শিরোনাম
রং বেরং দেশে দেশে

যুগে যুগে জেরুজালেমের কান্না

জিয়া উল ইসলাম  |  ০২:৪৬, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৭

সাম্প্রতিক সময়ে জেরুজালেমের ভেতরে ও জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটাকে ঘিরে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যেকার সংঘর্ষও খুব সাধারণ ঘটনা। জেরুজালেম শহরটি একই সঙ্গে ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিমদের জন্য একটি পবিত্র ধর্মীয় নগরী। এ কারণে এর দখল এবং প্রবেশাধিকার নিয়ে বহু বছর ধরেই তীব্র দ্বন্দ্ব চলছে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মাঝে। এবার সেই জেরুজালেম নিয়ে লিখেছেন-জিয়া উল ইসলাম

পুরনো জেরুজালেম

আধুনিক জেরুজালেম শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত ০.৯ বর্গ কিমি. (০.৩৫ বর্গ মাইল) আয়তন বিশিষ্ট দেয়ালঘেরা অঞ্চল। ১৮৬০ সালে মিশকেনট শানানিম নামক ইহুদি বসতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অঞ্চলটি নিয়েই জেরুজালেম শহর গঠিত ছিল। পুরনো শহরটি ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু স্থানের অবস্থানস্থল, যেমন মুসলিমদের কাছে ডোম অব দ্য রক ও আল-আকসা মসজিদ, ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট ও পশ্চিম দেয়াল এবং খ্রিষ্টানদের কাছে চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়। ১৯৮১ সালে এই অঞ্চলটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। প্রথাগতভাবে পুরনো শহরটি চারটি অসমান অংশে বিভক্ত। তবে বর্তমান অবস্থাটি ১৯ শতক থেকে চালু হয়েছে। বর্তমানে শহরটি মোটামোটিভাবে মুসলিম মহল্লা, খ্রিষ্টান মহল্লা, ইহুদি মহল্লা ও আর্মেনীয় মহল্লা নামক ভাগে বিভক্ত। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর পুরনো শহরটি জর্ডান কর্তৃক অধিকৃত হয় এবং এর ইহুদি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হয়। ১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে টেম্পল মাউন্টের উপর দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি লড়াই হয়।
এসময় ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমের বাকি অংশসহ পুরনো শহর দখল করে নেয় এবং পশ্চিম অংশের সাথে একীভূত করে পুরো এলাকাকে ইসরায়েলের অন্তর্গত করে নেয়া হয়। বর্তমানে পুরো এলাকাটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন রয়েছে এবং তারা একে ইসরায়েলের জাতীয় রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। ২০১০ সালে জেরুজালেমের সর্বপ্রাচীন লেখার নমুনা পুরনো শহরের দেয়ালের বাইরে পাওয়া যায়। ১৯৮০ সালের জেরুজালেম আইন নামক আইন যেটিতে পূর্ব জেরুজালেমকে কার্যকরভাবে ইসরায়েলের অংশ ঘোষণা করা হয় তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ৪৭৮ দ্বারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে অধীকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলের অংশ হিসেবে গণ্য করে।

আধুনিক জেরুজালেম

সাম্প্রতিক সময়ে জেরুজালেমের ভেতরে ও জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটাকে ঘিরে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যেকার সংঘর্ষও খুব সাধারণ ঘটনা।
জেরুজালেম শহরটি একই সঙ্গে ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিমদের জন্য একটি পবিত্র ধর্মীয় নগরী। এ কারণে এর দখল এবং প্রবেশাধিকার নিয়ে বহু বছর ধরেই তীব্র দ্বন্দ চলছে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মাঝে। ইসরায়েল সবসময়ই জেরুজালেমকে তার রাজধানী হিসেবে বলে এসেছে। কিন্তু ইসরাইল রাষ্ট্রের আনুষ্ঠাণিক রাজধানী তেলআবিব শহরই প্রতিষ্ঠিত বিশ্বব্যাপী।
ফিলিস্তিনিদের দাবি, পূর্ব জেরুজালেম ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী। একেশ্বরবাদী তিনটি প্রধান ধর্মের পবিত্রস্থান বলে বিবেচিত বেশ কিছু স্থাপনা রয়েছে জেরুজালেমে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের পত্তনের পর বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক দল ও দেশের সমর্থন এই বিষয়ে এই দুটি দেশের মধ্যে ভাগ ভাগ হয়ে গেছে। কিন্তু সবাই সমর্থ হবে সেই ধরনের কোনো পরিকল্পনা আনা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে টেম্পল মাউন্টে দুজন ইসরাইলি পুলিশ অফিসারকে গুলি করে তিন আরব। এরপর নিরাপত্তার অজুহাতে এই এলাকায় দর্শনার্থী শূন্য করা হয় এবং ১৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুক্রবার মুসলিমদের প্রার্থনার জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় আল আকসা মসজিদে। ইতিহাসে জেরুজালেম শহরের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
এ পর্যন্ত ৫২ বার আক্রান্ত হয়েছে জেরুজালেম। অবরোধ, দখল ও পুনরুদ্ধার হয়েছে ৪৪ বার। ঘেরাও করা হয়েছে ২৩ বার এবং ধ্বংস করা হয়েছে ২ বার। বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো শহরটিতে একই সঙ্গে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক শক্তি জড়িত রয়েছে প্রবলভাবে। জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে সামনে আর কি কি দেখতে হবে সেটা সময়েই বলে দেবে।


মুসলিম মহল্লা

মুসলিম মহল্লা হল চারটি মহল্লার মধ্যে সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে জনবহুল অংশ। এটি উত্তর পূর্ব কোণে অবস্থিত। পূর্বে সিংহ দরজা থেকে শুরু করে টেম্পল মাউন্টের উত্তর দেয়াল নিয়ে পশ্চিমে দামেস্ক পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। ২০০৫ সালে এখানে ২২,০০০ জন বসবাস করত।
অন্য তিনটি মহল্লার মত মুসলিম মহল্লাতেও ১৯২৯ এর দাঙ্গার আগ পর্যন্ত মুসলিমদের পাশাপাশি ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা বসবাস করত। বর্তমানে ৬০ টি ইহুদি পরিবার এখানে বসবাস করে এবং এখানে কয়েকটি ইয়েশিভা রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হল আটেরেট কোহানিম।

খ্রিস্টান মহল্লা

খ্রিস্টানধর্মে জেরুজালেম খ্রিষ্টান মহল্লা। শহরের উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত। এটি উত্তরে নতুন গেট থেকে শুরু করে পুরনো শহরের পশ্চিম দেয়াল নিয়ে জাফা গেট সহ দক্ষিণে বিস্তৃত।
এর সাথে ইহুদি ও আর্মেনীয় মহল্লার সীমানা রয়েছে। পূর্বে দামেক্স গেটে মুসলিম মহল্লার সাথে এর সীমানা রয়েছে। এই মহল্লায় খ্রিষ্টানদের পবিত্রতম স্থান চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার অবস্থিত।

আর্মেনিয় মহল্লা

আর্মেনীয় মহল্লা চারটি অংশের মধ্যে ক্ষুদ্রতম। আর্মেনীয়রাও ধর্মে খ্রিষ্টান হলেও এটি খ্রিষ্টান মহল্লা থেকে আলাদা। ক্ষুদ্র আকৃতি ও জনসংখ্যা সত্ত্বেও এই অংশে আর্মেনীয় ও তাদের পেট্রিয়ার্কেট স্বাধীনভাবে অবস্থান করছে এবং শহরে সবল অবস্থান ধরে রেখেছে। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর চারটি মহল্লাই জর্ডানের অধিকারে আসে। জর্ডানের আইন অনুযায়ী আর্মেনীয় ও অন্যান্য খ্রিষ্টানদেরকে ব্যক্তিগত খ্রিষ্টান স্কুলে বাইবেল ও কুরআনের জন্য সমান সময় দেয়া নিয়ম ছিল এবং এতে চার্চর সম্পদ বাড়ানোতে বাধা ছিল। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধ এখানকার বাসিন্দাদের কাছে অলৌকিক ঘটনার কারণে স্মরণীয় হয়ে আছে।
এসময় আর্মেনীয় মনাস্টেরিতে দুটি অবিস্ফোরিত বোমা পাওয়া যায়। বর্তমানে ৩,০০০ এরও বেশি আর্মেনীয় জেরুজালেমে বসবাস করে যাদের মধ্যে ৫০০ জন আর্মেনীয় মহল্লায় থাকে। সেমিনারিতে অধ্যয়নরত বা চার্চে কর্মরত কিছু ব্যক্তি সাময়িক বাসিন্দাও এখানে রয়েছে।
পেট্রিয়ার্কেট এই মহল্লার জমির ও সেসাথে পশ্চিম জেরুজালেম ও অন্যান্য স্থানের মূল্যবান সম্পদের মালিকানা ভোগ করে। ১৯৭৫ সালে আর্মেনীয় মহল্লায় একটি ধর্মতাত্ত্বিক সেমিনারি স্থাপিত হয়। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলী সরকার যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত চার্চ বা যেকোনো ধর্মীয় স্থাপনা সংস্কারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়।

ইহুদি মহল্লা

ইহুদি মহল্লা শহরের দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। এটি দক্ষিণে জায়ন গেট থেকে পশ্চিমে আর্মেনীয় মহল্লা নিয়ে উত্তরে কারডো এবং পূর্বে পশ্চিম দেয়াল ও টেম্পল মাউন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত। এই মহল্লার সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে।
খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতক থেকে এখানে ইহুদিরা ধারাবাহিকভাবে বসবাস করে আসছে।
১৯৪৮ সালে এর ২,০০০ ইহুদিকে অবরোধ করা হয় এবং সবাইকে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। মহল্লাটি সম্পূর্ণরুপে অধীকৃত হয় ও এর প্রাচীন সিনাগগগুলো ধ্বংস করা হয়। ১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলী সেনারা দখল করার আগ পর্যন্ত এটি জর্ডানের অধিকারে ছিল। কয়েকদিন পর পশ্চিম দেয়ালে প্রবেশের রাস্তা উন্মুক্ত করতে ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী মরক্কোন মহল্লা ধ্বংস করে ফেলার আদেশ দেয়।
১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইহুদি মহল্লা পুনরায় নির্মাণ করা হয়।
এখানে বর্তমানে ২,৩৪৮ জন বাস করে (২০০৪ সালের হিসাব মতে) এবং বহু বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখানে গড়ে উঠেছে।
পুননির্মাণের আগে এখানে যতœসহকারে খননকার্য চালানো হয়। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতাত্ত্বিক নাহমান আভিগাদ এই কাজের তত্ত্বাবধান করেন। প্রাপ্ত প্রতœতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ জাদুঘর ও বাইরের পার্কে প্রদর্শন করা হয়।
এজন্য পর্যটকদেরকে বর্তমান শহরের দুই বা তিন তলা প্রযন্ত নিচে নামতে হয়। এই মহল্লায় “কারাইটেস স্ট্রিট” রয়েছে। এখানে প্রাচীন আনান বেন ডেভিড কেনেসা অবস্থিত।

মরোক্কান মহল্লা

পুরনো শহরে একটি ক্ষুদ্র মরোক্কান মহল্লাও ছিল। ছয় দিনের যুদ্ধ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর পশ্চিম দেয়ালে দর্শনার্থীদের বেশি সুবিধা দেয়ার জন্য এটি ধ্বংস করে ফেলা হয়।
যে অংশটি ধ্বংস করা হয়নি সেটি বর্তমানে ইহুদি মহল্লার অংশ হিসেবে রয়েছে। এরপর থেকে অমুসলিমরা মাগরিবি ব্রিজ দিয়ে টেম্পল মাউন্টে যেতে পারে। এটি অমুসলিমদের জন্য একমাত্র প্রবেশ পথ।

মসজিদ আল-আকসা

আল-আকসা মসজিদ বা বাইতুল মুকাদ্দাস নামেও পরিচিত) ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। জেরুজালেমের পুরনো শহরে এটি অবস্থিত। এটির সাথে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। স্থাপনাগুলো সহ এই পুরো স্থানটিকে হারাম আল শরিফ বলা হয়। এছাড়াও স্থানটি টেম্পল মাউন্ট” বলে পরিচত এবং ইহুদি ধর্মে পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। ইসলামের বর্ণনা অণুযায়ী মুহাম্মদ (সা) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল-আকসা মসজিদে এসেছিলেন এবং এখান থেকে তিনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রা করেন।
১৮৯০ সালে তৈরি “হারাম আস শরীফ” বা “আল-আকসার” নক্সা (ইহুদী ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বিদের নিকট টেম্পল মাউন্ট” নামে পরিচিত)। ইতিহাসবিদ পন্ডিত ইবনে তাহমিয়া বলেছেন ,” আসলে সুলাইমান (আঃ ) এর তৈরি সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটির নামই হল মসজিদুল আল-আকসা”। মুহাদ্দিসগণ এই বিষয়ে একমত যে সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটিই ইসলামের নবী সুলাইমান (আঃ) তৈরি করেছিলেন যা পরবর্তীতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল । ইসলামের নবী ইব্রাহিম (আঃ) (আব্রাহাম) জেরুসালেমেও একটি উপাসনার স্থান প্রতিষ্ঠা করছিলেন ।কাবা নির্মাণের চল্লিশ বছর পর (খ্রিষ্টপূর্ব ২১৭০) তিনি এটিকে আরও সম্প্রসারণ করেন যা পরবর্তীতে “বাইতুল মুকাদ্দাস” নামে পরিচিত হয়। মসজিদে হারামের তুলনায় দূরতম উপাসনার স্থান হওয়ায় , ইব্রাহিম (আঃ) এটিকে “মাসজিদুল আকসা’ বলেও উল্লেখ করতেন। তার পুত্র ইসহাক (আঃ) ও এখানে ইবাদত করতেন তবে তিনিও তার পিতার মত কাবাতে হজ করতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ইসহাক (আঃ) এর দ্বিতীয় পুত্র ইয়াকুব (আঃ) এই অঞ্চলের এক আল্লাহতে বিশ্বাসীদের জন্য উপাসনার স্থান হিসাবে এটিকে বর্ধিত করেছিলেন। পরবর্তিতে সুলায়মান (আঃ) এই উপাসনার স্থানটির স্থাপত্য (সেকেন্ড টেম্পল) তৈরি ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেন (খ্রিষ্টপূর্ব ১০০৪)। মুসলমানরা বিশ্বাস করে এই কাজে তিনি জ্বীনদেরকে নিয়োগ করেছিলেন। এবং আল্লাহ তায়ালা “গলিত তামার ঝরণা” প্রবাহিত করেছিলেন। এরপর ব্যবিলনের সম্রাট দ্বিতীয় নেবুচ্যাডনেজার; সুলায়মান (আঃ) এর তৈরি স্থাপত্যগুলি ধ্বংস করেন (খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮৬)। এই স্থান রাজা হেরোড দ্য গ্রেটের সময়(২০৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে) সম্প্রসারিত হয়। মসজিদটি একটি প্লাটফর্মের উপর অবস্থিত যা হেরোডের প্রকৌশলীরা বিভিন্ন স্থানগত অবস্থা কাটিয়ে উঠার জন্য নির্মাণ করেছিলেন। সেকেন্ড টেম্পলের সময় বর্তমান মসজিদের স্থানটিতে রয়েল স্টোয়া ( প্রশাসনিক ভবন) ছিল। এরপর ৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমানরা এটিকে ধ্বংস করে দেবতা জুপিটারের উপাসনার স্থানে পরিণত করেছিল। ৩১৫ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টানে রূপান্তরিত রোমান সমাজ এটিকে ময়লা ফেলার স্থানে পরিণত করে এবং এসময় ইহুদীরাও এটিকে তাদের পবিত্র স্থান বলে মনে করত না । একসময় ধারণা করা হত যে সম্রাট জাস্টিনিয়ানের সময় নির্মিত নিয়া চার্চ বর্তমান মসজিদুল আকসার স্থানে অবস্থিত ছিল। তবে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ইহুদি মহল্লার দক্ষিণ অংশে এর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়। ১৯৩০ এর দশকে সংস্কারের সময় সরিয়ে নেয়া কাঠের বীম ও প্যানেল বিশ্লেষণে দেখা যায় যে এগুলো লেবাননের সিডার এবং সাইপ্রেস দ্বারা নির্মিত ছিল। রেডিওকার্ব?ন ডেটিং পরীক্ষায় এর কিছু ৯ম শতাব্দীর বলে জানা গেছে। বর্তমান স্থাপনাটি উমাইয়া যুগের। দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব প্রথম এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। কয়েকজন মুসলিম পন্ডিত যেমন মুজিরউদ্দিন আল-উলাইমি, জালালউদ্দিন সুয়ুতি ও শামসউদ্দিন আল-মুকাদ্দাসি বলেন যে খলিফা আবদুল মালিক ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদ পুননির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন। সেসাথে তিনি কুব্বাত আস সাখরা নির্মাণ করেন। আবদুল মালিক মসজিদের কেন্দ্রীয় অক্ষ প্রায় ৪০ মিটার পশ্চিমে সরিয়ে আনেন যা হারাম আল শরিফ নিয়ে তার সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ ছিল। পুরনো অক্ষ একটি মিহরাব দ্বারা চিহ্নিত করা হয় যা “উমরের মিহরাব” বলে পরিচিত। কুব্বাত আস সাখরার উপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল মালিক তার স্থপতিদের দ্বারা নতুন মসজিদকে সাখরার সাথে এক সারিতে আনেন। অন্যদিকে ক্রিসওয়েলের মতে আবদুল মালিকের ছেলে প্রথম আল ওয়ালিদ মসজিদ পুননির্মাণ করেন এবং দামেস্কের কর্মরা এতে কাজ করে। অধিকাংশ পন্ডিতদের একমত যে মসজিদের পুননির্মাণ আবদুল মালিকের সময় শুরু হয় এবং আল ওয়ালিদের সময় তা শেষ হয়। ৭১৩-১৪ খ্রিষ্টাব্দে কয়েকটি ভূমিকম্পে জেরুজালেমের ক্ষতি হয় এবং মসজিদের পূর্ব অংশ ধ্বংস হয়। এ কারণে আল-ওয়ালিদের শাসনামলে পুননির্মাণের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
৭৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ভূমিকম্পে মসজিদুল আকসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর চার বছর পর আস-সাফাহ উমাইয়াদের উৎখাত করে আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বিতীয় আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর ৭৫৩ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদ পুননির্মাণের জন্য তার সংকল্প ব্যক্ত করেন এবং ৭৭১ খ্রিষ্টাব্দে তা সমাপ্ত হয়। ৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় একটি ভূমিকম্পের ফলে আল মনসুরের সংস্কারের সময়ের দক্ষিণ অংশ বাদে অনেক অংশ ধ্বংস হয়। ৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে তার উত্তরসুরি খলিফা আল-মাহদি এর পুননির্মাণ করেন। তিনি দৈর্ঘ্য কমিয়ে প্রস্থ বৃদ্ধি করেন। আল-মাহদির সংস্কার এ বিষয়ে প্রথম লিখিত বিবরণ বলে জানা যায় যা কাজের বর্ণনা প্রদান করে। ৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেমে জন্ম নেয়া আরব ভূগোলবিদ শামসউদ্দিন আল-মুকাদ্দাসি লিখেছেন যে এসময় মসজিদে পনেরটি দরজা ও মুসলিমদের ধারণের জন্য উত্তর দক্ষিণ বরাবর পনেরটি সারি ছিল। সালাহউদ্দিনের মিম্বরের দরজা, ১৯০০ এর দশকের প্রথমভাগ। নুরউদ্দিন জেনগির নির্দেশে এটি নির্মিত হয় তবে সালাহউদ্দিন এটি স্থাপন করেন।
সালাহউদ্দিনের মিম্বরের দরজা, ১৯০০ এর দশকের প্রথমভাগ। নুরউদ্দিন জেনগির নির্দেশে এটি নির্মিত হয় তবে সালাহউদ্দিন এটি স্থাপন করেন।১০৩৩ খ্রিষ্টাব্দে আরেকটি ভূমিকম্প হয় ফলে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফাতেমীয় খলিফা আলি আজ-জাহির ১০৩৪ থেকে ১০৩৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মসজিদ পুননির্মাণ ও সংস্কার করেন। এসময় মুসলিমদের ধারণের জন্য পনেরটি মূল সারির সংখ্যা কমিয়ে সাতটি করা হয়। আজ-জাহির কেন্দ্রীয় কক্ষের চারটি তোরণ এবং করিডোর নির্মাণ করেন যা বর্তমানে মসজিদের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তারা মসজিদকে সলোমনের মন্দির” এবং কুব্বাত আস সাখরাকে টেমপ্লমাম ডোমিনি (ঈশ্বরের গম্বুজ) নাম দেয়। কুব্বাত আস সাখরা এসময় অগাস্টিনিয়ানদের তত্ত্বাবধানে গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া শুরু হয়, আল-আকসা মসজিদকে রাজপ্রাসাদ ও পাশাপাশি ঘোড়ার আস্তাবল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১১১৯ খ্রিষ্টাব্দে একে নাইটস টেম্পলারদের সদরদপ্তর করা হয। এ সময মসজিদে কিছু অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে ছিল উত্তরের বারান্দা সম্প্রসারণ, অতিরিক্ত এপস যোগ এবং একটি বিভক্তকারী দেয়াল নির্মাণ। কিছু স্থাপনার পাশাপাশি একটি নতুন মঠ ও গির্জা নির্মিত হয। টেম্পলাররা দালানের পশ্চিম ও পূর্বে খিলানযুক্ত বর্ধি?তাংশ নির্মাণ করে যার মধ্যে পশ্চিমেরটি বর্তমানে মহিলাদের নামাজের জায়গা এবং পূর্বেরটি ইসলামি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে আইযুবীয়রা জেরুজালেম জয় করার পর মসজিদুল আকসায় কয়েকটি সংস্কার সাধিত হয়। জুমার নামাজের জন্য মসজিদকে প্রস্তুতের নিমিত্তে জেরুজালেম জয়ের এক সপ্তাহের মধে ক্রুসেডারদের স্থাপন করা টয়লেট ও শস্যের গুদাম সরিয়ে ফেলা হয।, মেঝে দামি কার্পেটে আচ্ছাদিত করা হয, এবং ভেতরের অংশ গোলাপজল এবং সুগন্ধি দিয়ে সুগন্ধযুক্ত করা হয়। সালাহউদ্দিনের পূর্বসূরি জেনগি সুলতান নুরউদ্দিন জেনগি ১১৬৮-৬৯ খ্রিষ্টাব্দে হাতির দাঁত ও কাঠ দিয়ে একটি মিম্বর নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন যা তার মৃত্যুর পর নির্মাণ সমাপ্ত হয়। নুরউদ্দিনের মিম্বরটি সালাহউদ্দিন মসজিদে স্থাপন করেন। দামেস্কের আইয়ুবী সুলতান আল-মুয়াজ্জাম ১২১৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনটি ফটকসহ উত্তরের বারান্দা নির্মাণ করেন। ১৩৪৫ খ্রিষ্টাব্দে আল-কামিল শামানের অধীনে মামলুকরা পূর্ব দিকে আরো দুটি সারি ও ফটক যুক্ত করে। উসমানীয়রা ১৫১৭ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতা নেয়ার পর মসজিদের কোনো বড় পরিবর্তন করেনি কিন্তু পুরো হারাম আল শরিফে সামগ্রিকভাবে পরিবর্তন আনা হয়। এসময় কাসিম পাশার ফোয়ারা (১৫২৭) নির্মিত হয়, রারাঞ্জ সেতু সংস্কার এবং তিনটি মুক্ত গম্বুজ নির্মিত হয়। এসকল স্থাপনা জেরুজালেম গভর্নরগণ নির্মাণ করিয়েছিলেন। সুলতানগণ মিনারের সম্প্রসারণ করেন। ১৮১৬ খ্রিষ্টাব্দে গভর্ণর সুলাইমান পাশা আল-আদিল জীর্ণ অবস্থার কারণে মসজিদ সংস্কার করেন। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে বিশ শতকের প্রথম সংস্কার সাধিত হয়। এসময় জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি মুহাম্মদ আমিন আল-হুসাইনির অধীন সুপ্রিম মুসলিম কাউন্সিল তুর্কি স্থপতি মিমার কামালউদ্দিন বেকে মসজিদুল আকসা ও এর পরিপার্শের স্থাপনাগুলো সংস্কারের জন্য দায়িত্ব দেয়। ১৯২৭ ও ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ভূমিকম্পে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তবে ১৯৩৮ ও ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে তা সারিয়ে তোলা হয়।

জেরুজালেম নিয়ে ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব

ইসরাইল রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার পর থেকে জেরুজালেম নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের দ্বন্দ চলমান রয়েছে। বেশিরভাগ ফিলিস্তিনদের তাদের ভূখন্ড থেকে বিতাড়িত করে ইসরাইল রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি ফিলিস্তিনিরা মেনে নিতে পারেনি। ইহুদী আইনমতে ইহুদীদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে টেম্পল মাউন্টে প্রার্থনা করার। তারপরও ইসরাইলি সেনারা টেম্পল মাউন্টে শত শত ইহুদীদের রুটিনমাফিক সেখানে প্রবেশ করতে দেয়। আর তাতেই ফিলিস্তিনিদের ধারণা ইসরাইল এই জায়গায় আরো বেশি প্রভাব বিস্তার করে ফেলবে। সম্প্রতি কিছু ইসরাইলি গ্রুপ টেম্পল মাউন্টে তৃতীয় ইহুদী মন্দির বানানোর পরিকল্পনা করছে। আর সেই সিদ্ধান্তই এই এলাকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। আর একই সঙ্গে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দুই দেশই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী করতে আগ্রহী। ১৯৮০ সালে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তখন তাদের এই সিদ্ধান্তে কোনো স্বীকৃতি জানায়নি। ২০১৭ সালের মে মাসে ফিলিস্তিনের হামাস গ্রুপ একটি ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে। সেখানে জেরুজালেমকে রাজধানী করে নতুন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নতুন করে গঠনের কথা বলা হয়। তারা ইসরাইলকে কোনো রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও অস্বীকৃতি জানায়। যদিও ইসরাইল সরকার সেটা বাতিল করে দেয়।

প্রবেশপথ 

ক্রুসেডার রাজ্য জেরুজালেমের সময় জেরুজালেমের পুরনো শহরে চারটি ফটোক ছিল। এদের প্রত্যেকটি একেক পাশে অবস্থিত ছিল। বর্তমানে অবস্থিত দেয়ালগুলো প্রথম সুলায়মান কর্তৃক নির্মিত হয় ও এর ফটক সংখ্যা এগারোটি।
তবে সাতটি উন্মুক্ত রয়েছে। ১৮৮৭ সাল পর্যন্ত ফটকগুলো সূর্যাস্তের আগে বন্ধ করে দেয়া হত ও সূর্যোদয়ের সময় বন্ধ করে দেয়া হত। নিম্নোক্ত চার্ট অনুযায়ী ফটকগুলো বিভিন্ন নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়কালে ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মাধ্যমে নামগুলো চালু হয়।

ইতিহাস

বাইবেল অনুযায়ী, খ্রিষ্টপূর্ব ১১শ শতকে রাজা দাউদের জেরুজালেম জয়ের পূর্বে শহরটি জেবুসিয়দের বাসস্থান ছিল। বাইবেলের বর্ণনা মতে এই শহর মজবুত নগরপ্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। রাজা দাউদ কর্তৃক শাসিত শহর যেটি দাউদের শহর বলে পরিচিত তা পুরনো শহরের দেয়ালের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত। তার পুত্র রাজা সুলায়মানের শহরের দেয়াল সম্প্রসারিত করেন। এরপর ৪৪০ খ্রিপূর্বের দিকে পারস্য আমলে নেহেমিয়া ব্যবিলন থেকে ফিরে আসেন ও এর পুননির্মাণ করেন। ৪১-৪৪ খ্রিষ্টাব্দে জুডিয়ার রাজা আগ্রিপ্পা “তৃতীয় দেয়াল” নামক নতুন নগরপ্রাচীর নির্মাণ করেন। ৭ম শতকে (৬৩৭ সালে) খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাবের শাসনামলে মুসলিমরা জেরুজালেম জয় করে। খলিফা উমর একে মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তিনি শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুক্তিবদ্ধ হন। জেরুজালেম অবরোধের পর
সফ্রোনিয়াস খলিফা উমরকে স্বাগতম জানান। কারণ জেরুজালেমের চার্চের কাছে পরিচিত বাইবেলের একটি ভবিষ্যতবাণীতে “একজন দরিদ্র কিন্তু ন্যায়পরায়ণ ও শক্তিশালী ব্যক্তি” জেরুজালেমের খ্রিষ্টানদের রক্ষক ও মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হবেন এমন উল্লেখ ছিল। সফ্রোনিয়াস বিশ্বাস করতেন যে সাদাসিধে জীবনযাপনকারী বীর যোদ্ধা উমর এই ভবিষ্যতবাণীকে পূর্ণ করেছেন। আলেক্সান্দ্রিয়ার পেট্রিয়ার্ক ইউটিকিয়াসের লেখা, উমর চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার পরিদর্শন করেন ও উঠোনে বসেন। নামাজের সময় হলে তিনি চার্চের বাইরে গিয়ে নামাজ আদায় করেন যাতে পরবর্তীতে কেউ তার নামাজের কারণকে ব্যবহার করে কেউ পরবর্তীকালে এই চার্চকে মসজিদে রূপান্তর না করে। তিনি এও উল্লেখ করেন যে উমর একটি আদেশনামা লিখে তা পেট্রিয়ার্ককে হস্তান্তর করে। এতে উক্ত স্থানে মুসলিমদের প্রার্থনা করতে নিষেধ করা হয় বলে ইউটিকিয়াস উল্লেখ করেন। ১০৯৯ সালে প্রথম ক্রুসেডের সময় ইউরোপীয় খ্রিষ্টান সেনাবাহিনী জেরুজালেম দখল করে এবং ১১৮৭ সালের ২ অক্টোবর সুলতান সালাহউদ্দিন আইযুবী কর্তৃক তা বিজিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এতে তাদের কর্তৃত্ব বহাল ছিল। তিনি ইহুদিদেরকে শহরে বসবাসের অনুমতি দেন।
১২১৯ সালে দামেস্কের সুলতান মুয়াজ্জিম নগরের দেয়াল ধ্বংস করেন। ১২৪৩ সালে মিশরের সাথে চুক্তি অনুযায়ী জেরুজালেম জার্মানির দ্বিতীয় ফ্রেডেরিখের হস্তগত হয়। ১২৩৯ সালে তিনি দেয়াল পুননির্মাণ করেন। কিন্তু কেরাকের আমির দাউদ সেগুলোকে ধ্বংস করে দেন। ১২৪৩ সালে জেরুজালেম পুনরায় খ্রিষ্টানদের দখলে আসে এবং দেয়ালগুলো সংস্কার করা হয়। ১২৪৪ সালে খোয়ারিজমিয় তাতাররা শহরটি দখল করে এবং সুলতান মালিক আল-মুয়াত্তাম নগরপ্রাচীর ভেঙে ফেলেন। ফলে শহর আবার প্রতিরক্ষাহীন হয়ে পড়ে এবং শহরের মর্যাদা হুমকির মুখে পড়ে।
পুরনো শহরটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য ১৯৮০ সালে জর্ডান প্রস্তাব করে। ১৯৮১ সালে এটিকে তালিকাভুক্ত করা হয়। ১৯৮২ সালে জর্ডান একে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে গণ্য করার অনুরোধ জানায়। জর্ডানের এখতিয়ার নেই উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র এই অনুরোধের বিরোধিতা করে। সেসাথে এও উল্লেখ করে যে এক্ষেত্রে ইসরাযেলের সম্মতি প্রয়োজন কারণ তারা প্রত্যক্ষভাবে ইসরায়েলের নিযন্ত্রণ করছে। ২০১১ সালে ইউনেস্কো বিবৃতি দেয় যে তারা পূর্ব জেরুজালেমকে অধীকৃত ফিলিস্তিনি এলাকার অংশ বলে গণ্য করে এবং জেরুজালেমের অবস্থান স্থায়ী ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত