শিরোনাম
রং বেরং দেশে দেশে

নিজ পরিচয়ে অন্য মানুষ

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১২:২৭, নভেম্বর ০৪, ২০১৭

সকালে তিন রাস্তার মোড়ে কিছু মানুষের জটলা , রাজিব এগিয়ে গেলেন কি হয়েছে দেখার জন্য; রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাস্তা। উকি দিয়ে দেখলেন- একি, খুন ! একটি মেয়ে রাস্তায় পড়ে আছে হয়তো কেই তাকে হত্যা করে রেখে গেছে। কে তাকে হত্যা করলো ! কেন হত্যা করলো ! এর পিছনের গল্প কি ! রাজিব চিৎকার করে বলতে থাকলো ওর পুরানো প্রেমিকই তাকে হত্যা করেছে আসলে মেয়েটি ছিল রাজিবের স্ত্রী। ঘটনা যখন আড়ালে থেকে বেরিয়ে আসলো তখন দেখা গেল রাজিব’ই তার স্ত্রী কে হত্যা করেছে , আর এ রকম চানচল্য কর ঘটনা যে উদঘাটন করে সেই হচ্ছে গোয়েন্দা। এবার সে সব লেডি গোয়েন্দা নিয়ে লিখেছেন -জিয়া উল ইসলাম

গোয়েন্দা
গোয়েন্দা হচ্ছেন একজন পেশাদার অনুসন্ধানকারী বা তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিনি কোন পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য অথবা নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি কর্তৃক মনোনীত গুপ্তচর হতে পারেন। সাম্প্রতিককালে গোয়েন্দাকে ‘ব্যক্তিগত গোয়েন্দা’ বা ‘ব্যক্তির অন্তঃদৃষ্টি’ নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। অনানুষ্ঠানিকভাবে, বিশেষতঃ কথ্য সাহিত্যে একজন গোয়েন্দাকে নিবন্ধন বা লাইসেন্সধারী কিংবা লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় দেখা যায়। শার্লক হোমস এবং ইন্সপেক্টর ক্লোসিও অত্যন্ত জনপ্রিয় গোয়েন্দা ঔপন্যাসিক হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত নাম। গোয়েন্দার প্রধান কাজই হচ্ছে কোন গুরুতরভাবে লুক্কায়িত অপরাধ বা অমিমাংসিত ঐতিহাসিক অপরাধের ঘটনাপ্রবাহ তদন্তের স্বার্থে তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগ্রহ করে সংবাদের পিছনের সংবাদ জনসমক্ষে তুলে ধরা। এছাড়াও, গোয়েন্দা হিসেবে একজন ব্যক্তি ‘ডিটেকটিভ’ হিসেবেও সকলের কাছে পরিচিতি পেয়ে থাকেন।
সাধারণ অর্থে যিনি গুপ্তচর বৃত্তির মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন, তিনি ‘গোয়েন্দা’ নামে পরিচিত। সাধারণতঃ একজন সফল ও স্বার্থক গোয়েন্দাকে নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হয় অপরাধ বা রহস্যজনক কর্মকান্ড মনোঃবিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণ করবেন। রহস্যমূলক কর্মকান্ডে সর্বক্ষণ সস্পৃত থেকে তীক্ষ্ণ ও শাণিত মেধা প্রয়োগ করবেন। উপস্থিত বিচার-বুদ্ধি যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে কাঙ্খিত ব্যক্তি বা বস্তুকে জনসমক্ষে উপস্থাপন করবেন। নির্দোষ ব্যক্তি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত বা দোষী না হন এবং প্রকৃত দোষীকে আইনে সোপর্দ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অপরাধী বা ঘটনার ছোট্ট ক্লু, সঙ্কেত বা চিহ্নের সাহায্যে অপরাধের গতি-প্রকৃতি ও অবস্থান চিহ্নিত করবেন।

বিখ্যাত বা কুখ্যাত নারী গুপ্তচর মাতা হারি
প্যারিসের পানশালা নাচ করতেন মাতা হারি। সেই হিসাবে সবাই তাকে ভাবত সে একজন নৃত্যশিল্পী। আসলে মাতা হারি তার দেহ চেহারা এবং নাচ কে কাজে লাগিয়ে জার্মানির হয়ে চরের কাজ শুরু করেন এই নৃত্যশিল্পী প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু পর থেকে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মাতা হারিকে এখনো ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত বিখ্যাত নারী গুপ্তচর। তাঁর আসল নাম মার্গারিটা গের্ট্রুডা জেল। জন্ম নেদারল্যান্ডসে, ১৮৭৬ সালে। ২০ শতকে নাচ দেখিয়ে সবাইকে পানশালায় বুঁদ করে রাখতেন তিনি। অভিজাত ফরাসি ব্যক্তিরা মাতা হারির সঙ্গে শারীরিক সংসর্গও করতেন। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। সরকারি গোয়েন্দরা তাঁর কাছে থেকে নাচ আর যৌনতার চেয়েও বেশি কিছু চাইতে শুরু করলেন। তাঁকে চরবৃত্তিতে কাজে লাগানো শুরু করলেন।মাতা হারির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ছিলেন জার্মান চর। এ ছাড়া মিত্রবাহিনীর সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌনতার সুযোগ নিয়ে তিনি গোপন তথ্য প্রতিপক্ষের কাছে পাচার করেছেন। পত্রপত্রিকায সে সময় লেখা হযেছিল, মাতা হারি মিত্রবাহিনীর হাজারো সেনার মৃত্যুর জন্য দায়ী। ১৮ বছর বয়সে তাঁর দ্বিগুণ বয়সী ক্যাপ্টেন রুডলফ জন ম্যাকলেওডের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া আর্মির ক্যাপ্টেন ছিলেন তিনি। তারপর স্বামীর সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি। কিন্তু যৌন বিকার ও যৌন রোগগস্ত রুডলফের সঙ্গে জীবনটা খুব স্বচ্ছন্দে কাটেনি তাঁর। শেষমেশ দাম্পত্যে ইতি টানতে হয় তাঁদের।জীবনের তাগিদে এক সময় প্যারিসে চলে যান মাতা হারি। সেখানে মার্গারিটা নাম বদলে ফেলে নাচের দুনিয়ায় পা রাখেন। মোহময় নাচের জাদুতে মুগ্ধ হতে থাকলেন অনেকেই। স্বামী রুডলফের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সময় নাচটা রপ্ত করেছিলেন তিনি। সেই নৃত্যশৈলীই পরে র্ফান্সে এসে কাজে লাগাতে থাকলেন। নাচের ভেতর নগ্নতাকেও শিল্পে রূপ দিয়েছিলেন মাতা হারি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। হুড়হুড় করে বাড়তে লাগল যশ ও অর্থ। তবে এর জন্য কর্মকর্তাদের যৌনসঙ্গীও হতে হতো তাঁকে। আরেকটি চিঠিতে মাতা হারি তাঁর সাবেক স্বামী রুডলফের চাচাতো ভাইকে লিখেছিলেন, ‘একটি থিয়েটারে আমার স্থায়ী চাকরি হয়েছে। তবে এখানে অর্থের বিনিময়ে মানুষের সঙ্গে শারীরিক সংসর্গ করতে হয়। এটা শুনে ভেবো না যে, আমি এতে কষ্ট পাচ্ছি। অভাব ঘোচাতেই আমাকে এই কাজ করতে হবে। ’নেদারল্যান্ডসে মাতা হারির জন্ম শহর লিউওয়ার্ডেনে মিউজিয়াম অব ফ্রাইসল্যান্ডের কিউরেটর হ্যান্স গ্রোয়েনওয়েগ বলেন, মাতা হারির সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। একটি ছিল ফ্রান্সে গিয়ে জীবনের আমূল পরিবর্তন। আরেকটি ছিল, চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে সাবেক স্বামীর কাছ থেকে কন্যা সন্তানকে নিজের কাছে নিয়ে আসার লড়াই চালানো। কিন্তু মাতা হারি প্রথম পথটিই বেছে নিয়েছিলেন। জীবনে উন্নতির শীর্ষে পৌঁছেছিলেন ঠিকই, কিন্তু প্রতিটা মুহূর্ত তাঁর কন্যা সন্তানের চিন্তা তাড়িয়ে বেড়াতো তাঁকে। তিনিই মূলত সে সময় খোলামেলা নাচকে প্রথম শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। মিয়ামি হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ফ্রান্সের সরকারি গোয়েন্দারা তাঁর কাছে থেকে নাচ আর যৌনতার চেয়েও বেশি কিছু চাইতে শুরু করলেন। সে সময় নেদারল্যান্ডসের নাগরিক হওয়ায় ইউরোপের সব জায়গায় যাতায়াত করতে পারতেন তিনি। এ কারণে তাঁকে গুপ্তচরবৃত্তিতে কাজে লাগানো শুরু করলেন। একবার জার্মানিতে নাচের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় বার্লিনে তাঁকে আটক করা হয়। চরবৃত্তির অভিযোগে ১৯১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্যারিসের এক হোটেল থেকে মাতা হারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে বন্দী করে রাখা হয় সেন্ট লাজার কারাগারে। শেষ জিজ্ঞাসাবাদে মাতা হারি স্বীকার করেছিলেন, জার্মানিরা ১৯১৫ সালে তাঁকে গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ করেছিল। তবে তিনি আসলে মিত্রবাহিনীর প্রতি অনুগত ছিলেন।
জার্মানিদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে কেটে পড়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু নিজেকে নির্দোষ প্রমাণিত করতে পারেননি তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে পাওযা তথ্যেরও প্রমাণ হয়নি। তবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন রহস্যময়ী এই নারী। ১৯১৭ সালের ১৫ অক্টোবর ফায়ারিং স্কোয়াডে তাঁর মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়।

নকল পা ব্যবহার করে গোয়েন্দা যে নারী
এক পা নিয়েই গোয়েন্দাগিরিতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন খোঁড়া নারীখ্যাত ভার্জিনিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন গুপ্তচর ভার্জিনিয়া তার অসাধারণ গোয়েন্দাবৃত্তিতে বোকা বানিয়েছিলেন জার্মান বাহিনীকে। ভার্জিনিয়ার এক পা ছিল না। কাঠের তৈরি নকল পা নিয়েই তিনি যুদ্ধের ময়দানের তথ্য হাতিয়ে নিয়ে পাচার করে দিতেন মার্কিন বাহিনীর কাছে। তাকে নিয়ে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ ছিল না জার্মানদের। তাকে লিম্পিং লেডি বা খোঁড়া নারী বলে ডাকত। ১৯৪৪ সালে এসওইর গুপ্তচর হিসেবে তাকে ফ্রান্সে পাঠানো হয়। সেখানে ফরাসি সেনাদের যুদ্ধ ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রশিক্ষণ দিতেন ভার্জিনিয়া। ফ্রান্সের জার্মান সেনাদের মধ্যে অন্তর্ঘাত সৃষ্টির কাজেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তথ্য পাচার ও ভুল তথ্য দিয়ে শত্রুপক্ষে কলহ সৃষ্টির সফলতা তাকে অনন্য করেছে। ১৯৮২ সালের ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের বাল্টিমোরে ৭৬ বছর বয়সে মারা যান সর্বকালের সেরা ছদ্মবেশী এ নারী গোয়েন্দা।

সুন্দরী ও মডেল গোয়েন্দা এ্যানা চ্যাপম্যান
১৯৮২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া মাত্র ২৮ বছর বয়সী এ্যানা চ্যাপম্যান, রাশান সুন্দরী ও মডেল বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত, যার বাবা একজন কূটনীতিক। বাস করতেন নিউইয়র্কে। ২৭ জুন ২০১০-এ অন্য ৯ জনের সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় এ্যানা চ্যাপম্যানকে। ইউএস এ্যাটর্নি জেনারেলকে, আগে না জানিয়ে আইনবহির্ভূতভাবে Russian Federation external intelligence agency, the SVR এর অপারেশন চালানোর অপরাধে। ৮ জুলাই ২০১০ সালে তাকে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়।

অভিনেত্রী গোয়েন্দা জোসেফাইন বেকার
তিনি ছিলেন আমেরিকায় জন্ম নেয়া ফ্রেঞ্চ ড্যান্সার, সিংগার ও অভিনেত্রী। তিনিই প্রথম আমেরিকান-আফ্রিকান অভিনেতা, যিনি মেজর মোশন পিকচারে অভিনয় করেন এবং আমেরিকা সেন্ট্রাল হলে পারফর্ম করে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করেন। তিনি আফ্রিকান-আমেরিকান সিভিল রাইট মুভমেন্টের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র গুপ্তহত্যার শিকার হয়ে নিহত হওয়ার পর তাকে করেট্টা স্কট কিং আনঅফিসিয়ালি লিডারশিপ অফার করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্রেঞ্চ রেজিসটেন্সকে সাহায্য করার জন্য প্রথম আমেরিকান ওমেন হিসেবে ফ্রেঞ্চ মিলেটারি অনার ঞযব ঈৎড়রী ফব মঁবৎৎব অর্জন করেন। এই গুণী মহিলা ১৯০৬ সালের ৩ জুন জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২ এপ্রিল ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

ভিয়োলেট জাবো
তিনি ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্ট। ৪২ দিনের কঠিন প্রেমের পর ১৯ বছর বয়সী ভিয়োলেট বিয়ে করেন ফ্রান্সের ইটান্নি সজাবোকে। তাদের একমাত্র কন্যা, যার নাম তানিয়া। জন্ম নেয়ার অল্প কয়েক দিন পর ইটান্নি মারা যায়। তার মৃত্যুর পর ভিয়োলেট ব্রিটিশ স্পেশাল অপারেশনস এক্সিকিউটিভে যোগদান করেন। ২৬ জুন ১৯২১ সালে জন্ম নেয়া এই সাহসী নারী মাত্র ২৪ বছর বয়সে গোয়েন্দা হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৫ সালে নিহত হন।

লুই হুলান
মাত্র ১৫ বছর বয়সী লুই হুলান ছিলেন চাইনিজ সিভিল ওয়ারের সময় কমিউনিস্ট পার্টির একজন স্পাই। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির যোদ্ধাদের জন্য খাবার, গামবুট, পোশাক ও তথ্য আদান-প্রদান করতেন। ১৯৪৭ সালের ১২ জানুয়ারি সেনারা লুই হুলানের গ্রাম চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং তাদের ঘরবাড়ি তছনছ করে। তারা গ্রামের সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে এসে প্রশ্ন করে, এর মধ্যে কারা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু কেউ উত্তর না দিলে একজন বিশ্বাসঘাতক লুইসহ বাকি সবাইকে দেখিয়ে দেয়। সেনাদের প্রধান প্রথমে অল্পবয়সী লুইয়ের মানসিকতা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন, সে চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর তার সামনে বাকি সদস্যদের মাথা কেটে ফেলার আদেশ দেন। তাতেও লুই ভয় না পেয়ে গ্রামবাসীকে বিদায় জানায় এবং তলোয়ারের সামনে মাথা পেতে দেন।

যার মাথার দাম ৫ মিলিয়ন ফ্রাঙ্ক সে নারী ন্যান্সি ওয়েক
একজন ব্রিটিশ এজেন্ট হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে কাজ শুরু করেন। তিনি মিত্রবাহিনীর সবচেয়ে সতর্ক ও ছদ্মবেশী গোয়েন্দা ছিলেন। জার্মানিদের গুপ্ত পুলিশ গেস্টাপো তাকে হোয়াইটহাউস বলত। সে সময় তিনি ছিলেন, গেস্টাপোর মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টেড গোয়েন্দা এবং ১৯৪৩ সালে তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয় ৫ মিলিয়ন ফ্রাঙ্ক। ১৯৪৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ফ্রান্সের স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত তার সাত হাজার ফ্রান্স রেজিসটেন্সের গেরিলা সেনা অপরদিকে বাইশ হাজার জার্মান সেনার সঙ্গে যুদ্ধ হয়। তাতে ১৪০০ জার্মান সেনা নিহত হয়। অপরদিকে মাত্র ১০০ জন রেজিসটেন্সের গেরিলা সেনা নিহত হয়। সে একজন জার্মান সেনাকে খালি হাতে হত্যা করে। কারণ একটি রেইডের সময় সে এলার্ম বাজিয়ে জার্মান সেনাদের সতর্ক করার চেষ্টা করছিল। যুদ্ধের পর তিনি The United States Presidential Medal of Freedom সম্মানে ভূষিত হন। তিনি যুদ্ধের পর জানতে পারেন যে, গেস্টাপো তার হদিস না বলার জন্য তার স্বামীকে টর্চার করে মেরে ফেলেছে। যুদ্ধের পর তিনি ব্রিটিশ বিমান মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা বিভাগে চাকরি নেন। ১৯১২ সালের ৩০ আগস্ট জন্ম নেয়া এই স্পাই এখনও বেঁচে আছেন।

লেখক হিসাবে সুপরিচিতি অথচ সে গোয়েন্দা নূর ইনায়াত খান
প্রত্যেক গোয়েন্দারই নকল পরিচয় থাকে। তাদের আসল নাম লুকানো থাকে। এমনই একজন নারী গোয়েন্দা নূর ইনায়াত খান। তার কোড নাম ছিল মেডিলিন। রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন বলে দাবি করা হয়ে থাকে। তার সম্পর্কে বলা হয়, তিনি শৈশবেই লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে ফ্রান্সে চলে যান। ফ্রান্সের রেডিওতে প্রচারের জন্য তিনি গল্প লিখতেন। লেখক হিসেবেই তিনি সুপরিচিতি লাভ করেন। গোয়েন্দা হিসেবে তাকে ঘুণাক্ষরেও কেউ সন্দেহ করেনি তাকে। বিশ্বযুদ্ধ বেধে গেলে তিনি প্রথমে ওমেনস অঙ্লিারি এয়ারফোর্স এবং পরবর্তীতে স্পেশাল অপারেশনসে যোগ দেন। তার গুপ্তচরবৃত্তির খবর নাজিদের হাতে পৌঁছে যাওয়ার পর তিনি গোয়েন্দা কার্যক্রম থামিয়ে দেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সুচতুরভাবে ফাঁকি দেন সবাইকে এবং একটা সময় তিনি সব গোপন তথ্য নিজের কাছে জমা করতে শুরু করেন। তার কাছে অসংখ্য গোপনীয় যুদ্ধ তথ্য থাকায় ৩০ বছর বয়সেই তাকে গ্রেপ্তার করে হত্যা করা হয়।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত