ঢেঁকি যাদের একমাত্র সম্বল

অনলাইন ডেস্ক | ০২:৪১, জানুয়ারি ১১, ২০১৭

কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন অনেক আগেই। বয়সের ন্যুজ্ব, দৃষ্টিশক্তি হয়ে এসেছে ক্ষীণ। কানেও শুনতে পান না ঠিকমতো। সারা জীবন অন্যের বাড়িতে কাজ করে আসা প্রায় শতবর্ষী জহির উদ্দিন এখন আর তেমন কাজ করতে পারেন না।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়ন নবগ্রাম গ্রামে বাড়ি এই শতবর্ষীয়ানের। দুই মেয়ে আবিয়া বেওয়া (৬৫) ও প্রতিবন্ধী জুলেখা খাতুনকে (৬০) নিয়ে বসবাস করেন একটি কুঁড়েঘরে।

থাকার জন্য মাত্র একটিই ঘর। বাঁশের বেড়ায় কাদামাটির প্রলেপ। টিনের ছাউনি। ঘরে ভাঙা একটা চৌকি ছাড়া তেমন কিছুই নেই। শীতের বাতাসে ঠান্ডার হাত থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে বারান্দায় পলিথিন টাঙিয়ে সেখানে শুয়ে থাকেন।

বড় মেয়ে আবিয়া বেওয়া গত ১১ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ায় বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তার এক মেয়ে। বিয়ে দিয়েছেন পাশের গ্রামে। জামাইয়ের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। তারা কোনো খোঁজ খবর রাখতে চাইলেও পারেন না।

জহির উদ্দিনের ছোট মেয়ে জুলেখা খাতুন। জন্মের পর থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী। দৃষ্টিশক্তি কম। কথাও অপষ্ট। লাঠি ধরে চলাফেরা করেন। এখনও পাননি কোনো প্রতিবন্ধী কার্ড।

এক সময় মানুষের বাড়িতে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেছেন জহির উদ্দিন। শারীরিক শক্তি হারিয়ে বয়সের ভারে আজ তিনি অক্ষম। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় চলাচল করেন। প্রায় ২৫ বছর থেকে আর কাজ করতে পারেন না। গত ১০ বছর থেকে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। তবে বয়স্ক ভাতা দিয়ে তিন সদস্যের ভরণ-পোষণ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।

ঘরের পাশেই তালপাতার ভগ্নপ্রায় ছাউনির নিচে রয়েছে একটি ‘ঢেঁকি’। আর ‘ঢেঁকি’ই এখন তাদের একমাত্র সম্বল। গত ১০ থেকে ১১ বছর ঢেঁকি দিয়ে প্রতিবেশীদের চাল ভেঙে আটা বানিয়ে দিয়ে কোনোমতে চলে তাদের সংসার। আর আটা কুঁড়তে সহযোগিতা করেন বড় মেয়ে আবিয়া বেওয়া। বয়স হওয়ায় তিনি এখন আর তেমন কাজ করতে পারেন না। তবে বর্ষা মওসুমে ঝড়বৃষ্টিতে তালপাতার ভাঙাচোরা ছাউনি দিয়ে পানি পরলে সেদিনের মতো আটা কুঁড়া বন্ধ থাকে।

কোনো আয়ের উৎস না থাকায় একই পরিবারে তিনজন সদস্য আজ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। জীবনের অন্তিম মুর্হূতে এসে তারা যেন খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারে, এজন্য সরকারসহ স্থানীয় প্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করছেন এলাকাবাসী।

প্রতিবেশী শরিফুল বিবি বলেন, ‘খুব কষ্টে থাকেন তারা। কেউ আটা কুটতে আসলে সেখান থেকে যে যা দেন তা খেয়েই তারা থাকেন। তাদের কষ্ট দেখে খুব খারাপ লাগে।’

স্থানীয় খণ্ডকালীন শিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন, ‘পরিবারটা খুবই অসহায়। একবেলা খেয়ে দু’বেলা না খেয়ে দিন পার করতে হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাদের প্রতি কোনো গুরুত্ব দেয় না।’

তারা যেন দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারেন, এজন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা বেলাল।

মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদ দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, ‘এমন অসহায় পরিবারের কথা জানা নেই। তবে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই পরিবারকে সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করা হবে।’
-প্রিয়

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon