শিরোনাম

এপ্রিল ফুল: হায় মুসলিম তোমরা এত বোকা!

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৩:৩৮, মার্চ ৩১, ২০১৮

এপ্রিল ফুল অর্থ এপ্রিলের বোকা, প্রত্যেক বছর ১লা এপ্রিল তারিখে সকাল থেকে কথা, কাজ বা অন্যান্য উপায় অপরকে ধোকা দিয়ে বোকা বানানো এবং নিজেকে চালাক প্রতিপন্ন করার জন্য এক শ্রেণীর মানুষ মত্ত হয়ে ওঠে। এমন কি তারা প্রচুর আনন্দও উপভোগ করে। প্রকৃত পক্ষে এপ্রিল ফুল আনন্দের দিন নয় বরং মুসলমানদের জন্য এটা একটা শোক দিবস। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আনন্দের সূত্রপাত তা যে কত নিষ্ঠুর, হৃদয় বিদারক বীভৎস এবং ধোকায় পরিপূর্ণ সে কথা ভাবতেও দেহ মন শিহরিত ও বেদনার্ত হয়ে ওঠে।

তবে যারা এই নিষ্ঠুরতার হোতা বা সমর্থক তাদের কথা না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু যারা এই নিষ্ঠুরতার শিকার এবং যাদের মধ্যে মনুষত্ব্যের লেশমাত্র বিদ্যমান রয়েছে তারা এপ্রিল ফুল পালন করে এমন একটা নারকীয় বীভৎসতাকে কোন ক্রমেই আনন্দ উৎসবের বিষয় পরিণত করতে পারে না। এমনি পারা সম্ভবও নয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, যে মুসলমানরা এই নিষ্ঠুরতা ও ধোঁকাবাজির শিকার হয়েছিলেন তাদেরই এক শ্রেণীর নামধারী মুসলমান আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে এপ্রিল ফুলের ধোঁকাবাজির খেলায় মত্ত হয়ে উঠে এবং প্রচুর আনন্দ উপভোগ করে অথচ এর মাধ্যমে যে তাদেরই ধোঁকা দেয়া হচ্ছে এই সম্পর্কে তারা বে-খবর।

এবার তাহলে জেনে নেয়া যাক এপ্রিল ফুলের মূল কাহিনী:
১৪৬৯ সালে এরাগন রাজা ফার্ডিন্যান্ড পর্তুগীজ রানী ইসাবেলাকে বিয়ে করেন। একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল যৌথ খ্রিষ্টান শক্তির মাধ্যমে স্পেন দখল করে মুসলমানদেরকে ধ্বংস করা। তাই বিয়ের পর থেকেই উভয় রাজা-রানী যৌথ সৈন্যবাহিনী গঠন করে, মুসলমানদের ধ্বংস করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। অবশেষে তারা মুসলমানদের অসতর্কতার সুযোগে স্পেনের রাজধানী গ্রানাডায় অতর্কিত হামলা চালায় এবং হত্যা করতে থাকে নিরীহ মুসলমানদের। খ্রিষ্টান সৈন্যরা অবরোধ করে রাখে মুসলিম জনপথগুলো।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় মুসলমানরা চতুর্দিকে ছুটাছুটি করতে থাকে। বাচার মরণপণ চেষ্টা চালায়, মুসলমানদের মহা বিপর্যয় পর্যবেক্ষণ করে ধূর্ত রাজা ফার্ডিন্যান্ড মুসলিম উম্মাহকে সমূলে ধ্বংস করার হিংস্র মনোভাব নিয়ে তার সৈন্যবাহিনীকে গ্রানাডার বিভিন্ন মসজিদ সমূহের পাশে আত্মগোপন করে সশস্ত্র অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দেন এবং মুসলমানদের উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলক ঘোষণা দেয় যে, যে সব মুসলমান অস্ত্র সমর্পণ পূর্বক গ্রানাডার মসজিদ সমূহে আশ্রয় নিবে তাদেরকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া হবে এবং যারা সমুদ্রের খ্রিষ্টান জাহাজ সমূহে আশ্রয় নিবে তাদেরকে অন্যান্য মুসলিম দেশে পৌঁছে দেয়া হবে।

অসহায় মুসলমানরা তাদের কথা বিশ্বাস করে আশ্রয় নেয় বিভিন্ন মসজিদ ও জাহাজ সমূহে। শিকার যেন ফাঁদে আটকা পড়ল। হিংস্র নরপিশাচের উদ্দেশ্য সফল হল। তৎক্ষণাৎ ধোঁকাবাজের নির্দেশে তার সৈন্যরা মসজিদ সমূহে তালাবদ্ধ করে আগুন লাগিয়ে দেয় ও মুসলমানগণের আশ্রিত জাহাজগুলো গহীন সমুদ্রে ডুবিয়ে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করে। প্রায় ৭ লাখ মুসলমানদের মধ্যে গুটিকয়েক ছাড়া সেই দিন উপস্থিত সবাই শাহাদাৎ বরণ করেন। মুসলমানদের নির্মম পরিণতি দেখে প্রতারক রাজা ফার্ডিন্যান্ড উল্লাস চিত্তে স্ত্রী ইসাবেলাকে জড়িয়ে ধরে বলতে থাকে “হায় মুসলিম তোমরা এত বোকা” সে মুসলমানদের নাম দিল ‘এপ্রিল ফুল’ অর্থ ‘এপ্রিলের বোকা’।

খ্রিষ্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ডের নেতৃত্বে মুসলমানদের যেভাবে বোকা বানিয়ে রাখার জন্য খ্রিষ্টান সমাজে এপ্রিল ফুল (এপ্রিলের বোকা) নামে এই রেওয়াজ চালু করা হয়। এটা ছিল ১লা এপ্রিলের ঘটনা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এক শ্রেণীর অজ্ঞ মুসলমান নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিক্ষা সংস্কৃতি ভুলে গিয়ে এপ্রিলের বোকার মত অন্ধভাবে পালন করে যাচ্ছে এপ্রিল ফুল (এপ্রিলের বোকা দিবস), অথচ তাদের জন্য এটা একটা চরম বিষাদের দিন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত