শিরোনাম

রেডিও পাগল জাহাঙ্গীর আলম

আখতারুজ্জামান তুহিন, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) থেকে  |  ১৩:১৭, অক্টোবর ২৪, ২০১৮

এক সময় রেডিও (বেতার যন্ত্র) এর ব্যবহার ছিল প্রচুর। সে সময় শুধু গ্রামাঞ্চলে নয়, শহরের লোকজনও রেডিও’র খবর, ছায়াছবির গান ও নাটকসহ নানা ধরনের বিনোদনমুলক অনুষ্ঠান শুনতো। কালের গর্ভে বিজ্ঞানের নানা মুখী আবিষ্কারের ফলে রেডিও’র বিকল্প উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি আসার ফলে এর ব্যবহার অতি নগণ্য হয়ে পড়েছে। মোট কথা সচরাচর রেডিও আর চোখেই পড়ে না।

কিন্তু বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর ইউনিয়ন এর হেরুঞ্জ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম নুরুন্নবীর রেডিও শোনার নেশা দীর্ঘ দিনের। পেশায় তিনি একজন প্রাণী পল্লী চিকিৎসক। প্রায় ২২ বছর ধরে জাহাঙ্গীর আলম প্রাণী পল্লী চিকিৎসক পেশায় নিয়োজিত। সেই সঙ্গে তিনি রেডিও’র বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান শুনে থাকেন। রেডিও’র বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুনলেও তাঁর বেশি প্রিয় হারানো দিনের গান (পুরাতন বাংলা ছবির গান)।

এক সময় ছিলো যখন গ্রাম-গঞ্জে,রাস্তা-ঘাটসহ শহরেও চলাফেরা করার সময় কানে ভেঁসে আসতো রেডিও’র রকমারি বিনোদনমুলক অনুষ্ঠান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানমালা হলো-দুর্বার, ছায়াছবির গানের অনুষ্ঠান চিত্রগীতি,অনুরোধের আসর গানের ডালি,পল্লিগীতির অনুষ্ঠান মেঠোসুর সহ নানা জনকল্যান মুলক অনুষ্ঠান। অথচ আজ বেতার কেন্দ্রের উৎকর্ষ ও উন্নতি সাধিত হলেও রেডিও’র ব্যবহার আর আগের মতো দেখা যায় না।

উপজেলার চামরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নজাবত আলী জানান, সময়ের ব্যবধানে রেডিও আজ বিলুপ্তির পথে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তাঁদের গ্রামের প্রায় বাড়িতেই রেডিও ছিল। তখনকার দিনে সকলেই মনোযোগ দিয়ে রেডিও’র অনুষ্ঠানও শুনতো। বর্তমানে তাঁদের গ্রামে আর একটিও রেডিও খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

একান্ত আলাপচারিতায় জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রাইমারী স্কুলের ছাত্র জীবন থেকেই রেডিও’র অনুষ্ঠান শোনার অভ্যাস রয়েছে, তাই তা ছাড়তে পারিনি। বর্তমানে তাঁর বাড়িতে ন্যাশনাল প্যানাসনিক রেডিও (টু ব্যান্ড) ও তিনটি রেডিও সংযুক্ত টেপরেকর্ডার সচল রয়েছে। সাংসারিক ও পেশাগত কাজের ফাঁকে তিনি বিশেষত রেডিওতে হারানো দিনের গান বেশি শুনে থাকেন। তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন রেডিও সেন্টারের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত এর যৌথ মৈত্রী কেন্দ্রের অনুষ্ঠানগুলো তাঁর খুব ভালো লাগে।

বর্তমান এ যুগে টিভির অনুষ্ঠানের বদলে রেডিওর অনুষ্ঠান কেন পছন্দনীয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, টেলিভিশনের কিছু কিছু গান ও অভিনয়ের অনুষ্ঠানের পোশাক বেমানান লাগে এবং বিজ্ঞাপনের পরিমান বেশি। তাছাড়া অবসর সময়ে রেডিও সঙ্গে করে নিয়ে ক্ষেতখামারে কাজের পাশাপাশি বিনোদন উপভোগ করা যায়। তাঁর প্রিয় শিল্পী বশীর আহম্মেদ,সৈয়দ আব্দুল হাদী,আব্দুল জোব্বার ও শেফালী ঘোষসহ আরও অনেকে। গ্রামাঞ্চলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর প্রিয় শিল্পীদের গানগুলো তিনি গেয়ে থাকেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত