শিরোনাম

আমি জানি না কীভাবে নামাজ পড়তে হয়

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৯:৪০, জুলাই ০৯, ২০১৯

ভারত পাকিস্তানের মধ্যে বিভাজনের অন্যতম কারণ ছিল ধর্ম। বিভাজনের আগে পাঞ্জাবে যে ধর্মীয় দাঙ্গা হয়েছিল তাতে ২ থেকে ৫ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের জনক যিনি, যাকে বলা হয় কায়েদে আজম সেই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন ধর্ম কর্মের পুরো বিপরীত।

করাচীতে জিন্নাহর দিনটা শুরু হত সকাল সাড়ে আটটার দিকে। একটা বড় টেবিলে তার জন্য ফাইলবন্দী কাগজপত্রের একটা স্তূপ রাখা থাকত। পাশেই থাকত ‘ক্রেভিন-এ’ নামের সিগারেটের একটা বাক্স।

জিন্নাহ নিজেকে মুসলমানদের রাজনৈতিক নেতা বলেই মনে করতেন। কিন্তু তিনি ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত হতে চাননি।
যে কারণে তাকে কয়েকবার ধর্ম-সঙ্কটেও পড়তে হয়েছে।

প্রখ্যাত লেখক খালিদ লতিফ গৌবা তার এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন- তিনি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে কোনো এক মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

জিন্নাহ জবাব দেন, আমি জানি না কীভাবে নামাজ পড়তে হয়। গৌবা বলেছিলেন, মসজিদে অন্যরা যা করবে, আপনিও তাদের দেখাদেখি সেটাই না হয় করবেন।

জিন্নাহর সহকারী ছিলেন মুহাম্মদ করিম চাগলা, যিনি পরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি তার আত্মজীবনী ‌রোজেস ইন ডিসেম্বর-এ লিখেছেন, একবার আমি আর আলি জিন্নাহ বোম্বের বিখ্যাত রেস্তোরাঁ ‘কর্ণগ্লিয়াজ’-এ খেতে গেলাম। উনি দু কাপ কফি, পেস্ট্রি আর শুয়োরের মাংসের সসেজ অর্ডার করলেন। আমরা বেশ তারিয়ে তারিয়ে খাচ্ছিলাম। হঠাৎই এক বয়স্ক দাড়িওয়ালা মুসলমান ব্যক্তি ওখানে হাজির হলেন, তাঁর সঙ্গে একটা বছর দশেকের বাচ্চা ছেলে।

‘ওঁরা জিন্নাহর বেশ কাছাকাছি বসেছিলেন। হঠাৎ খেয়াল করলাম, ওই বাচ্চা ছেলেটি জিন্নাহর সামনে রাখা সসেজের দিকে হাত বাড়াচ্ছে আর তারপরেই ছোট একটা টুকরো তুলে নিজের মুখে পুরে দিল। আমি এই বাচ্চাটার কাণ্ড দেখে বেশ মজা পাচ্ছিলাম।’

একটু পরে ওঁরা চলে গেলে আলি জিন্নাহ আমার ওপরে বেশ রেগে গিয়ে বললেন, চাগলা, তোমার লজ্জা হওয়া উচিত। ওই বাচ্চা ছেলেটাকে শুয়োরের মাংসের সসেজ খেতে দিলে।

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর শেষ সময়টা কাটে খুব কষ্টে। ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জিন্নাহকে কোয়েটা থেকে ভাইকিং বিমানে চাপিয়ে করাচী নিয়ে আসা হয়। ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত পাকিস্তানের জনক- মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর ওজন তখন মাত্র ৪০ কিলোগ্রাম।

করাচীর মৌরিপুর বিমান বন্দরে তাঁর জন্য অপেক্ষা করেছিলেন তার সামরিক সচিব। তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি। সামরিক সচিব ছাড়া অন্য কেউ বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন না।

যে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে গভর্নর হাউসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, মাঝপথে সেটার পেট্রল শেষ হয়ে যায়।

ভারতের বৈদেশিক গুপ্তচর এজেন্সি রিসার্চ এন্ড অ্যানালিসিস উইং বা ‘র’র প্রাক্তন বিশেষ সচিব তিলক দেভেশর বলছেন, এটা ভাবা যায় যে পাকিস্তানের জন্মদাতা, গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর ওইরকম শারীরিক অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সের তেল শেষ হয়ে গেল মাঝপথে!

সামরিক সচিব অনেক চেষ্টা করে ঘণ্টা-খানেক পরে একটা অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সেই জিন্নার পালস কমে আসছিল। সেই রাতেই তিনি মারা যান।

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত