শিরোনাম

চড়া দামের স্বামীরা ফ্রি আতঙ্কে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১০:৩৯, জুন ০৩, ২০১৯

রমজান এলে প্রাণের স্ত্রীকে আর বিছানায় খুঁজে পান না স্বামীরা। শান্তিপ্রিয় স্বামীও আর দিল দিয়ে খুঁজেন না। শান্তগৃহে মন দিয়ে কিছুদিন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।

কিন্তু অর্ধঘুমে বুদ্ধিমান স্বামীর আতঙ্ক বাড়ে। তীব্র গরম, ক্ষুধার্ত এমন পরিস্থিতিতেও যে, স্ত্রী মার্কেটে স্বাভাবিক! ঘামে ক্লান্ত হোন না, ক্ষুধায়ও দুর্বল হোন না। কারণ সব মার্কেটেই এখন নারী তুষ্টিতে চলছে ফ্রি উৎসব।

তাই স্ত্রীরা ঘরের পুরান জুতা, পুরান জামা সব পাল্টে ফেলছেন! এমন পরিস্থিতে স্বামীরাও আছেন মহা আতঙ্কে। না জানি এই ঈদে পুরান স্বামী বদল করে নতুন স্বামী নিয়ে আসেন। বাজারে যেমন টাকা ছিটালে সব পাওয়া যায় সঙ্গে থাকে ফ্রি জিনিস, তেমনি বউয়ের সঙ্গে ফ্রি-তে কেউ ঘরের পথ ধরতে পারেন সেই শঙ্কাও যে উডিয়ে দেয়া যায় না।

তাই এই মাসে কৌশলী স্বামীরা বউপ্রীতি বাড়িয়ে দেন, বিয়ে করা বউয়ের সাথে কিশোর প্রেমে মেতে উঠেন। ঈদ এলেই স্বামীদের দুর্ভোগ চিত্র গল্পে গল্পে তুলে ধরছেন-আবদুর রহিম

ঈদ মাসে প্রেমের চাষ
ঈদ বাজারে রঙ বেরঙের মানুষ দেখেন বউ। কারো উপর নজর পড়ে ভালো লাগতেও পারে। তাই অভিজ্ঞ স্বামী আগ থেকেই প্রেমের চাষ করেন। বউয়ের সব মন্দ স্বভাব বুকে নিয়ে উর্বর করেন ভালোবাসার ময়দান। বউয়ের চুড়ি, বউয়ের নাক ফুল, বউয়ের শাড়ি, চলন-বলন সব কিছুতে অপূর্ব মধু স্বাদ নেন সতর্ক স্বামীরা! না, নিয়েই যে উপায় নেই... কারণ একটু বক্রসক্র হলেই প্রেম ফলের চাষ শূন্য হতে পারে।

মন্দ অভ্যাসেও চন্দ্রহাসি
স্ত্রীর কোনো অভ্যাস স্বামীর খারাপ লাগতেই পারে। ১১ টি মাস তাঁর খারাপ অভ্যাস সংশোধন করার চেষ্টা করলেও ভুলেও সচেতন স্বামীরা এ মাসে স্ত্রীকে কিছু শেখাতে যান না। কারণ এ মাসে স্ত্রীদের শিক্ষামাঠ অনেক বড়। এই ধরেন পথে পথে কত পার্ক। সেখানে দেখা যায় কতশত প্রেমের কবুতর। এগুলো স্ত্রীদের চোখে ভালোই পড়ে। মুহূর্তেই নিজ স্বামীকেও কল্পনা করে ফেলতে পারেন। আর সেই স্বামী চাকরিজীবী বলে হাজার চেষ্টা থাকলেও বউকে নিয়ে সারাদিন এভাবে পার্কে বসে বাদাম খাওয়া সম্ভব নয়। তাই ঘরের বউয়ের মন্দ অভ্যাসেও চন্দ্রহাসিতে থাকেন স্বামীরা।

আমি ২৯’র যুবক তোমার চেয়ে ছোট!
প্রতিদিনই মার্কেটে বের হওয়ার সময় স্বামী তার স্ত্রীকে মনে করিয়ে দেয় আমি এখনো ২৯ বছরের টগবগে যুবক তোমার চেয়ে ১ বছর ছোট। মনে রাখবে কিন্তু! মাঝে মধ্যে দরজায় দাঁড়িয়ে ব্যায়ামও করেন স্বামী। সুন্দর শরীরও প্রদর্শন করেন। এতে স্ত্রীও খুশি, দেয় মুচকি হাসি। স্বামী চেহারা দর্শন নিয়ে সারাদিন এ মার্কেট থেকে ও মার্কেটে ঘুরলে একটু অক্সিজেন পাওয়া যায়, শক্তি আসে ভালো। এভাবেই সব স্বামীরা চায় স্ত্রীকে তুষ্ট রাখতে। তাই আশঙ্কার যায়গাতেও সুরক্ষায় রাখতে চান প্রিয়তমাকে। হয়তো ভাবছেন কিসের আশঙ্কা... আরে ভাই, বাজারে গেলে যেমন নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক পাওয়া যায় তেমনি ২৯ বছরের যুবকও কম আছে নাকি...তাইতো স্বামীরা স্ব রূপে নিজেকে তুলে ধরেন। তার কাছে...

বউ ভক্তির রিহার্সেল
আপনি বউকে কতটা ভালোবাসবেন তা এ মাসেই রিহার্সেল সম্পূর্ণ করতে হবে। ঈদ বাজারে গিয়ে আপনার ঘরের বউ বহু নরম পুরুষের মুখোমুখি হোন। বলা যায় না কখন কার উপর নরম হয়ে যায়। তাকে আপনার কাছে রাখতে, আপনার বিছানা সব সময় সতেজ রাখতে এ মাসই হতে পারে আপনার জন্য অগ্নি পরীক্ষা। তাই ভালোভাবে বউ ভক্তির রিহার্সেলের কোনো বিকল্প নেই।

কষ্টও খিলখিলিয়ে হাসে
এই মাসে স্বামীরা হাসতে শেখেন। স্বামীদের ধৈর্য অনুশীলনের মাসও বলা চলে। কারণ ১১টি মাস স্ত্রীরা ভারতীয় বাংলা চ্যানেল দেখেন। বস্তাপচা সিরিয়াল দেখে সব জামার তালিকা করেন। ঘরে বসে স্ত্রীরা হয়ে উঠেন ডিজাইন বিচারক। একটি মাস সব শিক্ষাতত্ব, অভিজ্ঞতা মার্কেটে প্রয়োগ করেন। তাই স্ত্রীর চাহিদা মেটাতে স্বামীদের বুক ফাটে। তবুও থাকে না কিছু বলার। সহস্র কষ্ট নিয়েও স্বামীরা খিলখিলিয়ে হাঁসে!

দৈনিক বউয়ের ক্লাস
গাড়িতে, রাস্তায় চলার অভিজ্ঞতা একটু হলেও বেশি ২৯ বছরের স্বামীর। তিনি জানেন কোথায় ছিনতাইকারী রয়েছে, মলম পার্টি রয়েছে। এজন্য পকেটের প্রতি যত্নবানের সঙ্গে এ মাসে আলাদা যত্ন নিতে হয় বউয়ের। ঘর থেকে দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই রাস্তায় ছাড়তে হয় হূদয়সঙ্গীকে। ওনার ‘উনি’ শপিং করবেন, টাকা খরচ হবে, সেটা নিয়ে স্বামীদের বুকে ক্ষত থাকলেও কিছু বলার নাই। কিন্তু ‘উনি’ছাড়াও শপিংমলের আশপাশে ‘তিনি’বলে কেউ থাকেন। এই ‘তিনি’হলেন পকেটমার বা ছিনতাইকারী। এ থেকে বউকে নিরাপদে ঘরে আনার টিপস স্বামীকেই দিতে হবে...

ঘনঘন প্রেসার মাপতে হয় স্বামীদের
ঈদের পর টানা বিয়ে উৎসব। আগেই তালিকা দিয়ে দিছেন স্ত্রী। কার বিয়েতে কী গিফট দিতে হবে। কিন্তু তার আগেই চলছে অমানবিক নির্যাতন। ঈদ আক্রমণ। পকেট হচ্ছে বিপর্যস্ত। ঈদ বলেও কথা। তাই বউয়ের এমন লাগামহীন শপিংয়ের কারণে হঠাৎ করে মাথা চক্কর দিয়ে উঠছে স্বামীদের। বেড়ে যাচ্ছে প্রেসার। তাই সঙ্গে প্রেসার নিয়ন্ত্রণের ওষুধ রাখতে হচ্ছে বাংলার সকল স্বামীদের। ঘনঘন মাপাতে হচ্ছে প্রেসার। কারণ রাস্তায় যে পরিমাণ জ্যাম একবার স্ট্রোক করলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া সম্ভব নয়। রাস্তায় বের হলে জ্যামের কারণে ঘুরে না গাড়ির চাকা

শেষবেলায় হাতখরচে নেই অজুহাত
রোজা রেখে ক্লান্ত স্বামী। হয়তো মুখও শুকিয়ে গেছে। সঙ্গে পকেটও হয়তো বিধ্বস্ত। তবুও শেষবেলায় এসে বউকে মেঘছায়া দাঁড় করাতে চান না স্বামীরা। অভাবের সংসারে হাতখরচের টানাটানিতে স্ত্রীর কাছে অজুহাত দেন না। ল্যাংটাকালের বন্দুর কাছ থেকে ঋণ করে হলেও স্ত্রীর শখ মেটান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত