শ্রীমঙ্গলের কোথায় বেড়াতে যাবেন?

অনলাইন ডেস্ক | ০২:৩৩, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬

ভ্রমণ পিপাসুরা ঘুরে আসতে পারেন শ্রীমঙ্গলে। চা’র জন্য শ্রীমঙ্গলের সুনাম বিশ্বব্যাপী। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে উপজেলা শ্রীমঙ্গলের অবস্থান।
প্রকৃতির সুরম্য নিকেতন শ্রীমঙ্গলে দেখার আছে অনেক কিছুই। শ্রীমঙ্গলে গেলে অবশ্যই যে সব জায়গায় বেড়াতে যেতে পারেন—

চা গবেষণা ইনস্টিটিউট
বিচিত্র সব ফুল চারদিকে। এর সঙ্গে বাড়তি পাওনা হিসেবে আছে সারিবদ্ধ পাম, ইউক্যালিপটাস ইত্যাদি বৃক্ষরাজির শোভা। লেকের জলে ফুটন্ত লাল জলপদ্ম। এসবের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে চা গবেষণা ইনস্টিটিউট।

হাইল হাওর
হাইল হাওর মেঘনা-কুশিয়ারা অববাহিকায় দক্ষিণ-পূর্বে বালিশিরা ও বর্শিজুরা পাহাড় এবং পশ্চিমে সাতগাঁও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়গুলোর অন্যতম। অতীতে ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা হতে পাহাড় থেকে নেমে আসা ৩৫২টি ছড়ার মাধ্যমে হাওরে বৃষ্টির পানি সরবরাহ হতো, বর্তমানে মাত্র ৫৯টি সক্রিয় আছে। যেখানে রয়েছে অনেক গ্রাম, কৃষি জমি, আনারস-বাগান, চা বাগান ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ বনাঞ্চল।

গল্ফ ফিল্ড
স্রষ্টার সৃষ্টি যে কত সুন্দর আর মনোমুগ্ধকর হতে পারে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই গলফ্ কোর্ট। সু-উচ্চ রাবার বাগান থেকে মসৃণ ঘাসের চাদরে ঢাকা সুডৌল উঁচু-নিচু প্রাকৃতিক একখ- ভূমি নেমে এসে মিশে একাকার হয়ে গেছে চা বাগানের সঙ্গে।

বাইক্কা বিল
শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের পূর্ব দিকের প্রায় ১০০ হেক্টর আয়তনের একটি জলাভূমির নাম বাইক্কা বিল। কই, শিং, মাগুর, শৈল, টাকি, গজার, আইড়, মেনি, ফলি, পাবদাসহ আরও অনেক প্রজাতির মাছ এখানে বংশ বৃদ্ধি করে পুরো হাওরে ছড়িয়ে পড়ে। এখন এই বিল মাছের জন্যেই শুধু নয়, পাখি এবং অন্যান্য অনেক বন্যপ্রাণীর জন্যও একটি চমৎকার নিরাপদ আবাসস্থল। এটি একটি নয়নাভিরাম জলাভূমি, যেখানে হাজারো শাপলা আর পদ্মফুল ফোটে।

ভাড়াউড়া লেক
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ২ কি.মি দূরে জেমস ফিনলে কোম্পানির চা বাগান ভাড়াউড়ায় রয়েছে একটি লেক। লেকে রয়েছে জলপদ্মের মেলা।

টিপরাপাড়া
শ্রীমঙ্গলের ডলুবাড়ি গ্রামে রয়েছে টিপরাপাড়া। তাদের কোমর তাঁতে বুনানো কাপড় দেখতে খুবই সুন্দর। ইচ্ছে করলে তাদের বুনানো কাপড় কেনা যায় অথবা ডিজাইন পছন্দ করে অর্ডার দিলেও বুনিয়ে দেয়।

মণিপুরী পাড়া
শ্রীমঙ্গল বেড়াতে গিয়ে আপনি যদি সময় পান তাহলে ঘুরে আসতে পারেন বিভিন্ন মণিপুরী আদিবাসী পল্লী। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে দুই কিলো পূর্বে রয়েছে মণিপুরী পল্লী রামনগর বস্তি। সেখানে রয়েছে মণিপুরী তাঁত শিল্প।

রাবার বাগান
শ্রীমঙ্গলে রয়েছে বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের সিলেট বিভাগীয় অফিস। এ অফিসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সরকারি চারটি রাবার বাগান।

লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৮ কি.মি. দূরে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার অংশবিশেষ জুড়ে ন্যাশনাল পার্ক লাউয়াছড়ার অবস্থান। শ্রীমঙ্গল থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে অথবা বাসে চড়ে আপনি আসতে পারেন এই বনে। এখানে আসার পথে রাস্তার দু’ধারে দেখতে পাবেন সবুজ-শ্যামল চা বাগান। উঁচু-নিচু পাহাড়ে চা বাগান দেখে মনে হবে যেন সমুদ্রের ঢেউ খেলছে। এখানে একটি পিকনিক স্পটও আছে।



 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon