শিরোনাম

এসো আকাশ ছুঁই

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:৩৫, জুলাই ২৮, ২০১৮

আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে মাল্টিবিলিয়নিয়ারদের মধ্যে এক প্রকার প্রতিযোগিতা চলছে, আজ এ দেশ নির্মাণ করলো বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন। তবে বেশিদিন ইতিহাস ধরে রাখতে পারছেন না। কিছুদিন পর অন্য মাল্টিবিলিয়নিয়ার দেশও ইতিহাসে স্থান করে নিতে চাচ্ছে তাদের নাম, আর তাই বিশ্বের ২০০ উঁচু ভবনের মধ্যে প্রায় ৮০টির মতো নির্মিত হয় ২০০০ সালের পরই। এবার বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন ও টাওয়ার নিয়ে লিখেছেন-জিয়া উল ইসলাম

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন হবে ‘জেদ্দা টাওয়ার’ উচ্চতা হবে ১ কিলোমিটার
সৌদি আরবের জেদ্দায় নির্মাণ কাজ চলছে কিংডম টাওয়ার বা ‘জেদ্দা টাওয়ার’ এর। এটির শুধু প্রারম্ভিক খরচই হলো মার্কিন ১.২৩ বিলিয়ন, অর্থাৎ কিনা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ভবনটি জেদ্দার উত্তর দিকে লোহিত সাগর বরাবর স্থানে অবস্থিত হবে। পরিকল্পনা মোতাবেক কাজটি সম্পন্ন হলে, এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চতম ভবন। ভবনটির প্রাথমিক উচ্চতা ১.৬ কিলোমিটার (১ মাইল) হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়; তবে এলাকার ভূতত্ত্বের শক্তি অনুসারে ১.৬ কিলোমিটার ভবন নির্মাণ সম্ভব হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমান পরিকল্পনানুসারে এটির উচ্চতা হবে ১ কিলোমিটার । এটি বানাচ্ছেন সৌদি আরব নেতা প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল ও রাজা আবদুল্লার ভাগ্নে। ২০১৯ এ ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিংডম হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান সৌদি প্রিন্স আল-ওয়ালেদ বিন তালাত জানিয়েছেন, জেদ্দা টাওয়ারের কাজ শেষ করতে প্রতিষ্ঠানটির শাখা জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানি সৌদি আরবের অ্যালিনমা ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে দু’শ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে। সবার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন হবে ‘জেদ্দা টাওয়ার’ কিংডম টাওয়ার ২০১৯ সালে ভবনটি খুলে দেয়া হবে।

২০০৪-২০১০ তাইপে ১০১ ছিলো বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন
এশিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক নগরী তাইওয়ানের তাইপে আজ পরিচিত ১০১ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী ভবন ‘তাইপে ১০১’-এর পরিচয়ে। ১৬৭০ ফুট উঁচু এই ভবন তাইওয়ানকে এনে দিয়েছে বিশ্বজোড়া পরিচিতি। ২০০৬ সালে নিউজউইক ম্যাগাজিনের জরিপে নতুন সপ্তম আশ্চর্য হিসেবে ‘তাইপে ১০১’-কে ঘোষণা করা হয়। ২০০৪ সালে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে ২০১০ সালে বুর্জ খলিফা উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের মর্যাদা ছিল ‘তাইপে ১০১’-এর দখলে। তার আগে মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানটি দখল করে তাইপে তাইপে ১০১ একটি সুপরিচিত বহুতল ভবন যা তাইওয়ানের, জিনই জেলার, তাইপে শহরে অবস্থিত। এর পূর্বের নাম ছিল তাইপে ওয়ার্ল্ড ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার। ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এটি ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন। ২০১০ সালে উদ্বোধনের পর বুর্জ খলিফা এর স্থলাভিষিক্ত হয়। তাইপে ১০১ এর নকশা প্রণয়ন করেছে সি ওয়াই লি এন্ড পার্টনার্স এবং নির্মাণ করেছে কেটিআরটি জয়েন্ট ভেঞ্চার। উদ্বোধনের পর থেকে এই ভবনটি আধুনিক তাইওয়ানের প্রতিচ্ছবি হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে । তাইপে ১০১ থেকে করা আতশবাজির দৃশ্য ইংরেজি নববর্ষের অনুষ্ঠানে সারা বিশ্বে সম্প্রচারিত হয়। এছাড়াও এ ভবনটি ভ্রমন বিষয়ক জার্নাল আর আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে প্রায়শই স্থান পায়। ডিজাইনার সি ওয়াই লি অ্যান্ড পার্টনার জানায়, ভিত্তি নির্মাণের সময় ৮০টি পিলার স্থাপন করা হয়, যা মাটির ২৬২ ফুট গভীরে স্থাপিত এবং একেকটি পিলারের ব্যাস ৫ ফুট যার ধারণ ক্ষমতা ১০০০ থেকে ১৩২০ মেট্রিক টন। ৮৯ তলা ভ্রমণের জন্য সময় লাগবে মাত্র ৩৭ সেকেন্ড, যা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন লিফট। লিফট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জাপানের তোশিবা জানায়, প্রতি সেকেন্ডে এর গতি প্রায় ৫৫.২২ ফুট, যা পূর্ববর্তী রেকর্ড সৃষ্টিকারী ভবনের লিফট জাপানের ইয়োকোহামা ল্যান্ডমার্কের চেয়ে ৩৪.৩৭ গুণ বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন। এছাড়াও ৮৯ এবং ৯১ তলায় রয়েছে ভেতরকার এবং বাইরের দৃশ্য অবলোকন করার অভূতপূর্ব ব্যবস্থা, যা থেকে ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে পর্যটকরা অবলোকন করতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে টিকিট কাটতে হবে যার পরিমাণ স্থানীয় মুদ্রায় ৪০০ ডলার (মার্কিন ডলার ১৩)। বিভিন্ন ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এ ভবনে রয়েছে বিশ্বের নামকরা শতাধিক রেস্টুরেন্ট। তবে এতে দুবাই বুর্জের মতো বসবাসের জন্য কোনো ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা নেই। এই ভবনের পেছনে মোট ব্যয় হয়েছে ১.৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং সি অ্যান্ড টি এবং কেটিআরটি যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনে জানায়, এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়নের যে কোনো ধরনের টাইফুন এবং ভূমিকম্প মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা ‘তাইপে ১০১’-এর আছে। তাইপে ১০১-এ ভূমির ওপর ১০১টি তলা রয়েছে এবং মাটির নিচে ৫টি তলা রয়েছে। ২০০৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছিলো।

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার টোকিও স্কাই ট্রি
টোকিও স্কাই ট্রির উচ্চতা ৬৩৪ মিটার বা ২ হাজার ৮০ ফুট। তবে প্রথম দিকে উচ্চতা ৬১০ মিটার ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে এ উচ্চতা বাড়িয়ে ৬৩৪ মিটার করা হয়। এ টাওয়ারটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৮ সালের ১৪ জুলাই। ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি এর কাজ শেষ হলে একই বছর ২২ মে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু এ টাওয়ারটি খুলে দেওয়া হয়। ত্রিভুজ ও ইয়েন মুদ্রা গোল আদলের কাঠামোবিশিষ্ট ৩৬ হাজার ৯০০ বর্গমিটার জায়গায় নির্মিত স্কাই ট্রি টাওয়ার সম্পূর্ণ ভূমিকম্প নিয়ন্ত্রিত। টোকিও স্কাই ট্রি জাপানের টোকিওতে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ টাওয়ার। এটি একই সঙ্গে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভবনও। অনেকে এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন হিসেবেও অভিহিত করে থাকে। কিন্তু না, এটি শুধু সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার। সবচেয়ে উঁচু ভবন হলো দুবাইতে অবস্থিত ‘বুর্জ খলিফা’ ভবনটি। টোকিও’র পূর্বাঞ্চলে জনবহুল অসাকুসা এলাকায় এটি অবস্থিত। এটি মূলত ব্যবহৃত হবে টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচার টাওয়ার হিসেবে। টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচারের টাওয়ার হিসেবে এর আগে ব্যবহৃত হতো ৩৩৩ মিটার উঁচু টোকিও টাওয়ার। তবে এই টাওয়ারটি থেকে সিগন্যাল ধরতে অনেক সমস্যা হতো। এছাড়া জাপান সরকার এনালগ টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়।তাই রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচার ডিজিটালাইজেশন করতে ২০০৬ সালে এই টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। টাওয়ারটির মালিক টোবু টাওয়ার স্কাই ট্রি কোম্পানি।

মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টাওয়ার ১৯৯৮-২০০৪ বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন
‘পেট্রোনাস টাওয়ার’ হচ্ছে মালয়েশিয়ার সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি পেট্রোনাসের সদর দপ্তর। ৮৮ তলা বিশিষ্ট এই টাওয়ারটি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। কুয়ালালামপুর শহরের যে স্থানে পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার অবস্থিত তার নাম কেএলসিসি বা কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার। কেএল সেন্ট্রাল থেকে মনোরেলে সরাসরি যাওয়া যায় কেএলসিসিতে। স্টেশনের নামও কেএলসিসি। এটি টুইন টাওয়ারের একদম নিচেই ভূগর্ভে অবস্থিত। ১৯৯৮ সালে টাওয়ারটি উদ্বোধন করা হয়। ৮৮ তলা বিশিষ্ট এই ভবনটি ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন ছিল। বর্তমানে উচ্চতার দিক থেকে বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে পেট্রোনাস টাওয়ার। পেট্রোনাস টাওয়ারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ১ মার্চ ১৯৯৩ সালে। দুই দফায় নির্মাণ কাজ শেষে এটি উন্মুক্ত করা হয় ১৯৯৯ সালের ১ আগস্ট। টাওয়ারটির উচ্চতা ১৪৮৩ ফুট (৪৫২ মি.) এবং ডিজাইন করেছেন আর্জেন্টাইন-আমেরিকান স্থপতি মিজার পেলিল। এ টাওয়ারটি তৈরি করতে সময় লেগেছে একটানা সাত বছর। মালয়েশিয়ার মোবাইল কোম্পানি মাক্সিস ও তেল কোম্পানি পেট্রোনাসের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে এ টাওয়ারটি। এটি নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে ১.৬ বিলিয়ন ডলার। বাইরে থেকে টাওয়ারটিকে দেখে অনেকে ভাবেন শুধুমাত্র স্টিল ও কাঁচ দিয়ে টাওয়ারটি তৈরী করা হয়েছে। তবে টাওয়ারটি তৈরীর মূল উপাদান হচ্ছে স্টিল ও পাথর। ৩৬ হাজার ৯১০ টন স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে টাওয়ারটি নির্মাণে। পেট্রোনাস টাওয়ার আসলে একজোড়া দালান। টাওয়ারটি দুটি ভবনে বিভক্ত। এই দালান জোড়ার নিচে প্রায় ১২০ মিটারের ফাউন্ডেশন গাঁথুনি আছে। এই ফাউন্ডেশন গাঁথুনি করে দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ব্যাচি সোল্টাঞ্চ , যারা ভূগর্ভস্থ প্রকৌশল কাজে অভিজ্ঞ। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কংক্রিট পেট্রোনাস টাওয়ারের মূল উপাদান। বিল্ডিং দুটির মধ্যখানে একটি সংযোগ সেতু আছে, যা ৪১ এবং ৪২তম তলায় অবস্থিত। এই সেতুটি ৫৮ দশমিক ৪ মিটার লম্বা এবং এর ওজন প্রায় ৭৫০ টন। পেট্রোনাস টাওয়ারের ব্যবহার্য ফ্লোর স্পেস ৮০ লাখ বর্গফুট, ভবনের জানালার সংখ্যা ৩২ হাজার। স্থপতি নকশাতে মালয়েশিয়ার ইসলামি প্যাটার্ন ব্যবহার করেছেন। মালয়েশিয়ার প্রধান তেলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের অফিস এখানে। এই পেট্রোনাস কোম্পানির নামেই টাওয়ারটির নামকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও এখানে একটি অত্যাধুনিক শপিং মল আছে। এখানে অবস্থিত অন্যান্য আন্তর্জাতিক দফতরের মধ্যে রয়েছে আলজাজিরা, বোয়িং, আইবিএম, ক্রওলার নেটওয়ার্ক, মাইক্রোসফট, রয়টার্স। পুরো টাওয়ারটির নানারকম সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদি ঠিকঠাক রাখার জন্য পেট্রোনাস টাওয়ারের পশ্চিম দিকে একটি ‘সার্ভিস বিল্ডিং’ আছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় এই ‘সার্ভিস বিল্ডিং’ থেকে তদারক করা হয়। বিল্ডিংদ্বয়ের মধ্যবর্তী সংযোগ সেতু (যা ‘স্কাই ব্রিজ’ নামে অভিহিত) সপ্তাহের প্রতি সোমবার বন্ধ থাকে। এই স্কাই ব্রিজটিও একটি রেকর্ডের অধিকারী। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থানে স্থাপিত দ্বিতল বিশিষ্ট সেতু এটি। টাওয়ারটির নিচের ৮ তলা শপিং মল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যার মধ্যে ৫ তলা মাটির নিচে এবং ৩ তলা মাটির উপরে অবস্থিত। ৪১ তলার উপরে সাধারণ দর্শনার্থীরা যেতে পারেন না। উপরের অংশটি পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত। স্কাই ব্রিজে যেতে হলে গুণতে হয় ৮০ রিঙ্গিত । টিকিট অবশ্য গেলেই করা যায় না। প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকেট বিক্রি করা হয়, আগে আসলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার পর্যটক প্রতিদিন ভিড় করেন টুইন টাওয়ারের সামনে।

বুর্জ খলিফার ১৬৯ তলায় যেতে হলে অক্সিজেন নিয়ে যেতে হয়
২০১০ সালের ৪ জানুয়ারী আরব আমিরাতের দুবাই শহরে অবস্থিত এই ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। নির্মানাধীন সময়ে এই ভবনটিকে সবাই ‘বুর্জ দুবাই’ নামে চিনলেও উদ্বোধনের সময় নাম পরিবর্তন করে রাখা ‘বুর্জ খলিফা’। এই ভবনটির আরেক নাম ‘দুবাই টাওয়ার’। দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাকতুম ভবনটির উদ্বোধন করেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সম্মানে ভবনটির নামকরণ করেন বুর্জ খলিফা। রকেটের মতো দেখতে ১৬০ তলাবিশিষ্ট ‘বুর্জ খলিফা’র মোট উচ্চতা ২,৭১৭ ফুট। ছয় লাখ বর্গফুটবিশিষ্ট এই ভবনে একসঙ্গে ১২ হাজারেরও বেশি লোকের সমাবেশ হতে পারে। বুর্জ ভবনে ৫৪টি এলিভেটর বা লিফট আছে। এগুলোর গতি ঘণ্টায় ৪০ মাইল। ‘বুর্জ খলিফার’ মোট তলা কতটি তা নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মত। যেমন- কোথাও আছে ‘বুর্জ খলিফা’র মোট তলা ১৬৯, আবার কোথাও ১৬৫, কোথাও বা ১৬৩। তবে উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায় ‘বুর্জ খলিফা’র মোট তলার সংখ্যা ১৬০টি। ঘুরেফিরে সব জায়গাতে ১৬০ থেকে ১৬৯ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে সম্পূর্ণ বুর্জ খলিফার মোট তলার সংখ্যা ২০৬। এর মধ্যে ১৬০ তলা পর্যন্ত রয়েছে বিভিন্ন অফিস, আবাসন, মসজিদ, সুইমিংপুলসহ বিভিন্ন জিনিস। আর ১৬০ তলার পর থেকে ২০৬ তলা পর্যন্ত ভবনটি পরিচালনায় সহায়ক বিভিন্ন কারিগরি কাজে ব্যবহৃত হয়। সম্পূর্ণ ভবনটি তৈরি করতে মোট ব্যয় হয় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় এর পরিমাণ এগার হাজার ছয়শত সত্তর কোটি টাকা। এই স্থাপনার স্থপতি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অড্রিয়ান স্মিথ। বিশ্বের সর্বোচ্চ এই ভবনটির মোট ওজন ৫ লাখ টন। ভবনটি নির্মাণে লেগেছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কিউবিক মিটার কংক্রিট, ৩৯ হাজার মিটার স্টিল, ১ লাখ ৩ হাজার বর্গমিটার কাচ এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার বর্গমিটার স্টেইনলেস স্টিল। ‘বুর্জ খলিফা’ ভবনটি তৈরি করতে এমনও দিন ছিলো যেদিন একসাথে ১২ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। সে সময় প্রতি তিন দিন পরপর এক একটি ছাদ ঢালাই দেয়া হতো। দুবাইতে প্রচন্ড গরমের কারণে দিনের বেলা ছাদ ঢালাই দেয়া যেতো না। কারণ গরমে কংক্রিট জমাট বাঁধতে পারতো না। এজন্য রাতের বেলা ছাদ ঢালাই দেয়া হতো যাতে বাতাসের সংস্পর্শে কংক্রীট সহজেই জমে যেতে পারে। অনেক সময় কংক্রীটের সাথে বরফও ব্যবহার করা হয়েছে। ১৬০ তলা ভবনের মধ্যে প্রায় এক শ’ তলায় যেতে টিকেট নেয় ২শ’ দিরহাম, আর ১৬০ তলায় যেতে হলে অনুমতি নিয়ে আরও অনেক বেশি দিরহাম গুনতে হয়। বুর্জ খলিফার ১৬৯ তলায় যেতে হলে সাথে করে অক্সিজেন নিয়ে যেতে হয়। বুর্জ খলিফায় ১৬৯ তলার ওপর থেকে মাঝামাঝি স্থানে দিনে-রাতে চব্বিশ ঘণ্টায় জোনাকির মতো একবার সাদা আলো জ্বলছে আবার আলো নিভছে; যা বহুদূর থেকে দেখা যায়। বুর্জ খলিফায় বসবাসরত অধিবাসীরা দিনের শুরুতে সমতলের অধিবাসীদের চেয়ে আগে সূর্য দেখেন এবং দিনের শেষেও সমতলের অধিবাসীদের চেয়ে তারা বেশি সময় সূর্য দেখতে পান। এ জন্য তাদের কাছে দিনের পরিধি অনেক বেশি। ফলে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়ের বিস্তার অনেক বেশি। বুর্জ খলিফার মালিকানা দুবাইয়ের একটি আধা সরকারি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এমার প্রপার্টিজ


স্মরণীয় এক নিদর্শন ধরে রাখার প্রতীক মিনারটিই আইফেল টাওয়ার
আইফেল টাওয়ারটি পৃথিবীর কোন স্থাপনা নির্মাণের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনাই বটে। ১৮৮৭ সালে ফ্রান্স সরকার যখন ফরাসী বিপ্লবের স্মৃতি শর্তবাষিকী পালনের তোড়জোড় করছিলেন তখন সেই ঘটনাটিকে স্মরণীয় এক নিদর্শনে ধরে রাখার জন্যই এই প্রতীক মিনারটি তৈরীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন ফরাসীরা। আর এ কাজের জন্য বিখ্যাত সেতু প্রকৌশলী “আলেকজান্ডার গুসটাভ আইফেল”কে বেছে নেওয়া হয়েছিলো। ইস্পাতের কারিগর প্রকৌশলী আইফেল গর্বভরে বলেছিলেন, শুধু ফ্রান্সের পতাকাই হাজার ফুট উঁচুতে উড়বে! সেই লক্ষ্যে তিনি ইস্পাত দিয়ে একটি টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। তাঁর স্বপ্ন সত্যি হয় ১৮৮৯ সালে। সেইনের পশ্চিম পারে লাটিন কোয়ার্টার এবং আভালিদের মাঝখানে ছিল বিস্তীর্ণ খোলা প্রান্তর শাজ দ্য মার্স। ষোড়শ লুই এখানে বিপ্লবের আদর্শের প্রতি তাঁর আনুগত্য প্রকাশ করেন। এখানেই ফরাসি বিপ্লবের প্রথম বার্ষিক স্মৃতি অনুষ্ঠান হয়। এছাড়া প্রতিবছর ব্যাস্টিল দিবস পালিত হয়। এখানে আরো আছে ফ্রান্সের ইকোল মিলিটেয়ার- যেখানে নেপোলিয়ন ছিলেন শিক্ষার্থী ক্যাডেট। তিনি পেটা লোহার খোলা জাফরি দিয়ে ৩০০ মিটার (৯৮৪ ফুট) উঁচু এই নিখুঁত ও চমৎকার মিনারটি নির্মাণ করেন। তাঁর নামানুসারেই মিনারটির নাম রাখা হয়েছিলো আইফেল টাওয়ার। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ১৮৮৯ সালের ৩১ মার্চে মাত্র দুই বছর, দুই মাস, দুই দিনে টাওয়ারটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিলো। এতো উঁচু আর এমন আকৃতির টাওয়ার বানাতে কিন্তু খুবই কম শ্রম ব্যয় করা হয়েছে। এই টাওয়ারের নির্মাণ কাজটি পূর্তবিদ্যা ও স্থাপত্যশিল্পের ক্ষেত্রে এক বিপ্লবের সূচনা করেছিলো। ইংরেজ যুবরাজ সপ্তম এডওয়ার্ড আইফেল টাওয়ারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ১৮৮৯ সালে এই টাওয়ার তৈরিতে খরচ হয়েছিল ৭৮ লাখ ফ্রা। প্রতি দশ বছর পরপর এতে রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়। দু’একর জমি জুড়ে এর ভিত্তি। টাওয়ারটিতে আছে অর্ধবৃত্তাকার চারটি তোরণ। উঠানামার জন্য আছে লিফট । ৭০০০ টন ওজনের এই স্থাপনাটিতে সিঁড়ি আছে ১৭৯২ টি। টাওয়ারটির চূড়া থেকে ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এক নজরে দেখে নেওয়া যায়। পর্যটকদের জন্য এটিই হলো আইফেল টাওয়ারের প্রধান আকর্ষণ। ১৯৩০ সালে নিউইয়র্কে “ক্রাইসলার বিল্ডিং”টির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত আইফেল টাওয়ারই ছিলো পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থাপনা। কিন্তু অবাক হলেও সত্য শাজ দ্য মার্সে তাঁদের কর্তৃত্বের অবসান হলে টাওয়ারটিকে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে বেতার প্রযুক্তি আবিস্কৃত হওয়ায় ট্রান্সমিশনের জন্য টাওয়ারটি ব্যবহৃত হতে থাকে এরই ধারাবাহিকতায় ১৯০৯ সালে এর চূড়ায় বসানো হয় একটি বেতার এন্টেনা। এতে তার উচ্চতা আরও ২০.৭৫ মিটার (৬৬ ফুট) বেড়ে যায়। সেই থেকে আইফেল টাওয়ারকে বেতার তরঙ্গ প্রেরণের জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে। মজার ব্যাপার হল- পরবর্তীকালে টেলিভিশন প্রচলিত হলে এতে সংযোজিত হয় একটি টি ভি এন্টেনা, যাতে টাওয়ারটির উচ্চতা আরো ৫৬ ফুট বেড়ে যায়। আইফেল টাওয়ারের পাশে অনেক নারী ও পুরুষ উলঙ্গ মূতি আছে। টাওয়ারটির প্রথম ফ্লোরটি ২০ তলার মতো উঁচু। বেশ প্রশস্থ। নানারকম দোকান-পাট আছে। ২,০০০ লোক এখানে উঠতে পারে। এবং দ্বিতীয় ফ্লোরটি প্রায় ৪০ তলা সমান উঁচু এই ফ্লোরে ১,৬০০ লোক একসঙ্গে উঠতে পারে। টাওয়ারের চূড়ায় কিন্তু মাত্র ৪০০ জন উঠতে পারে এবং আইফেলের চূড়া থেকে সারা প্যারিসকে নানান এঙ্গেলে ৮০ কি.মি বা ৫০ মাইল দূর পর্যন্ত দেখা যায়। আইফেল টাওয়ারের নির্মাণকাজ শুরু হয় তখন ফরাসীরা ভেবেছিল তাদের প্যারীর লাস্যময়ীতার হয়তো এইবার সমাপ্তি ঘটতে চলেছে, অথচ কালের ব্যবধানে আজ প্যারিসের সবথেকে বড় সৌন্দর্য এই আইফেল টাওয়ার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত