন। তাতে দীপিকা পাড়ুকোন লিখেছিলেন ‘আমার’। ব্যস, তা-ই যথেষ্ট। পাঁচ বছর পর এবারই প্রথম প্রকাশ্যে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের ব্যাপারে এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর এই মন্তব্যের স্ক্রিনশট নিয়ে নেন ভক্ত আর সংবাদমাধ্যমের লোকজন। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আর এই ভাবে সবাই জেনে যায় দীপিকা ও রণবীর এর সম্পর্ক।

১২ বছর বয়সে ভার্জিনিটি খুইয়েছেন রণবীর
রণবীরের সোজা সাপটা কথা। তিনি বি-টাউনকে জানিয়েছিলেন মাত্র বারো বছর বয়সেই তিনি তাঁর ভার্জিনিটি খুইয়েছেন। রণবীর তখন আরও বলেছিলেন, “প্রেমে পড়ে বা আবেগ বা যৌন তৃষ্ণার টানে নয়। শুধুমাত্র কৌতুহল মেটাতে গিয়েই আমি আমার ভার্জিনিটি খোয়াই। মেয়েটি আমার থেকে বয়সে বড় ছিল। তাতে কি! এর পর হাসতে হাসতে রণবীর বলেন, “এর পর তো আমি আমার বন্ধুদের এ ব্যাপারে টিউশন দিতেও শুরু করি। বন্ধুদের মায়েরা আমাকে ‘পচা আপেল’ বলতেন। ওঁদের ছেলেদের নাকি আমি খারাপ করে দিচ্ছি।” তবে রণবীরের বন্ধুর মায়েরা যাই বলুন না কেন, এটা মানতেই হবে যে তিনি বরাবরই সত, স্বচ্ছ এবং খোলামেলা স্বভাবের। স্কুল বা কলেজে তিনি হয়তো বেশ বড় মাপের ‘প্লে বয়’ ছিলেন। কিন্তু রণবীরের চরিত্রের স্বচ্ছতা, ভরপুর এনার্জির জন্যই হয়তো তাঁর প্রেমে পড়েছেন দীপিকা পাডুকোন!

বিয়ের আসরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দীপিকা
ইতালিতে জমজমাটভাবেই বিয়ে পর্ব চলছিল দীপিকা ও রণবীরে ? আত্মীয়-স্বজ্জনের সামনেই সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন দীপিকা কিন্তু বিয়ের নানা অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে নাকি হঠাৎই কান্নায় ভেঙে পড়েন দীপিকা । জানা যায় বিয়ের আসরে রণবীর পা রাখতেই বেজে ওঠে ‘তুনে মারি এন্ট্রিয়া’। ততক্ষণ দীপিকা মজাই পেয়েছিলেন, কিন্তু যখনই বেজে উঠতে শুরু করে শুভা মুদগলের একটি ঠুংরি। তখন নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি নাকি দীপিকা। দুম করে কেঁদেই ফেলেন। তবে দীপিকার কান্না দেখে সঙ্গে সঙ্গে কাছে এগিয়ে আসেন রণবীর। জড়িয়ে ধরে দীপিকাকে অল্প আদরও করেন। তারপরেই সব ঠিক হয়ে যায়

বিয়েতে শুধু নিরাপত্তা খরচই এক কোটি রুপি!
বিয়ের অনুষ্ঠানে যেন কোনো সাংবাদিক, ফটোগ্রাফার কিংবা নিমন্ত্রণ না পাওয়া কেউ যাতে বিয়েতে উপস্থিত হতে না পারেন, সেজন্য ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। লেকে স্পিড বোটে টহল দিয়েছে অনেক প্রহরী। কেউ যেন বর-কনের কোনো ছবি তুলতে না পারেন সে দিকেও ছিল কড়া নজরদারী। নিরাপত্তার খাতিরে অতিথিদেরকে একটি রিস্ট ব্যান্ড দেয়া হয়েছে। যারা এসেছিলেন তাদের মোবাইল ফোনের ক্যামেরা সিল করে ঢেকে দেয়া হয়েছিল। এইসব নিরাপত্তার জন্যই নতুন এ জুটিকে এক কোটি রূপি খরচ করতে হয়েছে।

আট হাজার গোলাপে বিয়ের আসর
এনডিটিভি সূত্রে জানা যায় রণবীর দীপিকা বিয়ের আসরে প্রায় ছয় লাখ রুপি শুধু খরচ হয়েছে গোলাপের পেছনেই। এক ডলার করে আট হাজার গোলাপ দিয়ে সাজানো হয়েছে তাঁদের বিয়ের মন্ডপ। আর ইটালীর লেক কোমোর ভিলা দ্য বালবিয়ানেলের পুরো দিনের ভাড়া ২৪ লাখ ৭৫ হাজার রুপি। দীপবীর জুটি এক সপ্তাহের জন্য পুরো রিসোর্টটি ভাড়া করে নিয়েছেন। এ বাবদ তাঁদের খরচ হয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ রুপি।

দীপিকা রণবীরকে কেন বিয়ে করলো!
“আমি রণবীরের সামনে নগ্ন হতেও আপত্তি করি- জানি সে কখনই আমাকে আঘাত করবে না” টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে অনেকটা স্পষ্ট ধারণাই দেওয়া হয়েছে দীপিকার পক্ষ থেকে। রণবীর সর্ম্পকে প্রশ্ন করা হলে দীপিকা বলেন, ও (রণবীর) আমার সবচেয়ে ভালো একজন বন্ধু। আমি আবেগপ্রবণ, সংবেদনশীল ও খুব সহজেই যে কেউ আমাকে আঘাত করতে পারে আমিও পারি। দীপিকার কথায়, আমি রণবীরের সামনে নগ্ন হতেও আপত্তি করি না... এবং আমি জানি সে কখনই আমাকে আঘাত করবে না। কোনও সুবিধাও নিতে চাইবে না আমার কাছ থেকে। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া ও বিশ্বাসই এর কারণ। বলিউডের এই তারকা বলেন, আমি রণবীরের কাছে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি এজন্যই ওকে ভালোবাসি ও সম্মান করি।

দীপিকার ৬ নম্বর প্রেমিক ছিলেন রণবীর
বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন এই ‘মাস্তানি গার্ল’ শুধু হাজারো তরুণেরই রাতের ঘুম কেড়ে নেননি, ক্রিকেট থেকে করপোরেট জগতের তারকাদেরও হৃদয়ও ভেঙে চুরমার করেছেন। ক্যারিয়ারে কম মানুষের প্রেমে পড়েননি তিনি। দীপিকার তাঁর বলিউড ক্যারিয়ারে সবার আগে নীহার পান্ডের প্রেমে পড়েছিলেন। বেঙ্গালুরুতে এক অভিনয়ে স্কুলে তাঁদের আলাপ। আর সেখান থেকেই প্রেম। এমনকি জানা গেছে, মুম্বাইয়ে দুজন এক ছাদের নিচেই থাকতেন। তিন বছর পর দীপিকা ও নীহার আলাদা হয়ে যান।নীহারের পর বলিউডের ‘পদ্মাবতী’-র জীবনে আসেন মডেল তথা অভিনেতা উপেন প্যাটেল। উপেনের সঙ্গে এই বলিউড সুন্দরীর ভালোবাসার সম্পর্ক খুব বেশি দিন টেকেনি। এরপর দীপিকার জীবনে আবির্ভাব হন ভারতীয় দলের ক্রিকেটার যুবরাজ সিং। যুবরাজের প্রেমে পাগল ছিলেন হাজার হাজার তরুণী। এদিকে এই সুদর্শন ক্রিকেটার আবার দীপিকার রূপে মুগ্ধ ছিলেন। কিন্তু যুবরাজ-দীপিকার প্রেমের গাড়িও বেশি দূর এগোয়নি। কিছুদিন পর তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এই প্রেমিক যুগলকে একসঙ্গে একাধিকবার অনেক জায়গায় দেখা গেছে। তবে যুবরাজের আগে দীপিকার জীবনে আর এক ক্রিকেটার এসেছিলেন। তিনি হলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। ধোনি ও দীপিকা একাধিকবার ডেটে গেছেন। কিন্তু ধোনি থাকাকালে যুবরাজের আগমন হয় তাঁর জীবনে। ধোনি সবকিছু বুঝতে পেরে ধীরে ধীরে যুবরাজ-দীপিকার প্রেমের রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ান। তাই খুব অল্প সময়ের মধ্যে ধোনি ও দীপিকার প্রেমের ইতি ঘটে। এরপর দীপিকার জীবনে আসেন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী বিজয় মাল্যর পুত্র সিদ্ধার্থ মাল্য। দুজনে একসঙ্গে অনেকটা পথ চলেন। দীপিকা সিদ্ধার্থের প্রেমে রীতিমতো পাগল ছিলেন। তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় এবং পার্টিতে দেখা যেত। বিজয় মাল্যর কিং ফিশারের সব পার্টি এবং ফ্যাশন শোতে দীপিকা সব সময় উপস্থিত থাকতেন। এমনকি শোনা গেছে, সিদ্ধার্থ তাঁর প্রেমিকাকে একটি ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে এই প্রেমেরও মৃত্যু ঘটে। এবার এক বলিউড নায়কের আবির্ভাব হয় দীপিকার জীবনে। ‘বাঁচনা এ হাসিনো’ ছবির শুটিং চলাকালে এই বলিউড অভিনেত্রী ও রণবীর কাপুর একে অপরের কাছে আসেন। রণবীরের প্রেমের হাতছানি থেকে দীপিকা বাঁচতে পারেননি। বিয়েতে ছবি নিলাম ও বীমার উপস্থিতি জানা গেছে, রণবীর আর দীপিকা তাঁদের বিয়ের ছবি নাকি নিলাম করবেন। নিলামের পর যে পরিমাণ অর্থ তাঁরা পাবেন, তা একটা দাতব্য সংস্থাকে দান করবেন। এই সংস্থার নাম ‘দ্য লিভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশন’। দীপিকা নিজে এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। ‘দ্য লিভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশন’ সংস্থার কাজ হলো মানসিক অবসাদ থেকে মানুষকে বাইরে বের করে আনা। উলেখ্য রণবীর আর দীপিকা তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান ও বীমা করিয়েছিলেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত