শিরোনাম

নীলসাগর হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র

প্রিন্ট সংস্করণ॥ আল-আমিন, নীলফামারী  |  ০৪:৪৩, নভেম্বর ২৭, ২০১৭

নীলফামারী জেলার দর্শনীয় ও বিনোদনের স্থানের নাম হচ্ছে নীলসাগর। এটি একটি বিশাল দীঘি। এই দীঘির সৌন্দর্য্য খুব সহজেই মানুষের মন কেড়ে নেয়। মনোরম পরিবেশ, বিভিন্ন গাছপালা, মাছ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, মুক্ত হাওয়া, অতিথি পাখির কলতান, প্রাচীন গাছ, মন্দির, মসজিদ, গেস্ট হাউসসহ সব কিছু দেখলেই হৃদয়ে অনাবিল শান্তি এনে দেয়। শীতকালে বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির কলতানে মুখর থাকে এখানকার পরিবেশ। প্রশাসনের সুষ্ঠু নজরদারি ও একটু প্রচার পেলে এটি হতে পারে দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।
অবস্থান: নীলসাগর দীঘিটি নীলফামারী জেলা সদর থেকে উত্তর-পশ্চিম কোণে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে গোড়গ্রাম ইউনিয়নে অবস্থিত। দীঘিটির আয়তন ৫৩ দশমিক ৯০ একর। দীঘির পুকুরের পানির পরিমাণ ৩৩ একর। পাড়ের গাছপালাসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থান ২০ দশমিক ৯০ একর।
পানির গভীরতা ২৭ থেকে ৩২ফুট, পুকুরে ২৬ থেকে ৩০ কেজি ওজনের মাছ আছে। নীলসাগর দীঘির গড় আয় বার্ষিক ৬ লাখ টাকার ওপর। দূর দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে টিকিট কেটে মাছ ধরেন।
ইতিহাস : আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীর কোন এক সময়ে এ জলাশয়টির খননকাজ শুরু হয়েছিল। নীল সাগর বিরাট দীঘি ও ‘বিন্না দীঘি নামেও পরিচিত ছিল। হিন্দুশাস্ত্রমতে, খ্রিস্টপূর্ব নবম হতে অষ্টম শতাব্দীতে পান্ডবরা কৌরবদের চক্রান্তের শিকার হয়ে ১২ বছরের বনবাস ও ১ বছরের অজ্ঞাতবাসে যেতে বাধ্য হন এবং মৎস্য দেশের রাজা বিরাটের রাজধানীর এ স্থানটিতে ছদ্মবেশে বসবাস শুরু করেন। মনে করা হয়, সেসময় নির্বাসিত পা-বদের তৃষ্ণা মেটাতে বৈদিক রাজা বিরাট এ দীঘিটি খনন করেছিলেন। বিরাট দীঘির অপভ্রংশ হিসেবে কালক্রমে এ দীঘিটি বিরাট দীঘি, বিল্টা দীঘি এবং অবশেষে বিন্না দীঘি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
কারো কারো মতে, রাজা বিরাট তার বিশাল গরুর পালের জন্য পানির সংস্থান করতেই এ দীঘি খনন করেন এবং তার কন্যা বিন্নাবতীর নামে এর নামকরণ করেন বিন্নাদীঘি। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে নীলফামারীর তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব এম.এ জব্বার কর্তৃক এই দীঘিকে পর্যটনক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত করতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। নীলফামারীর নামানুসারে বিন্না দীঘির পরিবর্তে এর নামকরণ করা হয় নীলসাগড় দীঘি। নীলসাগরের আকর্ষণ : প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে জন্যই মূলত নীলসাগর বিখ্যাত। এর পাড়ে রয়েছে নারকেল, বনবাবুল, আকাশমণি, মেহগনি, শিশুসহ অজানা-অচেনা হরেকরকম ফুল ও ফলের সারি সারি বৃক্ষরাজি। শীতকালে বিভিন্ন দেশের রাজহাঁস, মার্গেঞ্জার, মাছরাঙা, ভুবনচিল, সবুজ চান্দি ফুটকি, বাচাল নীল ফুটকি ইত্যাদি অতিথি পাখিদের সমাগমও বৃদ্ধি পায়, এছাড়াও পাশেই রয়েছে একটি ছোট পার্ক। ১৯৯৮ সালে এ এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৯ সালে তৎকালীন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ রাশেদ মোশারফ এ অভয়ারণ্যের উদ্বোধন করেন। এখানে প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে সনাতন (হিন্দু) সম্প্রদায় বারুণী স্নান উৎসবের আয়োজন করে থাকে। দীঘির পাশেই সরকারের অনুদানে একটি রেস্টহাউস স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে টিকিট নিয়ে সুন্দর নিরীবিলি পরিবেশে পর্য়টকগণ থাকতে পারেন। নীলসাগর দীঘির ম্যানেজার নির্মল চক্রবর্তী বলেন, প্রতিদিন এখানে শতশত লোক ভ্রমণে আসেন। আমরা এতো বড় দীঘিতে ৫ জন ব্যক্তি দেখাশুনা করে থাকি। নীলসাগর দীঘির চারিদিকে সীমানা প্রাচীরের উচ্চতা কম হওয়ায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা কিছুটা বিঘিœত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো জানান,সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রতœতাত্ত্বিক জাদুঘরের নির্ধারিত স্থান তৈরি করা হয়েছে। সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য এ অর্থবছরে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক ৬৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই টাকা দিয়ে সৌন্দর্য্য বাড়ানো চেষ্টা চলছে। নীলসাগড়দীঘির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম। এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী বেলাল হোসেন বলেন, নীলসাগড় দীঘির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য আমরা সকলে চেষ্টা চালাচ্ছি।
আমাদের চেষ্টায় ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে নীলসাগরের সৌন্দর্য্য আরো বাড়বে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা এ বছর ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি যা দিয়ে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে, ২ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।
আগামীতে এলজিইডি প্রকল্পে ১০/১৫ কোটি টাকার কাজ করা হবে, আমাদের পরিকল্পনায় আছে। আর দীঘির পূর্বদিকে ৪ একর জমির উপড় প্রতœতাত্বিক যাদুঘর নির্মাণ করা হবে।
আমি নিজেই অনেক চেষ্টা করছি নীলসাগর দীঘিকে আরো ভালো করার। এটি যাতে দেশ সেরা পর্যটন কেন্দ্র হয় সে জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত