শিরোনাম

আত্মহত্যা এবং জীবনে ফেরা

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১৩:০৮, নভেম্বর ১১, ২০১৭

মানুষের জীবনে কখনো কখনো এমন কিছু ঘটনা ঘটো যখন মানুষে কোন দিকে যাওয়ার কোন রাস্তা থাকে না তখন মানুষ বুঝতে পারে না কি করবে। মানুষ অসহায় হয়ে যায় আবার জীবনে কিছু মহুত্ব আসে যখন প্রিয় মানুষ কে হারানো বেদনায় মনে কষ্টের পাহাড় জমে যায় যে কথা কারো সাথে শেয়ার করাও যায় না। তখন মানুষ ভাবে মরে গেলে হয়তে বেঁচে যাবে তখনই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্ত আত্মহত্যা যে মহাপাপ। এই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত থেকেও যে বাঁচা যায় সেই আত্মহত্যা এবং ফিরে আসাকে নিয়ে লিখেছেন জিয়া উল ইসলাম

আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার বাস্তব গল্প

রাজ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। চাকরি করে একটি কোম্পানিতে এ্যাসিস্টেন ম্যানেজার হিসাবে। সে একটি মেয়েকে ভালবাসে নাম রাত্রি। মেয়েটিকে প্রচণ্ড ভালবাসে রাজ তার আমার জীবনের থেকেও অনেক বেশি। ক্লাস সেভেন থেকে পরিচয় রত্নার সাথে। প্রথম দেখা হয় ওদের সিরাজগঞ্জ সবুজ কানন স্কুলে। এরপর ওদের প্রথম কথা গ্রামীন রেস্তোরায় সামনা সামনি বসে। এর পর চললো ওদের মোবাইলে লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বলা, গান শুনা, কবিতা বলা আর নানা কাহিনী। এর ভিতর রাজ পড়াশুনার জন্য চলে গেল বগুড়ায়। তাও তাদের দেখা ও কথা বলা থেমে থাকেনি। মাঝে মাঝে দেখা হতো, আবার রাগ অভিমান সবই হতো। আবার তার দুইজন দুইজনকে ঠিকই বুঝতো, আসলে রাজ ওকে অনেক ভালবাসতো। এর ভিতর রত্নার এস এস সি পরীক্ষা শুরু হলো-এক বিষয়ে ফেল করলো রাত্রি দোষ দিলো রাজের। রাজের সাথে কথা বলে আর জন্যই নাকি ফেল করছে রাত্রি। একথা জেনে গেল রাত্রি বাবা। রাত্রি বাবা সরকারী চাকরী করে। রাত্রির ফেল করার জন্য রাত্রি কিছুদিন রাজের সাথে কথা বললো না। কিন্ত রাজ তো রাত্রিকে অনেক ভালবাসে। রাত্রির কন্ঠ না শুনলো রাজের ঘুম আসতে না। রাত্রি র সাথে কথা না বললে রাজের কোন কিছু ভাল লাগতো না। পড়াশুনারও মন বসতো না। তাই ফোন রাজ ওকে, মাঝে মাঝে রাত্রি ফোন ধরতো, আবার ধরতো না। এসব নিয়ে একদিন ঝগড়া হলো পরদিন রাত্রির বাবা সরকারী চাকরীর প্রভাব ঘাটিয়ে রাজের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে দিল। যেন রাজ রাত্রিকে ফোন না করে, ওকে ভুলে যায়। কিন্ত সত্যিকারের ভালবাসা কি ভোলা যায়। পুলিশ দিয়ে কি আর ভালবাসা থামানো যায়। রাজের ক্ষেত্রেই তাই হলো রাত্রি ভুলতে পারলো না। এর ভিতর ও একদিন অন্য মোবাইল নং দিয়ে রাজকে মিস কল দিলো রাত্রি এর পর আবার তার দুইজন আগে মতই কথা বলতে শুরু করলো।
এভাবে কেটে গেল ওদের অনেক দিন। কত রাত যে জেগে জেগে কথা বলেছে ওরা তার কোন ব্যাখা নেই। রাজের বাবা মারা গেল রাত্রির জন্য। কারণ রাজের বাবা মেনে নিতে পারেনি বাড়িতে পুলিশ যাওয়াকে; এখানে তো কোন হত্যা বা মারামারি হয়নি এখানে কেন পুলিশ আসবে, রাত্রির বাবা রাজের বাবা কে বলতে পারতো যেহেতু রাজ ও রাত্রির একি জায়গায় বাসা। যাইহোক রাজ বগুড়া থেকে ঢাকায় আসলো ইউনিভাসিটিতে ভর্তি হলো। ওদের দুইজনের প্রেম ভালবাসা আরও বেড়ে গেল। রাত্রি ভর্তি হলো সিরাজগঞ্জ ষ্টেডিয়াম এর সামনে বেসরকারি প্যারামেডিকেলে। এর পর তারা দুইজন দেখা করতো স্টেডিয়াম এর ভিতর। আবার দুইজন ঘুরেছে রিকসা নিয়ে যমুনার ক্লোজার সহ কত জায়গায়। খেয়েছে আরমানি সহ কত রেস্তোরায়। ঢাকা থেকে রাজ গেলে দেখা করেছে রাত্রির সাথে। রাত্রি থাকতো আমবাগান সরকারী কোয়াটারে। রাতে ভয়ে ভয়ে দেখা করতো দুইজন কোয়াটারে রাস্তায়। কারণ রাত্রি ওর বাবার ভয়ে বের হতে পারতো না। এর পর রাজ একদিন চাকরীর জন্য ইন্টাভিউ দিচ্ছে বাংলামটর এস এম ই ফাউন্ডেশনে। পরীক্ষা দিচ্ছে লিখিত, রাত্রির মিস কল এলো রাজের মোবাইলে, কিন্ত রাজের পরীক্ষা শেষ না হলো তো আর ব্যাক করা যায় না। পরীক্ষা শেষ হলো একঘন্টা পর এর পর নিচে নেমে রত্নাকে ফোন দিলো রাজ। রাত্রির ফোন ধরলো। বললো কি হয়েছে। রাজ বললো আমি চাকরী ইন্টাভিউ দিচ্ছি। রাত্রি বললো আজ আমার বিয়ে। রাজ বললো কোথায় সে বললো পাবনা নানী বাড়িতে। আমাকে নানীর অসুখ এই কথা বলে নানীর বাসায় এনে বাবা মা বিয়ে দিচ্ছে। তখন রাজের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো। রাজ বললো আমি ইন্টাভিউ দিচ্ছি তোমার জন্য। রাত্রি বললো এখন কিছুই করার নেই। রাজ বললো আমি আর কি করবো আমিতো বেকার এবং ঢাকায়। লিখিত পর ভাইবা পরীক্ষা ছিল রাজের ভাইবা পরীক্ষা না দিয়ে চলে আসলে রাজ বাসায়। এসে অনেক কান্নাকাটি করলো। কারন রাত্রিকে রাজ অনেক ভালবাসে, যাইহোক প্রতিটা দিন রাজের কষ্টে কাটতে লাগলো। রাত্রিকে রাজ কিছুতেই ভুলতে পারলো না। এভাবে এক মাস কেটে গেল। হঠাৎ একদিন মিস কল আসলো রাত্রির। রাজ বললো কে, রাত্রি বললো আমি, আমি কে, রাত্রি, রাজ বললো কোমন আসিশ, রাজ রাত্রিকে তুই করে বেশি বলতো তুমি করে খুবই কমই বলতো, রাত্রি বললো ভাল না, রাজ বললো কেন, সে বললো করিম আমাকে ভালবাসে না। করিম হচ্ছে রাত্রির নতুন বর। রাজ আবার বললো কেন, রাত্রি বললো করিম অন্য মেয়েকে ভালবাসা। এর পর তারা দুইজন একটু একটু করে কথা বলতো শুরু করলো। রাত্রি প্রতি রাতে কান্না করতো করিম এর জন্য রাজ ওকে বুঝাতো, রাত্রি অনেক বার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল রাজ ওকে বুছিয়েছে সারারাত ফোনে কথা বলে। এরপর রাত্রি করিম এর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। রাত্রি আবার আগের মত কথা বলতে শুরু করলো রাজের সাথে। রাত্রি বলতো মনে হয় আমাদের দুইজনের ভাগ্যে বিয়ে আছে সেই জন্য করিম এর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়েছে। রাজ বলতো মনে হয় তাই হবে। যাইহোক রাত্রি ঢাকা আসলো ট্রেনিং করতে ৬ মাসের জন্য। রাত্রি প্রথমে মোহাম্মাদপুর থাকলো, মোহাম্মাদপুর থেকে রাজের সাথে দেখা হতো। রাজ থাকতো মিরপুর ১ আনসার ক্যাম্প কোয়াটারে। এরপর রাত্রি ফার্মগেট মনিপুরি পাড়ায় থাকলো। ওদের দুইজনে দেখা হতো প্রায়ই। কথা হতো। একবার রাত্রির প্রচণ্ড জর ও রাজ ওকে নিয়ে ওষুধ কিনে দিলো। আসলে রাত্রিকে রাজ প্রচণ্ড ভালবাসতো। রাজ রাত্রির সাথে কথা বললেই শান্তি পেত। দেখা হলে মন ভরে যেত, এভাবে ওদের কেটে গেল ১০ টি বছর। এর ভিতর রাজ চাকরি পেয়ে গেল একটি টেলিভিশন চ্যানেলে। প্রোগ্রাম প্রডিউসর। তাই তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান তৈরি করতে হতে। রাত্রি রাজকে বলতো মা বলেছে টেলিভিশনে যারা চাকরী করে তারা ভাল না। মেয়েদের সাথে চলাফেরা করে তাই রাজের সাথে তোর বিয়ে হবে না। এছাড়া রাজকে নাকি ওদের কেউ পছন্দ করে না। রাজ এই কথা শুনে রাত্রি কে বললো আমি কি করেছি আমি তোকে ভালবাসি, বিয়ে করবো এখানে বিয়ে দেবে না কেন রাত্রি বললো আব্বা বলেছি রাজ কোটে ফাইল নিয়ে উকিল দের পিছে পিছে দৌড়া দৌড়া করে। আসলো রাত্রির বাবা রাজ কে ভুল বুঝেছে।
এর পর একবার রাত্রি সহ ও তিন বান্ধবী শপিং করার জন্য ঢাকায় আসলো থাকলো রাজের বাসায়, ওরা রান্না করলো খাওয়া দাওয়া করলো ইত্যাদি রাত্রির মা নিজে রাজকে ফোন করে বললো ওরা তোমার ওখানে যাচ্ছে একটু তোমার কষ্ট হলো দেখো। তারপর রাত্রির ছোট বোন অসুস্থ হয়ে শাহাবাগে বারডেম হসপিটালে ভর্তি হলো তখন রাজ দেখতে গেল ফল নিয়ে, তখন রাত্রির বাবা ছিল। রাত্রির বাবা রাজকে দেখেছিল কিনা কিন্ত রাত্রি মা রাজের সাথে কথা বললো। এরপর ও ছোট বোনকে জম্মদিনের কেক কিনে দিয়েছে রাজ, রাত্রি ছিল। একদিন রাত্রি রাজকে ফোন করে বললো এখনো টেবিল ফ্যান কিনে আনবা আমার বোনের জন্য উত্তরার। রাজ বললো আমি তো অফিসে থেকে বের হবো রাত ৯ টায়। রাত্রি বললো ৯টা হোক ১০টা হোক আজকে লাগবে আজকেই চাই। রাত্রি একটু জিদি মেয়ে যখন যা চাই তাই করবে। রাজ অফিস থেকে বের হয়ে ফ্যান কিনে উত্তরা দিয়ে দিলো। এরপর একদিন রাত্রি আর ওর বোন রাজের বাসায় আসলো পোলা রান্না করবে। কিন্তু পোলা রান্না করতে পারো না রাত্রির মাকে ফোন করে শুনলো কিভাবে রান্না করতে হয়। রাজ রাত্রিকে অনেক কিছু গিফট দিয়েছে কিন্ত রাজকে একটি গেঞ্জি কিনে দিতে চেয়েছিল কিন্ত কখনো দেইনি। রাত্রিকে রাজের খুব ভাল লাগতো, ওর হাসি। ওর দুষ্টামি। রাত্রি প্রতিদিন সেজে ছবি দিত রাজের ফেসবুক ইনবক্স এ। কখনে চুড়ি পড়ে, কখনে হিজাব পড়ে, কখনোর আলো অন্ধকারে আসলে রাজ ভেবেছে রাত্রি রাজকে সত্যি ভালবেসেছে। আর তাই রাজ টেলিভিশনের চাকরী ছেড়ে একটি লিঃ কোম্পানীর চাকরি করছি এখন। কিন্ত এত কিছুর পর ও রাত্রি রাজকে এখন বলে আমি তোকে ভালবাসি না বা ১০ বছরের কোন দিন ভালবাসিনি। অথচ রাজ রাত্রিকে ছাড়া অন্য কোন মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেনি। তাহলে এখন রাজের বেঁচে থেকে লাভ কি।
বুকের যে কষ্ট সেটা আর সইতে পারছি না রাজ। রাজ মরে যাচ্ছে, কষ্টে কান্নায় বালিশ ভিজে যাচ্ছে তবু রাজেরই দোষ। রাজ কেন ও বাবা মাকে বিয়ের প্রস্তাব দেইনি; আর রাত্রি চুরি করে বিয়ে করেছে তার স্বার্থের জন্য তার ভষিতেৎ জন্য রাজকে একটু জানাইনি আমি বিয়ে করলাম। বা জানানো প্রয়োজন মনে করিনি। একথা রাত্রি নিজেই রাজকে বলে। রাজের মরে গেলেও ওর কোন কষ্ট হবে না। রাজ নাকি ১০ বছর ধরে একাই রাত্রিকে ভালবাসে। তাহলে রাজ কি ভাবে বাচবো এত বড়কষ্ট নিয়ে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি রাজ আত্নাহত্যার করার। মরে গেল আর কষ্ট সইতে হবে না। কারণ রাজ তো আর পারছে না রত্নাকে ছাড়া বাচতে। যেখানে তাকাই শুধু রাত্রিকে দেখতে পায়। শুধু কান্না করে রাজ। আর কান্না করতে পারছে না ...।
কিন্ত এর পরও এত বড় কষ্ট বুকে নিয়ে রাজ আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে তার পরিবারে কথা চিন্তা করে। আর আত্মহত্যার যে মহাপাপ এটা ভেবে।

যে গান শুনলে এখনো মানুষ আত্মহত্যা করে...

রোববারের ব্যস্ত বিকালে একশোটি সাদাফুল হাতে
তোমার অপেক্ষায় ছিলাম হে প্রিয়।
প্রতি রোববার স্বপ্ন খুঁজতে খুঁজতে ফুরিয়ে গেছি
কবে হারিয়ে গেছি আমি নিজে।
বুকের ভেতর শুনি কষ্টের থৈথৈ আওয়াজ
হৃদয়ে এখন কেবল রক্তপাত
রোববারগুলো কেন এমন হলো
কেন আমার এমন হলো?
চোখের ভেতর মায়া, মায়ার ভেতর কষ্ট।
ব্যস্ত রোববারে নিজেকে নিয়েই সবাই ব্যস্ত।
আমার রোববারের ব্যস্ততা তোমাকে ঘিরেই।
এই ব্যস্ততা কেবলই তোমার অপেক্ষায় হে প্রিয়।
জানি কোনো এক রোববারে তোমাকে আসতেই হবে
সবকিছু ফেলে ছুটে আসতেই হবে রোববারে
একটা কাঠের কফিনের পাশে দাঁড়ানো পুরোহিত
পরিত্যক্ত ঘরে পড়ে থাকবে বিয়ের সামগ্রী।
দেখবে কফিনে কতোজন ছড়াবে মুঠো মুঠো ফুল
সেখান থেকে একশটি সাদা ফুল তুমি নিও হে প্রিয়।
শবযাত্রায় ওরা শেষকৃত্য করতে নিয়ে যাবে দেহ
আমি ছায়া হয়ে আপেক্ষায় থাকবো বসে সেই গাছের নিচে।
নতুন মুকুলে ভরে যাবে গাছ, আবার ঝরেও যাবে
আমি তবু স্থীর অপেক্ষায় বসে থাকবো হে প্রিয়
তোমাকে না নিয়ে চূড়ান্ত গন্তব্যে যাই কি করে
আমার হাতছানি তুমি এড়াবে কি করে?
একদিন ফুরোবে বিষন্ন রোববার
এই তো এলো বুঝি শেষ রোববার।

এটা কোন সাধারণ গানের কথা না, ভয়ংকর গানের কথা, এই গান শুনে যুগে যুগে মানুষ আত্মহত্যা করেছে বা এখনো করছে। এই গান শুনলেই নাকি আত্মহত্যার ভাবনা চলে আসে মানুষে মনে। গান মানুষের মনকে সত্যিই প্রভাবিত করে তা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমানিত। ‘হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং’ নামে পরিচিত এ গানটি শুনে শতাধিক মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। বিষন্ন রোববার (স্যাড সানডে) শীর্ষক গানটির স্রষ্টা হাঙ্গেরিয়ান পিয়ানোবাদক রেজসো সেরেস। ১৯৩৩ সালে তিনি এই গানটিতে সুর দিয়েছিলেন। রেজসে নিজেই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। সুন্দরী এক নারী গানটি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। একজন ব্যবসায়ীর সুইসাইড নোটে পাওয়া গিয়েছিল এই গানের কথাগুলি। হাঙ্গেরির দুই কিশোরীও নাকি এই গানটি গাইতে গাইতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে জীবনাবসান ঘটিয়েছিল। আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়া এই গানটি তৈরি হয়েছে হৃদয়-বিদারক ঘটনার মধ্য দিয়ে। হাঙ্গেরিয়ান সুরকার রেজসো সেরেস মামলার ফেরে পরে সহায়-সম্বল হারিয়ে একসময় নিঃস্ব হয়ে পড়েন। গভীরভাবে যে নারীকে তিনি ভালোবাসতেন সেই নারীও তাকে ত্যাগ করে চলে যায়। তীব্র বিষাদে আচ্ছন্ন সেরেসের হাতে ওই সময় আসে শৈশবের বন্ধু লাজলো জ্যাভরের লেখা একটা কবিতা। সেরেসের বেদনায় সহমর্মিতা প্রকাশের জন্যই জ্যাভর কবিতাটি লিখেন। সেই কবিতায় সুর ছুইয়ে দিয়ে এমনই এক মমস্পর্শী গান তৈরি করলেন পিয়ানোবাদক রেজসো সেরেস, যা মানুষকে মুহূর্তে নিয়ে যায় অন্যভুবন। এই গানটিই রেজসো সেরেসের পরিচিত পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে দেয়। প্যাল ক্যামার নামে এক রেকর্ডিস্ট গানটি রেকর্ড করার পর হঠাৎ করেই হাঙ্গেরিতে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যায়।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর এবং পুলিশের কাছে থেকে পাওয়া তথ্য গবেষণা করে দেখা যায়, হাঙ্গেরি এবং আমেরিকায় সেই সময়ে অন্তত ১৯টি আত্মহত্যার সঙ্গে এই গানটির যোগসূত্র ছিল। আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার দায়ে চল্লিশের দশকে গানটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। হৃদয়বিদারক ঘটনা হলো, এই গানটি গাইতে গাইতে চারতলা বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন রেজসো সেরেস নিজেই। তবে গানটির প্রভাব তার মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে, ইউরোপ-আমেরিকার নানা স্থানে আত্মহত্যা করেছেন এমন সব মানুষের প্রিয় গানের তালিকায় ছিল এই ‘হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং’।

বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিদের আত্মহত্যা

বিশ্ববিখ্যাত লিংকিং পার্কের গায়ক চেস্টারের বেনিংটন প্যালেস ভারডেস এস্টেটেরস, ক্যালিফোর্নিয়াতে তার বাড়িতে ঝুলন্ত আত্মহত্যা করে; তার গৃহকর্মী তার লাশ ৯ টা ২০ মিনিটে পিডিটি আবিষ্কার করে ২০ জুলাই ২০১৭ তারিখে। মাইক শিনোদা টুইটারে চেষ্টারের মৃত্যুর খবরটি লিখেছিলেন, বিস্ময়কর এবং হৃদয়গ্রাহী, কিন্তু এটি সত্য।

নায়ক উদয় কিরণের আত্মহত্যা
মাত্র ১৯ বছর বয়সে সিনেমায় হাতেখড়ি। কেরিয়ারের শুরুতেই পরপর তিনটে হিট। পরপর তিনটে হিট ছবির জন্য তরুণের নামই হয়ে গেল ‘হ্যাটট্রিক হিরো’। উল্কা-উত্থানের মতোই আচমকা বিদায়। রহস্যজনক মৃত্যু হল তেলুগু নায়ক উদয় কিরণের। হায়দ্রাবাদের শ্রীনগর তাঁর বাড়ির সিলিং থেকে ৩৩ বছর বয়সী এই অভিনেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।

খ্যাতিসম্পন্ন লেখকদের আত্মহত্যা
সেচ্ছায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দুই লেখক আত্মহত্যা করে চলে গেলেন পরপারে। একজন যুক্তরাষ্ট্রের জিন স্টেইন (৮৩), অন্যজন দক্ষিণ আফ্রিকার কারেল শুম্যান (৭৭)। জিন স্টেইন নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটানের একটি বহুতল ভবনে থাকতেন। ৩০ এপ্রিল ২০১৭ ওই ভবনের ১৫ তলা থেকে তিনি লাফ দিয়ে আট তলায় পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। জিন স্টেইন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আমেরিকার মৌখিক ইতিহাস রচয়িতাদের অন্যতম হিসেবে। একসময় প্যারিস রিভিউতে এডিটর হিসেবে কাজ করেছেন। গ্রান্ড স্ট্রিট ম্যাগাজিনের এডিটর ছিলেন ২০০৪ সাল পর্যন্ত। ‘অ্যামেরিকান জার্নি : দ্য টাইমস অব রবার্ট কেনেডি’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির ভাই সাবেক সিনেটর ববি কেনেডির এবং ‘এডি : অ্যামেরিকান গার্ল’ নামে ধনাঢ্য অভিনেত্রী-মডেল এডি সেজউইকের জীবনী লিখেছেন তিনি। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সমর্থক কারেল শুম্যান এক সুইসাইড নোটে জানিয়ে গেছেন তাঁর আত্মহত্যার কথা। শুম্যান ১৯টি উপন্যাস, ১০টির মতো আত্মজীবনীমূলক রচনা ও ২০টির বেশি ইতিহাসভিত্তিক রচনা লিখেছেন।

চিত্রনায়ক সালমান শাহ
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন গার্ডেন এলাকায় ভাড়া বাসায় পাওয়া যায় অভিনেতা সালমান শাহর লাশ। বাংলা সিনেমায় তাঁর জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি তখন মধ্যগগনে। স্ত্রী সামিরা হক পুলিশকে জানান, সকালবেলা ড্রেসিংরুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমানের দেহ তাঁরা শনাক্ত করে দেহটি নামিয়ে আনেন। সালমান শাহকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বাংলা সিনেমার একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাঁকে খুন করা হয়েছিল ২০ বছরেও পুরোপুরি মীমাংসা হয়নি এ প্রশ্নের।

‘হাউসফুল’ ছবির নায়িকা জিয়া খানের আত্মহত্যা
২২ জানুয়ারি ২০১৩ নায়িকা জিয়া খানের আত্মহত্যা করেছিলেন বলেও ভারতের পুলিশ মুম্বাই আদালতে চার্জশিট দখল করেছিল। ২৫ বছর বয়সী জিয়া খান আত্মহত্যা করেছিলেন বলে ধারণা করে পুলিশ। ওই সময় জিয়ার মা দাবি করেছিলেন, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর আগে লেখা ডায়েরিতে তাঁর প্রেমিকের নাম উল্লেখ করেছিলেন। সেই প্রেমিকের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গই হতে পারে এই পথ বেছে নেওয়ার কারণ। ২০১০ সালে সবশেষ সাজিদ খানের ‘হাউসফুল’ ছবিতেও অভিনয় করেন জিয়া খান।

যেসব দেশে আত্মহত্যার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি

গায়ানা : ক্যারিবীয় দেশ গায়ানায় আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, ২০১২ সালে সেখানকার প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ৪৪.২ জন আত্মহত্যা করেছে। প্রচণ্ড দারিদ্র্য, মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন এর কারণ বলে জানা গেছে। তরল বিষ পান করেই গায়ানার মানুষ বেশি আত্মহত্যা করেছে।
উত্তর কোরিয়া : তালিকায় গায়ানার পরেই উত্তর কোরিয়ার অবস্থান। প্রতি বছর গড়ে সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, আর্থিক দৈন্যতা, সরকারি নির্যাতনের ভয় থেকে সৃষ্ট চাপ এসব কারণে সেদেশের মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
দক্ষিণ কোরিয়া: চাকরির চাহিদা পূরণের চাপ এবং পড়ালেখা ও সামাজিক চাপের কারণে দক্ষিণ কোরীয়রা আত্মহত্যা করে থাকে। বিশেষ করে নভেম্বরে কলেজ ভর্তি পরীক্ষার আগে আত্মহত্যার হার যায় বেড়ে বিষয়টি এতটাই উদ্বেগজনক যে, সরকার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উপর নজরদারি করে সম্ভাব্য আত্মহত্যা ঠেকানোর পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে সেদেশে এক লক্ষ জনের মধ্যে ২৮.৯ জন আত্মহত্যা করেছে।
শ্রীলঙ্কা : দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কাতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে।
২০১২ সালে সে দেশে প্রতি এক লক্ষের মধ্যে ২৮.৮ জন আত্মহত্যা করে। দারিদ্র্য ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা এর কারণ বলে জানা গেছে।
লিথুয়েনিয়া : ইউরোপের মধ্যে এই দেশটিতেই আত্মহত্যার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, ২০১২ সালে লিথুয়েনিয়ার এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ২৮.২ জন আত্মহত্যা করেছে।
সামাজিক ও আর্থিক সমস্যাই সেখানকার মানুষের আত্মহত্যার মূল কারণ। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে দেশটিতে আত্মহত্যার হার আরও বেশি ছিল।
বাংলাদেশের অবস্থান
জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে গড়ে ৭.৮ জন আত্মহত্যা করেছে।
এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৬.৮, আর নারীর সংখ্যা ৮.৭। অর্থাৎ নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি সংখ্যায় আত্মহত্যা করেছে।
যদিও জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী পুরুষদের আত্মহত্যার সংখ্যা মেয়েদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি ছিল।

আত্মহত্যা সম্পর্কে ধর্ম কী বলে!

হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করে সে জাহান্নামের আগুনে বারবার বিষপানে আত্মহত্যা করতে থাকবে’ (বুখারি ও মুসলিম)।
‘তোমরা নিজেরা নিজেকে হত্যা কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর দয়ালু। তার পরও যে আত্মহত্যা করল সে সীমা লঙ্ঘন ও জুলুম করল, অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে পৌঁছে দেবো’ (সূরা নিসা : ৩০)।
বর্তমান সময়ে দিন দিন আত্মহত্যা বাড়ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে প্রতিটি লোকালয়ে আত্মহত্যার প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পত্রিকার পাতা উল্টালেই পাওয়া যায় আত্মহত্যার নতুন খবর। বিভিন্ন পদ্ধতিতে আত্মহত্যাকারী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কেউ গলায় ফাঁস নিয়ে, কেউ ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে, কেউ বিষ পান করে, কেউ বা ছুরি ব্যবহার করে, কেউ আবার ট্রেন কিংবা বাসের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করে। সার্কভুক্ত দেশগুলোতে আত্মহত্যার প্রবণতা শ্রীলঙ্কায় একটু বেশি। ২০১৫ সালে ৮০০ লোকের ওপর এক জরিপে দেখা গেছে, এদের মাঝে সব বয়সের লোক রয়েছে। তবে তরুণ-তরুণীর সংখ্যা সর্বাধিক। জাতিসঙ্ঘের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বে আত্মহত্যাকারী ৮০ শতাংশের বেশি তরুণ-তরুণী। উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা। এর কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রেমে ব্যর্থ, পরীক্ষায় লজ্জাকর ফলাফল, পিতামাতা বা বন্ধুবান্ধবের সাথে রাগারাগি। এভাবে বিশ্বে প্রতিদিন হাজারের ওপরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
বিশ্বের কোনো ধর্মে আত্মহত্যার কোনো বৈধতা নেই। কোনো সামাজিক ব্যবস্থায়ও আত্মহত্যার বৈধ বিধান নেই। নিজেই বিবেচ্য আত্মহত্যা কোনো বিধান বা সমাধান হতে পারে না। কোনো দার্শনিক এ ব্যাপারে বৈধতার কথা বলেননি, বরং অনুৎসাহিত করেছেন জোরালোভাবে। বলেছেন, আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বোকা ও স্থূল জ্ঞানের অধিকারীরা। আত্মহত্যার বিষয়ে ইসলামের স্পষ্ট ঘোষণা–‘আত্মহত্যা হারাম’।

চূড়ান্ত সময়েও আত্মহত্যা কখনোই সমাধানের পথ নয়

পৃথিবীর ইতিহাসে যুগে যুগে এমন অনেক আত্মহত্যার ইতিহাস রচিত হয়েছে! কেনো এই আত্মহত্যা! অভাবের চেয়ে পৃথিবীতে স্বভাবের আত্মহত্যা বেশী!
আদর্শের কারণে যুগে যুগে পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ আত্মহত্যা করেছে! পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন কারণে মানুষ আত্মহত্যা করেছে করছে! সেখানে ইসলাম ‘আত্মহত্যা মহাপাপ’ বলে মানুষকে রক্ষা করে চলেছে! মানুষের স্বভাবকে পরিবর্তন করে তার নিচের মানুষের দিকে দৃষ্টিপাত করতে বলে স্বভাবে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে! মনে সুখ এনে দিয়েছে! যুগে যুগে যেসব মানসিক ব্যাধি মানুষ ও জাতিকে ভুগিয়েছে, তার মধ্যে আত্মহত্যা অন্যতম। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানসিক ব্যাধির এ ভয়ানক প্রবণতা বহুকাল থেকেই চলে আসছে। আমাদের দেশেও এর প্রবণতা কোনো অংশে কম নয়। একেকটি আত্মহত্যা আমাদের অভিশপ্ত সামাজিক জীবনের বিষাদময় কাহিনী। তবে আত্মহত্যা কখনোই প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করে জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার দুর্বোধ্যতার কারণে অনেক নারীই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
আবার বিভিন্ন সহিংসতার শিকার এই নারীরা অনেক সময় প্রতিকার না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাও অনেক সময় এই ব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শুধু নারীরাই নয়, পুরুষদের মধ্যেও এ প্রবণতা লক্ষণীয়। যুগের পরিক্রমায় আত্মসচেতন শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর পরও আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েই গেছে। যে মানুষ তার আত্মার মর্যাদা দিতে ব্যর্থ, আত্মার ধ্বংস সাধনে প্রস্তুত, তার মধ্যে সচেতনতার বালাই আছে বলে মনে হয় না। চরম হতাশা থেকেই এ চিন্তার জন্ম হয়।
তবে এটা করা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়। যে কারণে হতাশার সৃষ্টি হচ্ছে, তা সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। আত্মহত্যার বিরুদ্ধে নিজেকে সোচ্চার হতে হবে, আবেগপ্রবণ না হয়ে কঠোর হতে হবে। আত্মহত্যার মাধ্যমে নিজেকে আড়াল করা যায় কেবল; কিন্তু এর দুঃখ পরিবারকে বয়ে বেড়াতে হয় সারা জীবন। সব ধর্মগ্রন্থে আত্মহত্যাকে মহাপাপ বলা হয়েছে। আত্মহত্যার প্রণতা কমিয়ে আনার জন্য উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশেও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিমালা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তা ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে আত্মহত্যার প্রবণতা কমবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত