শিরোনাম

বহুরুপী ইমরান খান

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:২৪, আগস্ট ০৪, ২০১৮

ইমরান খান। পাকিস্তান ক্রিকেট অঙ্গনের এক সফলতার নাম। ১৯৯২ সালে তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের স্বাদ পেয়েছিল পাকিস্তান। ক্রিকেট মাতিয়ে ৯০-এর দশকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্থান ঘটে ইমরানের। দুই দশক পর সেখানেও পেলেন সফলতা। এখন তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ইমরান খানের গল্প নিয়ে লিখেছেন-জিয়া উল ইসলাম

সফল ক্রিকেট অধিনায়ক ও প্লেয়বয় হিসেবে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি-অখ্যাতি ছাড়িয়ে এখন পাকিস্তানের ভাবী ‘অধিনায়ক’ তিনি। ইমরানের পারিবারিক নাম আহমেদ খান নিয়াজী ইমরান। ১৯৫২ সালের ৫ অক্টোবর লাহোরে অবস্থাসম্পন্ন এক পরিবারে জন্ম তার। ইমরান খানের জীবনযাপন সবসময়ই জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট ছিলেন ইমরান। পড়াশোনা করেছেন অক্সফোর্ডে। তিনি বাস করেন ইসলামাবাদে দাম্পত্য জীবনে তিনি তিনটি বিয়ে করেন। তার তিনটি সন্তান আছে। ব্যাক্তিগত জীবনে হিলাল-ই-ইমতিয়াজ ১৯৯২ সালে এবং প্রাইড অব পারফরমেন্স ১৯৮৩ সালে পুরস্কার পান

ক্রিকেটার ইমরান
ইমরানের আজকের যে যশ-খ্যাতি, তার সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ক্রিকেট থেকে। ১৯৬৮ সালে ষোল বছর বয়সে লাহোরের হয়ে সারগোরার বিরুদ্ধে প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলেন তিনি ক্রিকেটের প্রতি ইমরান খানের আগ্রহ এবং লেগে থাকাই তাঁকে দ্রুত স্থান করে দেয় পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলে। ১৯৭০ সালে যখন দলে ডাক পান, তখনও তার পড়াশোনাই শেষ হয়নি?। এরপর জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছেন, হয়েছেন অধিনায়কও। ১৯৯২ সালে তার হাত ধরেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের স্বাদ পায় পাকিস্তান। তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় নিজের পছন্দের ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গঠন করতে একেবারে একরোখা ছিলেন ইমরান। বলা হয়, এক পকেটে নিজের পছন্দের দল নিয়ে নির্বাচকদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসতেন। আর অন্য পকেটে রাখা থাকতো পদত্যাগপত্র। নির্বাচকরা তার কথায় রাজি না হলে ইস্তফা দেওয়ার জন্য প্রস্তুুত থাকতেন। অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করার সময় সেই ইউনিভার্সিটি টিমকেও নেতৃত্ব দেন তিনি। ক্রিকেটে পাওয়া জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই রাজনীতিতে নামেন ইমরান। তার দলের প্রতীকও ক্রিকেট ব্যাট। দলের নাম পিটিআই হলেও জনগণ একে ক্যাপ্টেন্স বলে সম্বোধন করেন প্রায়ই।

প্লেবয় ইমরান
অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করা ইমরান খান ৭০ দশকের শুরু থেকে দুই দশক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম ছিল। লন্ডন নাইটক্লাবের বিতর্কিত ঘটনায় তাকে প্লেবয় হিসেবেও আখ্যা দিয়েছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে ইমরানের দাবি, তিনি কখনও মদপান করেননি।এর আগে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক আগ্রহ ছিল বিশ্ব মিডিয়ার। ১৯৯৫ সালে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী জেমস গোল্ডস্মিথের মেয়ে জেমিমা গোল্ডস্মিথকে বিয়ে করেন ইমরান। তখন তার বয়স ৪৩। সেই সংসারে দুই ছেলে সন্তান হয় ইমরানের। জেমিমাকে বিয়ের শুরু থেকেই বিতর্কের মুখোমুখি হন ইমরান। তার চেয়ে ২০ বছরের ছোট ইহুদি এক নারীকে বিয়ের বিষয়টি সহজভাবে নেয়নি পাকিস্তানিরা। ২০০৪ সালে বিচ্ছেদ ঘটে ইমরান ও জেমিমার।২০১৫ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করেন ইমরান। এবার ঘর বাঁধেন সাংবাদিক রেহাম খানের সঙ্গে। তবে সেই বিয়ে টিকেনি এক বছরও। বিবিসির সাবেক এই সাংবাদিক অভিযোগ করেন, সমর্থকদের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছিলেন তিনি। নিজের লেখা আত্মজীবনীতে ইমরানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আনেন তিনি। পাকিস্তানে সেই জীবনী বিতর্কের ঝড় তোলে। ২০১৮ সালে আবারও বিয়ে করেন ইমরান। পাঁচ সন্তানের জননী বুশরা ওয়াতোর সঙ্গে ঘর বাঁধেন তিনি। আধ্যাত্মিক পরামর্শক হিসেবে বুশরার খ্যাতি রয়েছে। ইসলাম নিয়ে জনসমক্ষে অনেক কথা বলেন তিনি।

রাজনীতিবিদ ইমরান
১৯৯৬ সালে জাস্টিস মুভমেন্ট নামে একটি দল গঠন করেন ইমরান। অনেক দিন চেষ্টা করলেও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারেননি তিনি। পার্লামেন্টে কোনও আসন পায়নি দলটি। এমনকি একটা সময় ইমরান উপহাসের পাত্রে পরিণত হন। নওয়াজ শরিফের দল মুসলিম লিগ ও ভুট্টো পরিবারের পাকিস্তান পিপলস পার্টি তখন সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। সারাদেশ জুড়ে তখন তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। প্রথম আসন পেতে ইমরানকে অপেক্ষা করতে হয় ২০০২ সাল পর্যন্ত। নিজ দলের হয়ে ইমরানই একমাত্র আসনে জয় পান। আর ২০০৮ সালের নির্বাচনই বয়কট করেন। সারা বিশ্বের কাছে পাকিস্তানের অত্যন্ত পরিচিত মুখ হলেও অনেকদিনই তিনি সাফল্য থেকে অনেক দূরে ছিলেন। ২০১৩ সালেই তিনি শক্তভাবে প্রথম নিজের অবস্থান জানান দেন। তখন দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কয়েকটি আসন দূরে ছিলেন মাত্র। আর এর পাঁচ বছর পর এবার ২০ কোটি জনসংখ্যার পরমাণু শক্তিধর এই দেশটির দায়িত্ব ন্যস্ত হতে যাচ্ছে তার কাঁধে। পাকিস্তানে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে সরব ছিলেন ইমরান। এর প্রতিবাদে অনশন কর্মসূচি করায় জেলেও জেতে হয় তাকে। লাহোরে একটি ছাত্রদের র?্যালিতে কট্টরপন্থীরা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। ইমরান উদারপন্থাকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও একই সময়ে ইসলামিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে চান। বরাবরই পশ্চিমাবিরোধী অবস্থানের কথাও ব্যক্ত করেছেন তিনি। বিশেষ করে পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলার ঘোর বিরোধী তিনি। বারবারই বলেছেন, ক্ষমতায় এলে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করবেন। তালেবানের বিরোধিতা করলেও তার শাসনে থাকা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ‘তালেবানের জনক’ খ্যাত মাওলানা সামিউল হকের মাদ্রাসায় ৩০ লাখ ডলার অনুদান দেন তিনি। তবে ইমরান রাজনীতিবিদ হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছেন মূলত তার দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে। বারবারই তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর সেটাই দুর্নীতিতে জর্জরিত পাকিস্তানি তরুণদের পছন্দের প্রার্থীতে পরিণত করেছে। তবে মানবাধিকার কর্মী ও ইমরান খানের প্রতিদ্বন্দ্বীদের দাবি, পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনা হস্তক্ষেপ রয়েছে। প্রভাব রয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপরও। কিছুদিন আগেই তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এক বছর আগেই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। ধারণা করা হয়, এসব কিছুই আসলে সামরিক চাপেই হয়েছে। নওয়াজ শরিফের দলের অনেক নেতাই এই রোষানলে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী নওয়াজের দলকে নেতৃত্বহীন করে ইমরানকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছে। বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট তারকা থেকে কীভাবে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তা নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চলছে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা। তার অতীতের পরিভ্রমণটার সঙ্গে সঙ্গে আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান
পাকিস্তান ক্রিকেট অঙ্গনে এক অনন্য সফলতার নাম ইমরান খান। তিনি কী ক্রিকেট মাঠের মতো সরকার প্রধান হিসেবেও সফল হবেন এই জল্পনা-কল্পনা সবার। ১৯৯২ সালে তার অধিনায়কত্বেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের স্বাদ পেয়েছিল পাকিস্তান। ক্রিকেট মাতিয়ে ৯০-এর দশকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্থান ঘটে ইমরানের। দুই দশক পর সেখানেও পেলেন সফলতা এখন প্রধানমন্ত্রী হয়ে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন পুরো দেশ। গুজব-কানকথাই শেষপর্যন্ত সত্য হল। সেনাশক্তিতে হোক আর কপালজোরেই হোক-জয়ের মালা উঠছে ইমরান খানের গলাতেই। সে কথাই বলছে নির্বাচনের বেসরকারি ফল। ফলাফলে দেখা গেছে, ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পেতে যাচ্ছে ১০৫ আসন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) পাচ্ছে ৭১ আসন। আর বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৩৯ ও অন্যরা ৫৭ আসন। সরকার গঠন করার জন্য প্রয়োজন ১৩৭ আসনে জয়। তাই সবকিছু ঠিক থাকলে ইমরানই পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।


যেসব চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের সামনে
পাকিস্তানের বিতর্কিত নির্বাচনে পিটিআইয়ের ইমরান খানের বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছে ইক্যুইটি ও বন্ড মার্কেট। তবে বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই ক্রিকেটারের সামনে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। চলমান মুদ্রা সংকট ও আর্থিক অচলাবস্থা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হিসেবে দেখা দেবে ইমরান সরকারের কাছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খান প্রথম যে বড় ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে তা হলো রুপির উপর চাপ কমাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বেইল আউটের আবেদন করা। ১৯৮০ দশকের পর এ নিয়ে ১২ বার আইএমএফের সহযোগিতায় বেইলআউট করেছে পাকিস্তান।কর ফাকি দিতে বিখ্যাত এ দেশটির মানুষকে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করা হবে খানের সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারী তহবিল ফুরিয়ে ফেলা ভর্তুকি উদ্যোগ ও লোকসানকারী রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বন্ধ করতেও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হবে পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকার।স্থানীয় ব্রোকারেজ হাউস শাজার ক্যাপিটালের হেড অব রিসার্চ সুলিমান মানিয়া রয়টার্সকে বলেন, ‘দেশটির অবস্থা বর্তমানে এই অবস্থায় দাড়িয়েছে যে দীর্ঘদিন স্থিতাবস্থা স্ট্যাটাস ক্যু) টিকিয়ে রাখা যাবে না।’ খুব দ্রতই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করেন তিনি। গত ডিসেম্বরের পর রুপির চারবার অবমূল্যায়ন করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (এসবিপি)। প্রায় ৩০ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের অর্থনীতির লেনদেন ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেইমেন্টস) ঠেকাতে রুপির মান ২০ শতাংশেরও বেশি অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। যদিও ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ দশমিক ৮০ শতাংশ হারে দেশটির অর্থনীতি সম্প্রসারিত হচ্ছে তবে পাকিস্তানের চলতি হিসাবে চাপ কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন এসবিপি, কারণ পাকিস্তানের মোট আমদানির ৮০ শতাংশই তেলপণ্য। এ বিশাল আমদানি প্রয়োজন মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ে যা গত সপ্তাহে ৯০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
২০১৭ সালের মে মাসে যেখানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল এক হাজার ৬৪০ কোটি ডলার।৩০ জুন শেষ হওয়া সর্বশেষ অর্থবছরে পাকিস্তানের চলতি হিসাবে ঘাটতি ৪৩ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৮০০ কোটি ডলারে দাড়িয়েছে এবং রাজস্ব ঘাটতি গিয়ে দাড়িয়েছে অর্থনীতির ছয় দশমিক ৮০ শতাংশে। বৃহস্পতিবার বিজয়ী বক্তৃতায় নিজের সংস্কার এজেন্ডার দিকে ইঙ্গিত করে পিটিআই প্রধান বলেন, ‘ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ্যের মুখে দাড়িয়েছে পাকিস্তান। ইমরান খান বলেন, ‘আমাদের অকার্যকর প্রতিষ্ঠানের কারণে অর্থনীতি নিম্নমুখী হচ্ছে। আমাদেরকে এই সরকার ব্যবস্থাপনা (গভর্নেন্স) ঠিকঠাক করতে হবে। আইএমএফের কাছে যদি পাকিস্তান বেইলআউটের আবেদন করে তাহলে খান সরকারকে রাজস্ব ঘাটতি কমাতে সরকারী ব্যয় কমাতে হবে। এর ফলে বিশ্ব মানের স্কুল ও হাসপাতাল তৈরিতে পিটিআই যে লোকরঞ্জনবাদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেগুলো হুমকিতে পড়তে পারে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় পাকিস্তানের করফাকি সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করেছেন খান। পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই এ অবস্থা বিরাজ করছে যেখানে জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ আয়কর দিয়ে থাকে। আয়কর প্রদানকারীর সংখ্যা বাড়ানো হবে ইমরান ও পাকিস্তানের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে সরকারের রাজস্ব ব্যুরো (এফবিআর) সংস্কারের প্রতিশ্রতি ব্যক্ত করেছিলেন খান। দুর্নীতি বিরোধী অভিযান ও দেশ থেকে অর্থ পাচার ঠেকাতে লড়াইয়ের প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন খান। দীর্ঘদিন ধরেই বিশাল পরিমাণ অর্থ সরকারের অজ্ঞাতে পাচার হতো বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খুব শীগগিরই যেখানে খানের হাত দিতে হবে তা হলো রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস ও বিভিন্ন বিদ্যুৎ কোম্পানীগুলো সংস্কার করা। যেগুলো বেসরকারীকরণ করতে পূর্বের সরকারগুলো হিমশিম খেয়েছে। এক্সোটিক ক্যাপিটাল নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনেতিক আউটলুক নির্ভর করছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা উন্নত করতে, ক্ষমতাবানদের কর ফাকি দেয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে এবং রাষ্ট্রীয় তহবিল চুষে ফেলা সরকারী উদ্যোগগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে খান সক্ষম হবেন কীনা তার উপর। ইমরান খানের অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়তে পারে আসাদ উমরের বিশ্বস্থ কাঁধে। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কনগ্লোমারেট অ্যানগ্রুর সাবেক প্রধান নির্বাহী উমরই হতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের পরবর্তী অর্থমন্ত্রী।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত