শিরোনাম

ক্ষুদ্র পুঁজির বড় স্বপ্ন

১২:৪১, জানুয়ারি ০৬, ২০১৭

পুঁজি ক্ষুদ্র হলেও বড় স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন জেসমিন আক্তার। তিনি সেই স্বপ্নের ফেরি করছেন সতের বছর ধরে। রাজধানীর শাহবাগ শিশুপার্ক। মুক্তার তৈরি মালা, গহনা, চুড়ি, কানের দুলসহ নানা আর্কষণীয় ডিজাইনের সব অলঙ্কারাদি নিজ হাতেই তৈরি করে বিক্রি করছেন তিনি। কাঁচামাল নিয়ে আসেন রাজধানীর চকবাজার থেকে। তৈরি জিনিসটি ব্যবহার উপযোগি করে কানে কিংবা গলায় শোভা পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার যা আয় হয় তাতেই চলে তার সংসার। দুই ছেলে ও তিন মেয়ের সংসারে তার তেমন উচ্চবিলাসী স্বপ্ন না থাকলেও নানা টানাপড়েনে দিনযাপন করছেন তিনি। তবুও তার স্বপ্ন দেখা শেষ হয়নি।

জেসমিন আক্তার জানান, তার স্বামী সোলাইমান ও গাড়িতে গাড়িতে নানা প্রয়োজনীয় বস্তু ফেরি করেন। তা থেকে তেমন আয় না হওয়াতে পরিবারের বড় প্রয়োজনগুলো তাকে মিটাতে হয়। তিনি আরও জানান, বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। মেজ মেয়ে ক্লাস সেভেনে পড়ছে। ছেলেরা পড়ছে প্রাথমিকে। তাদের পড়াশুনার ক্ষেত্রে একজন ভাল শিক্ষকের কাছে পড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও তাদের যৎসামান্য আয়ের কারণে তা পেরে উঠছেন না।

দেখা যায়, গহনার প্রতি নারীদের আকর্ষণ বরাবরই প্রবল থাকায় জেসমিনের পসরা সাজিয়ে বসা তৈরি গহনা হাতে নিয়ে দেখছেন পার্কে আসা দর্শণাথীও সাধারণ পথচারিরা। কেউবা পছন্দ হলে ক্রয় করছেন। নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনের জন্যও। এক সময় মেয়েরা সোনা ও রুপার ভারী গহনা ছাড়া অন্য গয়নার চিন্তা না করলেও সময়ের ব্যবধারে তাদের রুচির পরিবর্তনেও হাওয়া লেগেছে। সোনা ও রুপার ভারি গহনার পরিবর্তে বেছে নিচ্ছে মুক্তা, পুতি, কাঠ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের গহনা। স্টাইল ও আভিজাত্য রক্ষা করতে মুক্তা দিয়েই তৈরি হচ্ছে মালা, কানের দুল, চুড়ি, আংটি সবই। সাধারণ মুক্তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন আকার ও ডিজাইনের মালা, গয়না, চুড়ি, আংটি নিয়ে শহীদ জিয়া শিশু পার্কের সামনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতার অপেক্ষায় থাকেন জেসমিন আক্তার। পাশাপাশি রয়েছে আরো কয়েকজন। জেসমিন জানান, পরিবারের তিন মেয়ে ও দুই ছেলের বলতে গেলে নিজের আয়েই পড়াশুনা করছে। বিয়ে দিয়েছেন বড় মেয়েকে নিজের আয়ে।

এভাবে জেসমিন তার পরিবার জীবনের স্মৃতি চারণ করতে করতে এক সময় শাড়ীর আচলে আলতো ভাবে চোখ মুছলেন। জেসমিনের মতো শহীদ জিয়া শিশু পার্ক, চারুকলার সামনে চুড়ি ও মুক্তার মালা বিক্রি করছেন আরো অনেকে। তাদের প্রত্যেকের জীবনও এক একটি কাব্য মহাকাব্য। আর কারো জীবন ট্রাজেডির। বর্তমান সমাজে নারীদের পরিবারের বাহিরে বের হতে যেখানে বিভিন্ন বাধা, তিরস্কার ও হয়রানির শিকার হচ্ছে সেখানে জেসমিনের মতো নারীরা হয়ে উঠছে আত্মনির্ভশীল। আলাপকালে জেসমিন আক্তার জানান, ভাসমান দোকানে বসেই চলে মালা তৈরি ও খাওয়া দাওয়ার কাজ। বিশ্রামের কোন বালাই নেই। একই সাথে চলে তৈরি ও বিক্রির কাজ। কোনটায় লাভের অংশ থাকে বেশি আর কোনটাতে কম। তার পর ও জেসমিন পরিবারের হাল ধরে তার ছেলে মেয়েদের প্রতিষ্ঠিত করতে সপ্ন দেখেন। স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসাকে আরো বড় করতে। কোন উন্নত প্রক্ষিণ বা স্বহৃদয়বান ব্যক্তি তার সহযোগিতায় হাত বাড়ালে তার ছেলে-মেয়েদের ভাল স্কুলে পড়ার ব্যবস্থা ও ব্যবসাকে আরো বড় করার স্বপ্ন তার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত