শিরোনাম

আলফ্রেড নোবেল এর ‘নোবেল’

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১৪:২৭, অক্টোবর ০৬, ২০১৮

প্রায় আট কোটি টাকা যে পুরস্কারে যার নামে দেওয়া হচ্ছে সেই আলফ্রেড নোবেল এর বাবা ও তিনি একসময় দেউলিয়া হয়ে যায়। নোবেল কখনো বিয়ে করেননি ছিলেন সারাজীবন অবিবাহিত। তিনি বিস্ফোরক ডিনামাইট উদ্ভাবন করে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হন। এক বিস্ফোরণে নোবেলের ভাই লুডভিগ মারা যায় এবং ১৮৮৮ সালে তিনি মৃতদের তালিকা দেখে বিস্মত হন এবং ভাবতে শুরু করেন। পরে তিনি একটি উইলে তার সম্পদ কিভাবে ব্যবহৃত হবে তা উল্লেখ করেন। এরপর ১৯০১ সালে প্রবর্তিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল পুরস্কার। এবার সেই নোবেল নিয়ে লিখেছেন - জিয়া উল ইসলাম

আলফ্রেড নোবেল কে ?
১৮৩৩ সালে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আলফ্রেদ নোবেল জন্মগ্রহণ করেন। সে বছরই তার বাবা ইমানুয়েল নোবেল দেউলিয়া হন। ১৮৩৭ সালে ইমানুয়েল নোবেল স্টকহোমে তার পরিবার রেখে প্রথমে ফিনল্যান্ড এবং পরে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে যান ভাগ্যের সন্ধানে। সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৪২ সালে পরিবারের সবাইকে সেন্ট পিটার্সবার্গে নিয়ে আসেন ইমানুয়েল। ১৮৭২ সালে আলফ্রেড নোবেলের বাবা ইমানুয়েল মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৮৯ সালে নোবেলের মা আন্দ্রিয়েতি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। ১৮৫০-১৮৫২ সাল পর্যন্ত আলফ্রেদ নোবেল ফ্রান্সের পারি গিয়ে টি. জুলস পিলৌজ গবেষণাগারে কাজ করেন কিছুদিন। জার্মানি, ইতালি এবং যুক্তরাষ্ট্রেও ভ্রমণ করেন। ১৮৫৩-১৮৫৬ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সূচনা। যুদ্ধের প্রথম দিকে নোবেল কোম্পানি অনেক সমৃদ্ধি অর্জন করে, কিন্তু যুদ্ধ শেষে যখন রুশ সামরিক বাহিনী অর্ডার উঠিয়ে নেয় তখন দেউলিয়া হয়ে যায়। আলফ্রেড নোবেল মরিয়া হয়ে নতুন পণ্য উৎপাদনের চেষ্টা করতে থাকেন। তার রসায়ন শিক্ষক নিকোলাই এন. জিনিন তাকে নাইট্রোগ্লিসারিন এর কথা মনে করিয়ে দেন। ১৮৬২ সালে নোবেল নাইট্রোগ্লিসারিন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। ১৮৬৩ সালে নোবেল তার প্রথম নাইট্রোগ্লিসারিন-জাত পণ্যের পেটেন্ট করেন। একে ইংরেজিতে বলা হচ্ছিল “ব্লস্টিং অয়েল”, এটি এক ধরনের বিস্ফোরক। এরপর “ব্লাস্টিং ক্যাপ” নামক একটি ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেন যা নাইট্রোগ্লিসারিন বিস্ফোরণের ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। এ সময়ই তিনি স্টকহোমে চলে আসেন এবং এখানেই গবেষণা চালিয়ে যান। ১৮৬৪ সালে স্টকহোমের হেলেনেবোর্গে নাইট্রোগ্লিসারিন প্রস্তুতির সময় বিস্ফোরণে আলফ্রেড নোবেলের ভাই এমিল মারা যায়। নোবেল পরীক্ষা চালিয়ে যান এবং স্টকহোমে “ নাইট্রোগ্লিসারিন এবি” নামক একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। ১৮৬৫ সালে নোবেল তার ব্লাস্টিং ক্যাপ নকশাটির আরও উন্নতি সাধন করেন। সুইডের থেকে জার্মানি চলে এসে হামবুর্গ শহরের নিকটে ক্রুমেল নামক স্থানে “আলফ্রেড নোবেল অ্যান্ড কোম্পানি” কারখানাটি নির্মাণ করেন। ১৮৬৬ সালে নোবেল যুক্তরাষ্ট্রে “ইউনাইটডে স্টেটস ব্লাস্টিং অয়েল কোম্পানি” প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে ক্রুমেলের কারখানাটি ধ্বংস হয়ে যায়। এলবে নদীতে একটি ভেলা ভাসিয়ে তাতে নোবেল নাইট্রোগ্লিসারিন বিস্ফোরককে আরও নিরাপদ করার চেষ্টা চালিয়ে যান। এ সময়ই তিনি বুঝতে পারেন, নাইট্রোগ্লিসারিনের সাথে কাইসেলগুর (সিলিকনের মত অধঃক্ষেপ, ডায়াটোমেশাস মাটি হিসেবেও পরিচিত) মেশালে তা স্থিত হয়। এই নতুন মিশ্র বিস্ফোরকের নাম দেন ডায়নামাইট। ১৮৬৭ সালে ডায়নামাইটের জন্য পেটেন্ট অর্জন করেন। ১৮৭১ সালে নোবেল স্কটল্যান্ডের আর্ডিয়ারে “ব্রিটিশ ডায়নামাইট কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৭৭ সালে এই কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল “নোবেল’স এক্সপ্লোসিভ কোম্পানি”। ১৮৭৩ সালে ৪০ বছর বয়সে নোবেল প্রভূত সম্পত্তির অধিকারী হন। পারি (প্যারিস) গিয়ে মালাকফ এভিনিউ এ থিতু হন। একই বছর আর্ডিয়ারের কারখানায় নাইট্রোগ্লিসারিন ও ডায়নামাইট উৎপাদন শুরু হয়। ১৮৭৫ সালে নোবেল “ব্লাস্টিং গিলাটিন” উদ্ভাবন করে পরের বছর পেটেন্ট করেন। ফ্রান্সের পারিতে “সোসাইটি জেনারেলে পৌর লা ফেব্রিকেশন দে লা ডাইনামাইট” প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৭৬ সালে জার্মানির হামবুর্গে আলফ্রেড নোবেল অ্যান্ড কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ডাইনামাইটাকটাইঙ্গেসেলশাফট (ডিএজি)। নোবেল একজন ব্যক্তিগত সচিব ও গৃহপরিচারিকা খুঁজতে শুরু করেন। এ সময় তার সাথে বার্থা কিনসে ভন চিনিক আন্ড টেত্তাউ-এর পরিচয় হয় এবং তাকেই ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে পছন্দ করেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই তিনি নোবেলের চাকরি ছেড়ে দিয়ে শান্তি আন্দোলন শুরু করেন। এই নারীকেই আমরা বের্থা ফন সুটনার নামে চিনি যিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ১৮৮০ সালে নোবেলের ইতালীয় এবং সুইজারল্যান্ডীয় কোম্পানি একত্রিত করে “ডায়নামাইট নোবেল” গঠন করা হয়। ১৮৮১ সালে পারি-র বাইরে সেভরানে নোবেল জমি ও একটি গবেষণাগার ক্রয় করেন। ১৮৮৫ সালে ডিএজি এবং জার্মানির আরও কিছু ডায়নামাইট কোম্পানি একত্রিত করে “জার্মান ইউনিয়ন” প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৮৮৬ সালে উঅএ এবং নোবেল’স এক্সপ্লোসিভ কোম্পানি একত্রিত করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে “নোবেল-ডায়নামাইট ট্রাস্ট কোম্পানি” প্রতিষ্ঠিত হয। ১৮৮৭ - বিস্ফোরক পাউডার “ব্যালিসটিট” উদ্ভাবনের জন্য ফ্রান্সে পেটেন্ট লাভ করেন নোবেল। ১৮৯১ সালে ব্যালিস্টাইট নিয়ে ফরাসি সরকারের সাথে বিতর্কের পর আলফ্রেড নোবেল পারি ত্যাগ করে ইতালির সান রেমো-তে বসবাস শুরু করেন। ১৮৯৩ সালে নোবেল রগেণার সোলম্যান-কে নিয়োগ করেন যাকে পরবর্তীতে তিনি তার উইল এবং টেস্টামেন্ট এর প্রয়োগকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। ১৮৯৪ সালে আলফ্রেড নোবেল সুইডেনের কার্লস্কোগাতে একটি ছোট মেশিন-ওয়ার্কস এবং একটি বাড়ি ক্রয় করেন। ১৮৯৫ -পারি-র সুয়েডীয়-নরওয়েজীয় ক্লাবে নোবেলের তৃতীয় এবং শেষ উইল স্বাক্ষরিত হয়। ১৮৯৬ সালের ১০ ডিসেম্বর নোবেল তার সান রেমোর বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।

যেভাবে আসলো নোবেল পুরস্কার
আলফ্রেড নোবেল ২১ অক্টোবর ১৮৩৩ সালে সুইডেনের স্টকহোমে একটি প্রকৌশল পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি একাধারে রসায়নবিদ, প্রকৌশলী ও একজন উদ্ভাবক ছিলেন। ১৮৯৪ সালে তিনি একটি বফর লোহা ও ইস্পাত কারখানা ক্রয় করেন, যা পরবর্তীতে একটি অন্যতম অস্ত্র তৈরির কারখানায পরিনত করেন। তিনি ব্যালিস্টিক উদ্ভাবন করেন, যা সারা বিশ্বব্যাপী ধোঁয়াবিহীন সামরিক বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাঁর ৩৫৫ টি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি জীবদ্দশায় প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হন যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ডিনামাইট। ১৮৮৮ সালে তিনি মৃতদের তালিকা দেখে বিস্মত হন, যা একটি ফরাসি পত্রিকায় এ মার্চেন্ট অব ডেথ হু ডেড প্রকাশিত হয়। যেহেতু নোবেলের ভাই লুডভিগ মারা যায়, এই নিবন্ধটি তাকে ভাবিয়ে তোলে এবং খুব সহজেই বুঝতে পারেন যে ইতিহাসে তিনি কিভাবে স্মরণীয় হতে চান। যা তাকে তার উইলটি পরিবর্তন করতে অনুপ্রাণিত করে। ১০ ডিসেম্বর ১৮৯৬ সালে আলফ্রেড নোবেল তার নিজ গ্রাম স্যান রিমো, ইতালিতে মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। নোবেল তার জীবদ্দশায অনেক গুলো উইল লিখে গিযেছিলেন। সর্বশেষটা লেখা হযেছিল তার মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে ২৭ নভেম্বর ১৮৯৫ সালে প্যারিসে অবস্থিত সুইডিশ-নরওয়ে ক্লাবে। বিস্ময় ছড়িযে দিতে, নোবেল তার সর্বশেষ উইলে উল্লেখ করেন যে তার সকল সম্পদ পুরস্কার আকারে দেয়া হবে যারা পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্যে বৃহত্তর মানবতার স্বার্থে কাজ করবেন। নোবেল তার মোট সম্পদের (৩১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা) ৯৪ শতাংশ এই পাঁচটি পুরস্কারের জন্য উইল করেন। ২৬ এপ্রিল ১৮৯৭ এর আগ পর্যন্ত সন্দেহ প্রবনতার জন্য নরওয়ে থেকে এই উইল অনুমোদন করা হয় নি। নোবেলের উইলের সমন্বয়কারী রগনার সোলম্যান ও রুডলফ লিলজেকুইস্ট নোবেল ফাউন্ডেশন তৈরি করেন। যার কাজ তার সম্পদের রক্ষনাবেক্ষন ও নোবেল পুরস্কার অনুষ্ঠানের অয়োজন করা।১৮৯৭ সালে নোবেলের উইল অনুমোদন হবার সাথে সাথেই নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্য নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি নামক একটি সংস্থা তৈরি করা হয়। অতি শীঘ্রই নোবেল পুরস্কার দেবার অন্যান্য সংস্থাগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তাদের মধ্যে ৭ জুন ক্যারোলিংস্কা ইনিস্টিটিউট, ৯ জুন সুইডিশ একাডেমী এবং ১১ জুন রাজকীয় সুয়েডীয় বিজ্ঞান একাডেমি। নোবেল ফাউন্ডেশন কিভাবে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় তার একটি নীতিমালায পৌছায় এবং ১৯০০ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন নতুনভাবে একটি বিধি তৈরি করে যা রাজা অস্কার কর্তৃক জারি করা হয়। ১৯০৫ সালে সুইডেন ও নরওয়ের মধ্যে বন্ধন বিলুপ্ত হয়। তার পর থেকে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি শুধু মাত্র শান্তিতে নোবেল পুরস্কার এবং সুইডেনের প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যান্য পুরস্কার গুলো প্রদানের দায়িত্ব পায়।১৯০১ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। ঐ বৎসর থেকে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অনন্য সাধারণ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণমূলক তুলনারহিত কর্মকান্ডের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। মোট ছয়টি বিষয়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিষয় গুলো হল: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা শাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য এবং শান্তি। নোবেল পুরস্কারকে এ সকল ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তদেরকে ইংরেজিতে নোবেল লরিয়েট বলা হয়। শুধুমাত্র শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় অসলো, নরওয়ে থেকে। বাকি ক্ষেত্রে স্টকহোম, সুইডেনে এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অর্থনীতি ছাড়া অন্য বিষয়গুলোতে ১৯০১ সাল থেকে পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, কিন্তু অর্থনীতিতে পুরস্কার প্রদান শুরু হয়েছে ১৯৬৯ সালে। আলফ্রেড নোবেল তার উইলে অর্থনীতির কথা উলেখ করেননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ১৯৪০ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত পুরস্কার প্রদান বন্ধ ছিল। প্রত্যেক বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেক একটি স্বর্ণপদক, একটি সনদ ও নোবেল ফাউন্ডেশন কর্তৃক কিছু পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন। ২০১২ খ্রিস্টাব্দে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৮০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা। নোবেল পুরস্কার মৃত কাউকে দেয়া হয় না। লরিয়েটকে অবশ্যই পুরস্কার প্রদানের সময় জীবিত থাকতে হবে। কিন্তু এর কিছু ব্যতিক্রম আছে। খুব বেশি অবদান এর জন্য মরনত্তোর পুরস্কার দেয়া হয়।

যে উইলে নোবেল হয়
সুইডেনের রসায়নবিদ ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুসারে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কার করেছিলেন, যার মাধ্যমে তার প্রচুর আয় হয়, আর এই আয়ের অর্থ দ্বারাই তিনি পুরস্কার প্রদানের কথা বলে যান। জীবদ্দশায় নোবেল অনেকগুলো উইল লিখেছিলেন, এর মধ্যে সর্বশেষটি লিখেন তার মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে নভেম্বর ২৭, ১৮৯৫ তারিখে। নোবেলের উদ্ভাবনটি ছিল অনেকাংশেই একটি বিস্ফোরক যা প্রভূত ক্ষতির কারণ হতে পারত। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে এই ডিনামাইটের ব্যবহার তাঁকে শঙ্কিত করে তোলে। নোবেল পাঁচটি ক্ষেত্রে পুরস্কার দেয়ার জন্য তার মোট সম্পত্তির শতকরা ৯৪ ভাগ দান করে যান। এর মোট পরিমাণ ৩১ মিলিয়ন এসইকে (৩.৪ মিলিয়ন ইউরো, ৪.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। যদিও আলফ্রেড নোবেল এই পুরস্কারের প্রচলন করেছেন, তথাপি তিনি এর কার্যক্রম দেখে যেতে পারেননি। কারণ তার পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ ছিল না। এছায়াও অন্যান্য বেশ কিছু কারণে নোবেল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠায় কিছুটা দেরি হয়। প্রথম নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় ১৯০১ সালের ডিসেম্বর ১০ তারিখে।

নোবেলজয়ীরা ঠিক কত টাকা পুরস্কার পান?
১৯০১ সালে পুরস্কারটি চালু হওয়া নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের বলা হয় ‘নোবেল লরিয়েট’। ১৯৮০ সালের আগ পর্যন্ত নোবেল বিজয়ীরা যে পদক পেতেন, সেটা ছিল ২৩ ক্যারেট স্বর্ণের। এরপর থেকে ১৮ ক্যারেট ‘সবুজ স্বর্ণে’র ধাতবের ওপর ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া পদক দেওয়া হচ্ছে নোবেল বিজয়ীদের। এ ছাড়া একটি সনদ এবং মোটা অঙ্কের অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয় সভ্যতার অগ্রযাত্রায় নানাভাবে অবদান রাখা মহানায়কদের। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, নোবেলজয়ীরা ঠিক কত টাকা পুরস্কার পান? ২০১৬ সালে নোবেল বিজয়ীদের নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা দাঁড়ায় প্রায় আট কোটি টাকা। নোবেল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে নগদ অর্থের পরিমাণ হবে ১১ লাখ ডলার, মানে ৯ কোটি টাকার কিছু বেশি। এ বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সুইডেনের স্টকহোমে নগদ অর্থপুরস্কার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় নোবেল ফাউন্ডেশন।

প্রথম পুরস্কার যারা পেয়েছে
যখন নোবেল ফাউন্ডেশন ও তার নীতিমালাগুলো চুড়ান্ত হল তখন থেকেই নোবেল কমিটি প্রথম পুরস্কারের জন্য মনোনযন সংগ্রহ করা শুরু করে। পরবর্তীতে তারা প্রাথমিক নির্বাচিত প্রার্থীদের একটি তালিকাও পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে দেয়। প্রকৃতপক্ষে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি জরজেন লভল্যান্ড, জর্ন স্টার্ন জর্নসন এবং জোহানিজ স্টিনের মত বিখ্যাত ব্যক্তিদের নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রদানের জন্য নিয়োগ দেয়। সেই কমিটি বিখ্যাত দুই জনকে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করে যারা ১৯ শতকের শেষের দিকে শান্তি আন্দোলনকে বেগবান করেছিল. তারা ছিলেন আন্ত-সংসদীয় ইউনিয়নের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফেড্রিক পাসি ও রেড ক্রসের প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ডুনান্ট।

নোবেল বিজয়ী আলোচিত নারীরা
*মালালা ইউসুফজাই : পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই নারী শিক্ষায় সচেতনতার কথা বলার জন্য জঙ্গী হামলার শিকার হন। এ জন্য তাকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
*ওয়াঙ্গেরী মাথেই : কেনিয়ার একজন পরিবেশবাদী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ২০০৪ সালে প্রথম আফ্রিকান মহিলা হিসেবে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। মাথেই একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি রাষ্ট্রপতি ওয়াই কিবাকি সরকারের সহকারী পরিবেশমন্ত্রী ছিলেন।
*শিরিন এবাদি : তিনি ২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদান রাখার জন্য এই পুরস্কার লাভ করেন।
*অং সান সুচি : সামরিকতন্ত্রের বিপক্ষে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জন্য ১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য ভারত সরকার তাকে ‘জওহরলাল নেহেরু’ পুরস্কার প্রদান করে।
*মাদার তেরেসা : নোবেল বিজয়ী এই নারী মানব সেবায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য বিশ্বের সব মানুষের কাছে মায়ের প্রতিমূর্তিতে পরিণত হয়েছেন।

যেসব মুসলিম নোবেল পেয়েছেন
*মুহাম্মদ আনওয়ার সাদাত (১৯৭৮ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
মিশরের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি আনওয়ার সাদাত ছিলেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রথম মুসলমান। ১৯৭৩ সালে মিশরের সিনাই উপদ্বীপ উদ্ধারের জন্য ইয়ম কিপুর যুদ্ধে তিনি মিশরের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল তা দখল করে নিয়েছিল। এরপর তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং মিশর-ইসরায়েল শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির কারণে আনোয়ার সাদাত ও ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিম ১৯৭৮ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।

*মুহাম্মদ আবদুস সালাম (১৯৭৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
প্রফেসর মুহাম্মদ আবদুস সালাম। তিনি পাকিস্তানী তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী। ১৯৭৯ সালে স্টিভেন ওয়াইনবার্গ ও শেল্ডন লি গ্ল্যাশোর সঙ্গে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। দুর্বল তড়িৎ তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্য তারা এ পুরস্কার পেয়েছিলেন। এ তত্ত্বের মাধ্যমে তড়িৎ চৌম্বক বল এবং দুর্বল নিউক্লীয় বলকে একীভূত করা সম্ভব হয়েছিলো।

*নাজিব মাহফুজ (১৯৮৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
নাজিব মাহফুজ নোবেল বিজয়ী মিশরীয় সাহিত্যিক। ১৭ বছর বয়স থেকে নাজিব মাহফুজ লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৩৯ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘আবাসুল আকদার’ প্রকাশিত হয়। জীবনে মোট ৩০টি উপন্যাস লিখেলও ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৭ সালের মধ্যে প্রকাশিত ‘কায়রো ট্রিলজি’ তাকে আরবি সাহিত্যের অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরে। এতে তিনি ইংরেজ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার সময়কালীন মিশরের ঐতিহ্যবাহী শহুরে জীবনধারা নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলেন। উচ্চ মার্গীয় এ উপন্যাসের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৮৮ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। উপন্যাসের পাশাপাশি ১০০ টিরও বেশি ছোটগল্প রচনা করেছেন। অধিকাংশগুলো ইংরেজিতে অনুদিত হয়েছে।

*ইয়াসির আরাফাত (১৯৯৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
তার পুরো নাম মুহাম্মদ আবদেল রহমান আব্দেল রউফ আরাফাত আল-কুদওয়া আল-হুসাইনি। প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ নাম ইয়াসির আরাফাত। তিনি ছিলেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী একজন নেতা।১৯৯৪ সালে ঐতিহাসিক অসলো চুক্তি স্বাক্ষরের পর আইজাক রবিন, শিমন পেরেজ ও ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাত যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার লাভকারী প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলমান তিনি।

*আহমদ জুয়েল হাসান (১৯৯৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
ফেমটোসেকেন্ড স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে মাইক্রোস্কোপি আবিষ্কারের জন্য রাসায়নিক ক্ষেত্রে গবেষণা করে ১৯৯৯ সালে তিনি রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি প্রথম মুসলিম রসায়নবিদ ও দ্বিতীয় মুসলিম বিজ্ঞানি হিসেবে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন।

*শিরিন এবাদি (২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
তিনি প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে শান্তিতে নোবেল লাভ করেন। এছাড়াও তিনি প্রথম ও একমাত্র ইরানী যাকে শান্তির জন্য এ সম্মান দেওয়া হয়। শিরিন এবাদি ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদান রাখার জন্য তিনি এ পুরস্কার লাভ করেন।

*মুহাম্মদ আল-বারাদেয়ি (২০০৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
মুহাম্মদ আল-বারাদেয়ি মিশরের উপরাষ্ট্রপতি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর ডিরেক্টর জেনারেল ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় মিশরীয়, যাকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারে প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে তিনি ও আইএইএ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

*ড. মুহাম্মদ ইউনুস (২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
ড. মুহাম্মদ ইউনুস বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একমাত্র ও প্রথম বাঙালি মুসলিম, যাকে শান্তির জন্য এ সম্মান দেওয়া হয়। আরেকটু ফারাক করে বললে, তিনি একমাত্র ও প্রথম বাংলাদেশি এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী তৃতীয় বাঙালি।

*ওরহান পামুকওরহান পামুক (২০০৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
ওরহান পামুক একজন তুর্কি ঔপন্যাসিক, চিত্রনাট্য সম্পাদক ও শিক্ষক। ২০০৬ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হন। তুরস্কের অন্যতম প্রধান লেখক ওরহানের বই বিশ্বের ৬০টিরও অধিক ভাষায় ও ১০০টিরও বেশি দেশে এবং ১৪ মিলিয়নের বেশি বিক্রি হয়েছে। ফলশ্রুতিতে তিনি তুরস্কের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কথাসাহিত্যিক হিসেবে খ্যাতি ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার সর্বাধিক প্রসিদ্ধ উপন্যাস হচ্ছে ‘নিউ লাইফ’।

*তাওয়াক্কুল কারমানতাওয়াক্কুল কারমান (২০১১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
তাওয়াক্কুল কারমান একজন ইয়েমেনি সাংবাদিক ও ইয়েমেনের আল-ইসলাহ রাজনৈতিক দলের প্রবীণ সদস্য। একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবেও কারমান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি ‘উইমেন জার্নালিস্ট উইথআউট চেইন্স’ নামক নারী সাংবাদিকদের একটি দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০০৫ সালে তিনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি ২০১১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন। তিনিই প্রথম ইয়েমেনীয় ও প্রথম আরবি নারী হিসেবে এ পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তিনি দ্বিতীয় মুসলিম নারী ও দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে নোবেল শান্তি পদক লাভ করেন।

*মালালা ইউসুফ জাইমালালা ইউসুফ জাই (২০১৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
মালালা একজন পাকিস্তানি শিক্ষা আন্দোলনকর্মী। তিনি সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকা অঞ্চলে শিক্ষা এবং নারী অধিকারের ওপর আন্দোলনের জন্য তিনি পরিচিত।

*আজিজ সানজারআজিজ সানজার (২০১৫ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
আজিজ সানজার তুরষ্ক বংশোদ্ভুত একজন আমেরিকান প্রাণরসায়নবিদ এবং কোষ বৈজ্ঞানিক। ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ পুনর্রুৎপাদন সংক্রান্ত গবেষনার জন্য ২০১৫ সালে থমাস লিন্ডাল ও পল মড্রিকের সঙ্গে যৌথভাবে রসায়নে তিনি নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। তিনি প্রথম তুর্কী রসায়নবিদ এবং দ্বিতীয় তুর্কি ও তৃতীয় মুসলিম বিজ্ঞানি হিসেবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

*নাদিয়া মুরাদ (২০১৮ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)
যৌন সহিংসতা ও হয়রানিকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধে লড়াই করে চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কঙ্গোর ধাত্রীবিদ্যাবিশারদ ডেনিস মুকওয়েজি এবং জঙ্গিদের হাতে ধর্ষণের শিকার ইয়াজিদি নারী নাদিয়া।শুক্রবার সুইডেনের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে এই দুই কর্মীর নাম ঘোষণা করেছে। যুদ্ধের সময় অস্ত্র হিসেবে যৌন সহিংসতার ব্যবহারের অবসানের লক্ষ্যে কাজ করে আসছেন এ দুই নোবেলজয়ী। পাকিস্তানের নারী শিক্ষা অধিকার কর্মী মালালা ইউসুফ জাইয়ের পর সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মানজনক এই পুরস্কার জিতলেন ইয়াজিদি এই তরুণী। পুরো নাম নাদিয়া মুরাদ। বয়স ২৫।

এবারের নোবেল জয় করলেন যারা
*রসায়নে নোবেল জয় তিন বিজ্ঞানীর : নতুন ধরনের রাসায়নিকের জন্য এনজাইমের উৎপাদন ও পরিবেশ বান্ধব শিল্প গড়ার গবেষণা করে এবছর শান্তিতে নোবেল জিতেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের তিন বিজ্ঞানী। বুধবার সুইডেনের স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ১২টায় রসায়নে এ তিন বিজ্ঞানীর নোবেল জয়ের ঘোষণা দিয়েছে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি। রসায়নের নোবেল জয়ী এ তিন বিজ্ঞানী হলেন, মার্কিন নারী রসায়নবিদ ফ্রান্সেস এইচ আরনল্ড ও জর্জ পি স্মিথ এবং ব্রিটিশ রসায়নবিদ স্যার গ্রেগরি পি উইন্টার।

*পদার্থের নোবেল জয় তিন বিজ্ঞানীর : চলতি বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও কানাডার তিন পদার্থ বিজ্ঞানী। এ তিন বিজয়ী হলেন, মার্কিন পদার্থ বিজ্ঞানী আর্থার অ্যাশকিন, ফরাসী পদার্থবিজ্ঞানী জিরার্ড ম্যুরো ও কানাডার নারী পদার্থবিজ্ঞানী ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড।মঙ্গলবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি সুইডেনের স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ১২টায় এ তিন বিজ্ঞানীর নোবেল জয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

*ক্যান্সারের গবেষণায় চিকিৎসার নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী : প্রাণঘাতী ক্যান্সারের চিকিৎসায় বৈপ্লবিক এক থেরাপি আবিষ্কারের ফলে চলতি বছরে

*চিকিৎসা বিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে দুই বিজ্ঞানী: সোমবার মার্কিন ও জাপানি বংশোদ্ভূত দুই বিজ্ঞানীকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ বছরের নোবেল পুরস্কার জয়ী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। স্টকহোমে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট এক ঘোষণায় বলছে, নোবেল জয়ী চিকিৎসা বিজ্ঞানী জেমস অ্যালিসন ও তাসুকু হনজু ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার ভাগাভাগি করে নেবেন। অ্যালিসন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এমডি অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারের অধ্যাপক এবং হোনজো জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক।১৯০১ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে ১০৮ বার। এর মধ্যে ১২ বার চিকিৎসার নোবেল পেয়েছেন নারীরা। এছাড়া মাত্র একজন করে বিজয়ী এই পুরস্কার জিতেছেন ৩৯ বার।

*যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়ে শান্তির নোবেল পেলেন দুই কর্মী : যৌন সহিংসতা ও হয়রানির ব্যাপারে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরির আন্দোলন করে চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন কঙ্গোর ধাত্রীবিদ্যাবিশারদ ডেনিস মুকওয়েজি এবং জঙ্গিদের হাতে ধর্ষণের শিকার ইয়াজিদি নারী নাদিয়া মুরাদ। গতকাল সুইডেনের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে এই দুই কর্মীর নাম ঘোষণা করেছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত