শিরোনাম

গোলাপ গ্রাম ঘুরে আসুন

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৫:৫৭, অক্টোবর ০৭, ২০১৭

সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ানের সাইদুল্লাপুর গ্রাম, যা আজ পরিচিত হয়ে উঠেছে "গোলাপ গ্রাম" নামে। পুরা গ্রাম জুড়ে লাল, সাদা, হলুদ গোলাপের চাষ, যেন গোলাপের সৌরভে মৌ মৌ করছে চারিদিক। যেদিকে তাকাবেন শুধু গোলাপের বাগান চোখে পড়বে, খুব ভোরে আবার গোলাপের হাটও বসে। এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ গোলাপ চাষ, গোলাপ তোলা বা গোলাপ সরবরাহ ব্যবসার সাথে জড়িত। চাইলে গোলাপ কিনতে বা আমার আমাদের মত ভাগ্যবান হলে গিফটও পেতে পারেন। গ্রামের প্রবেশ পথেই পড়বে বিরাট এক বটবৃক্ষ, যদি আপনি মিরপুর দিয়াবাড়ি ঘাট থেকে নৌকা বা ট্রলার যোগে গোলাপ গ্রামে যান। গাছটা এত বড় যেন পুরা গ্রাম একাই ছায়াতল করে রাখার প্রচেষ্টারত। একদিনে ঘুরে ফিরে আসার মত এমন মনোরম যায়গা ঢাকার ভিতরে খুব কমই দেখতে পাবেন।

আমরা সকাল ১১ টার দিকে মিরপুর-১ এ পৌঁছাই, তারপর দিয়াবাড়ি ঘাটে যাই ইঞ্জিন রিকশা যোগে। এখান থেকে প্রতি ৩০ মিনিট পর পর ইঞ্জিন নৌকা ছেড়ে যায়। আপনি চাইলে হাতে টানা নৌকা নিয়েও যেতে পারেন, তবে ভাড়া একটু বেশি গুনতে হবে। যেখানে ইঞ্জিন বোটে প্রতি জন মাত্র ২০ টাকা সেখানে হাতে টানা নৌকা রিজার্ভ করতে আপনার মিটাতে হবে ৪০০/৫০০ টাকা। যাই হোক আমরা ইঞ্জিন বোটে রওনা দেই। তুরাগে তখন জোয়ার আসছে মাত্র, দুপাশে কচুরিপানার ভেসে চলা আর দুয়েকটা গাংশালিকের আনাগোনা। আমাদের বোট সেই স্রোত কেটে এগিয়ে যেতে থাকে এক মায়াময় পরিবেশে দিকে। সেই মায়াভরা দুপুরে যে সুন্দরের ছবি দুচোখ ভরে দেখেছি তা উপলব্ধি করার ক্ষমতাই শুধু আমার আছে, এমন ভাষা আমার জানা নেই তা প্রকাশ করার মত।

তুরাগে চলছে ইঞ্জিন নৌকা তবে যারা ভবিষ্যতে এই গোলাপ গ্রাম দেখতে যাবে তারা হয়ত এই মনোরম পরিবেশ দেখতে পাবে না, কারণ দেখলাম প্লট আকারে তুরাগের সব জমিই দেখলাম বিক্রি হওয়ার পথে।গাংশালিকের উড়াউড়ি এবং ছোটবড় রিসোর্ট দেখতে দেখতে আমরা সাদুল্লাপুর এসে পোঁছাই দুপুর ১টার দিকে। আগে খাওয়া পরে ঘুরাঘুরি তাই বসে যাই প্রসেনজিত ভাইয়ের হোটেলে। এখানে আপনি অন্য সব কিছুর সাথে পাবেন ৮ রকমের সবজি। আহ! সবজির আইটেম গুলো যা ছিল না! আর দাম মাত্র ৪০ টাকা এই ৮ রকম সবজি। এবার ঘুরে দেখের পালা।

কিন্তু এই ঠাঠা রোদে কোথায় যাব? এক বন্ধুর সাহসে বেরিয়ে প্রথম যে গোলাপ বাগানে ঢুকলাম সেখানেই পেয়ে গেলাম দুপরের জন্য ছোটখাটো রেস্ট ঘর। ঘর বললাম কারণ এটা গোলাপ বাগানের মাঝে একটা একচালা ঘর। এক বন্ধুত সেখানে ঘুমিয়েই পড়েছিল। এর পর গোলাপ নিয়ে নানা ভঙ্গিতে ছবিতোলা ও ভিডিও করা চলল। এত সুন্দর আর এত সংখ্যায় গোলাপ আমি আগে দেখিনি। আমরা ১০০র অধিক বাগান দেখেছি এবং চাষিদের তথ্যমতে প্রায় হাজার খানেক বাগান আছে এখানে।

এখানে আর একটা জিনিস দেখলাম লজ্জাবতী গাছ, যা গোলাপ বাগানে প্রচুর পরিমানে জন্মে বৈকি। যারা দেখেননি এখান থেকে দেখে নিতে পারেন। বিন্দাস ভাবেই ঘোরাঘুরির শেষবেলায় সব থেকে প্রাপ্তি ছিল একটি করে গোলাপ উপহার পাওয়া। আমরা যখন বেশ কিছুদূর চলে এসেছি তখন একজন গোলাপ চাষি আমাদের ডেকে একটি করে তাজা গোলাপ তুলে দেয় আমাদের হাতে। এই খুব সাধারণ মানুষটার কাছ থেকে এই অপ্রত্যাশিত ও অমূল্য উপহার মনে রাখার মত ছিল কারণ এ যে গোলাপের জন্মদাতা চাষীর কাছ থেকেই গোলাপ উপহার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত