শিরোনাম

তিথির তিন চাকায় জীবন যুদ্ধ

১২:৪৬, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬

মোবাইল ফোনের গুনগুন গান আর মুখের মিষ্টি হাসি নিয়ে জীবন সংগ্রামে আত্মবিশ্বাসী এক তরুণীর নাম তিথি খাতুন। বৃদ্ধা মায়ের দেখভাল আর সংসারের দু'মুঠো খাবার জোগাতে বাধ্য হয়ে নিজেই অটো ভ্যানের চালক হয়েছেন।

পরিবারের জীবিকা নির্বাহে দিন মজুরি থেকে শুরু করে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তিনি। মোবাইল ফোনের ডাকেই গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভাড়া নিয়ে ছুটে চলেন।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা তিথি খাতুন (২০)। ৬ বোনের মধ্যে ছোট সে। বাবা ইয়াকুব আলী ছিলেন ভ্যান চালক। বছর চারেক হলো মারা গেছেন।

অভাবের সংসারে পরিবারের কোনো সন্তানের স্কুলের গন্ডি পেরুনো সম্ভব হয়নি। গার্মেন্টসে চাকরি করার কথা ভেবেছিল তিথি। কিন্তু অসুস্থ মায়ের কথা ভেবে সেই চাকরিতেও আর যাওয়া হয়নি। তাই জীবিকার তাগিদে ব্যাটারী চালিত অটোভ্যান চালিয়ে সংসারের হাল ধরেন তিথি।

সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের রনবাঘা-বোয়ালিয়া সড়কে যাত্রী আনা-নেয়া করেন তিথি। প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত রোজগার হয় তার। তাই দিয়ে চলে সংসার ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা সেবা।

জীবনের তাগিদে সারাদিন ভ্যান চালালেও যেন ক্লান্তি নেই তার। বাসায় ফিরে রান্না-বান্না করতে হয় তাকেই। ভাঙ্গা সংসারের একমাত্র অবলম্বন সে।

প্রতিবেশীরা বলেন, তিথি কখনো বসে থাকে না। ভ্যান না পেলে দিন মজুরির কাজও করে। জীবনযুদ্ধে তার কোনো ক্লান্তি নেই।

তিথি খাতুন জানায়, কঠিন বাস্তবতা উপলব্ধি করে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে তাকে। এই বয়সে তার স্বামী সংসার করার কথা থাকলেও শুধু বৃদ্ধা মায়ের কথা ভেবে তার আর সংসার করা হয়ে উঠেনি। তার চাওয়া পাওয়া যেন কিছুই নেই।

সে জানায়, ছোট্ট একটি স্বপ্ন তার চোখে দোলা দেয়। কিছু আর্থিক সহযোগিতা পেলে তাকে আর অন্যের ভাড়া করা ভ্যানের জন্য অপেক্ষা করতে হতো না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত