শিরোনাম

পশু-পাখির যত বন্ধুত্ব

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৭:১০, আগস্ট ০৬, ২০১৭

বন্ধুত্ব কি শুধু মানুষরাই করতে পারে? উত্তর হচ্ছে, না। প্রাণীরাও একে অপরের বন্ধু হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের বন্ধুত্ব হার মানায় মানুষকেও। মানুষ শুধু মানুষের সঙ্গেই বন্ধুত্ব স্থাপন করলেও প্রাণীরা এ ব্যাপারে অন্তত মানুষের থেকে এগিয়ে। ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যেও বন্ধুত্ব হয়। বোরড পান্ডা ওয়েবসাইটের সৌজন্যে এই বন্ধু দিবসে থাকছে সে রকমই কিছু বন্ধুত্বের গল্প।

১. বাবলস (আফ্রিকান কালো হাতি) ও বেলা (কালো ল্যাব্রাডর প্রজাতির কুকুর)
বন্ধুত্ব যে কোনো আকার-আয়তন মানে না, তা প্রমাণ করেছে বাবলস আর বেলার বন্ধুত্ব। আফ্রিকার হাতি শিকারিদের হাত থেকে উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের মারটেল বিচ সাফারি পার্কে নিয়ে আসা হয় বাবলস নামের হাতিটিকে। অন্যদিকে একজন ঠিকাদার বেলাকে ছেড়ে যান এই সাফারি পার্কে। কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধুত্ব জমে ওঠে বেলা ও বাবলসের। প্রায় নয় ফুট লম্বা আর চার টন ওজনের বাবলসের পিঠের ওপর উঠে জলকেলি করতে দেখা যায় ৪২ ইঞ্চি উচ্চতার বেলাকে। নিজের শুঁড় দিয়ে তোলা পানিতে বেলাকে ভিজিয়ে দেয় বাবলস। অন্যদিকে আনন্দে বেলাও লাফিয়ে পড়ে পানিতে।


২. তিন্নি (কুকুর) ও স্নাইফার (শিয়াল)
কুকুর আর শিয়াল নাকি জাতশত্রু। তবে এ ধারণাকে পাল্টে দিয়ে ডিজনির ‘দ্য ফক্স অ্যান্ড দ্য হাউন্ড’ চলচ্চিত্রের মতো দিব্যি বন্ধুত্ব পাতিয়ে বসেছে তিন্নি নামে একটি কুকুর ও স্নাইফার নামে একটি বন্য শিয়াল। নরওয়ের জঙ্গলে প্রায়ই খেলাধুলা করে কাটাতে দেখা যায় এ দুজনকে। প্রাণীদের মধ্যে জাতশত্রু যদি বন্ধুত্বের খাতিরে মিলে যেতে পারে, তাহলে মানুষ কেন নয়?


৩. শেরে খান (বাঘ), বাল্লু (ভালুক), লিও (সিংহ)
ছোটবেলার রূপকথার বইতে বনে বাঘ-ভালুক-সিংহ একসঙ্গে পাওয়া যেত। বাস্তবে একসঙ্গে এদের অস্তিত্ব কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সাফারি পার্কে শেরে খান, বাল্লু ও লিওর বন্ধুত্ব জন্ম দিয়েছে এ বিরল ঘটনার। তাদের উদ্ধারের কাহিনী বেশ মর্মান্তিক। এক মাদক বিক্রেতার কাছ থেকে তিনজনকে একসঙ্গে উদ্ধার করা হয়। সে সময় বাল্লুর অবস্থা ছিল করুণ। দীর্ঘদিন ধাতব ‘ঠুসি’ লাগিয়ে রাখার ফলে বাল্লুর মুখে তা স্থায়ী হয়ে যায়। ঘটে মুখের বিকৃতি। মুখের স্থায়ী হয়ে যাওয়া ‘ঠুসি’ অপসারণ করার জন্য অস্ত্রোপচারও করা হয় বাল্লুর। বর্তমানে ভালো আছে তিনজনই। এদের মধ্যকার বন্ধুত্ব এখন এতটাই গাঢ় যে একমুহূর্তের জন্যও তাদের আলাদা করা যায় না।


৪. অঞ্জনা (শিম্পাঞ্জি) আর দুই বাঘ শাবক
ডারউইন সাহেব বলে গেছেন, বানর থেকেই নাকি মানুষের উৎপত্তি। তাহলে বন্ধুত্ব বিষয়টি বানর প্রজাতির প্রাণীদেরই সবার আগে বোঝা উচিত। সেটাই করেছে যুক্তরাষ্ট্রের চায়না ইয়র্কের শিম্পাঞ্জি অঞ্জনা। বন্ধুর মতো সে বড় করে তুলেছে হারিকেনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় মারা যাওয়া একটি সাদা বাঘের দুই শাবককে। শুধু তাই নয়, অনাথ প্রাণীদের বড় করে তোলার জন্য বেশ সুখ্যাতিও রয়েছে অঞ্জনার।


৫. মেবেল (মুরগি) ও কুকুরছানা
বাসায় ঢুকে যদি দেখেন, মুরগি ডিমে তা না দিয়ে কুকুর ছানাদের তা দিচ্ছে, অবাক হবেন না; যদি সেটা যুক্তরাজ্যের এডওয়ার্ড ও রস টেটের বাসা হয়। আর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে মেবেল নামে এক বছর বয়সী মুরগি। পাশের বাসার রান্নার পাত্রে আটকে পড়া মেবেলকে উদ্ধার করেন এই দম্পতি। মেবেলের পায়ে তখন জখম ছিল। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে মেবেল। একদিন বাড়ির কর্তা দেখতে পান, যখন বাড়ির কুকুরটি বাইরে থাকছে তখন নিজের পাখা মেলে দিয়ে কুকুর ছানাদের আগলে রাখছে মেবেল। রটে যায় তাদের অদ্ভুত বন্ধুত্বের গল্প।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত