শিরোনাম

সুদানের আন্দোলনে অবদান রাখা ৬ নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ২০:২৪, জুলাই ১৭, ২০১৯

বিক্ষোভের মুখে সম্প্রতি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির৷ এসব বিক্ষোভে অনেক নারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন৷ তাদের নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডয়েচেভেলে।

গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ওমর আল বাশির ক্ষমতাচ্যুত হলেন আরেক গণঅভ্যুত্থানে। সুনাদের সাধারণ নাগরিকদের আন্দোলন এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে ক্ষমতা ছাড়ার বিকল্প ছিল না। এসব আন্দোলনে পুরুষদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বেশ কয়েকজন নারী। আসুন জানি তাদের।

খাদিজা সালেহ: বশিরবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে ছয় বছর পর মার্চ মাসে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন তিনি৷ সালেহ বলেন, আমার দেশের ভালো ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ স্থান ছেড়ে আমি দেশে এসেছি। ৪১ বছর বয়সি সালেহ জনতার সাথে মিশে আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন৷

নাহিদ গাব্রালা: ১৯৮৯ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন বশির৷ এপ্রিলে আরেক অভ্যুত্থানের কারণে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন৷ গত ডিসেম্বরে বশিরবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল৷ এখনও তা চলছে৷ এখনকার বিক্ষোভের কারণ সেনাবাহিনীর কাছ থেকে সাধারণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা৷

এই অবস্থায় গত জুনে বিক্ষোভরত গাব্রালাকে প্রহার করা হয়, এমনকি ধর্ষণেরও হুমকি দেয়া হয়৷ নিজের মেয়ের জন্য একটি ভালো দেশ পাবার আশায় লড়াই চালিয়ে যেতে চান তিনি৷

হাদিয়া হাসাবাল্লাহ: জুনের ৩ তারিখে গাব্রালাসহ অনেক নারীদের উপর হামলা করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী৷ সেই সময় আহত হওয়া নারীদের দেখাশোনা করা এনজিওতে কাজ করেন হাসাবাল্লাহ৷

ঐদিন অনেক নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে৷ তবে ‌‘কলঙ্কের ভয়ে সুদানের কোনো নারী ধর্ষিত হওয়ার কথা বলবে না’ বলে মন্তব্য করেন তিনি৷

নাগদা মনসুর: ডিসেম্বরে বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় ৭৫ দিন কারাগারে ছিলেন তিনি৷ ৩৯ বছর বয়সি মনসুর সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে চান না, কারণ দারফুর যুদ্ধে তাদের ভূমিকা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন৷

মানাল ফারাহ: ৪৯ বছর বয়সি ফারাহর ২২ বছর বয়সি ছেলে জুন ৩ এর বিক্ষোভের সময় নিহত হয়৷ যখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুরু করে তখন প্রশ্ন করেছিল, সুদানে কেন এত দুর্নীতি৷

সে বলতো, একটা পরিবর্তন দরকার, একটা নতুন সুদান দরকার... আমি আমার সন্তানের স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে, এটা দেখতে চাই, বলেন তিনি৷

আলা সালাহ: ৮ এপ্রিল একটি গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে সাদা পোশাক পরিহিত সালাহ সরকারবিরোধী বক্তব্য রাখছিলেন৷ সেই সময় একজন আলোকচিত্রীর তোলা ছবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বেশ পরিচিতি পায়৷ ফলে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী আলা৷

তার সেই ছবি সুদানের ‘লেডি লিবার্টি’ কিংবা ‘ওমেন ইন হোয়াইট’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে৷

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত