শিরোনাম

ক্রিকেট বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর গল্প

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৩:৫৫, মে ২৫, ২০১৯

আগামী ৩০ মে পর্দা উঠবে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ লড়াই বিশ্বকাপের ১২তম আসরের। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেটের এই মেগা টুর্নামেন্ট। ব্রিটিশ মুল্লুকের এই আসরে খেলবে বাংলাদেশসহ ১০টি দল। এর আগের ১১টি আসরে বিশ্ব ক্রিকেট পেয়েছে তাদের চ্যাম্পিয়নদের। এবারো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বাসনা নিয়ে দলগুলো শুরু করবে তাদের মিশন। বিশ্বকাপের ইতিহাস ও সংক্ষিপ্ত বিবরণী নিয়ে আজকের আয়োজন-

১৯৭৫ : ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টেস্ট ক্রিকেটের বয়স তখন প্রায় ১০০ বছর। ওয়ানডে ক্রিকেট কেবল হাঁটি হাঁটি পা পা করছে। বয়স মাত্র চার বছর। এ সময়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে মাত্র ১৮টি। বেশ কিছু দলের আবার এ সংস্করণে খেলার অভিজ্ঞতা বলতে গেলে শূন্যই। অবশ্য টেস্ট ম্যাচও যে অনেক হয়েছে তাও নয়, সবমিলিয়ে ৮৪টি। মূলত বাণিজ্য বৃদ্ধি ও খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর স্বপ্নে তড়িঘড়ি করে আয়োজন করা হয় বিশ্বকাপের। আর আয়োজক হিসেবে এর দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্রিকেটের জনক দেশ ইংল্যান্ডকে। ঐতিহ্য ও অবকাঠামোগত সামর্থ্য বিবেচনায় করেই নির্বাচন করা হয় দেশটিকে।

ওয়ানডে ক্রিকেটই তখন হাঁটি হাঁটি পা করছে। এই টুর্নামেন্টের আগে মাত্র ১৮টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে দুনিয়ায়। ঠিক এই সময়ই বৈশ্বিক একটা প্রতিযোগিতা করে মূলত বাণিজ্য বৃদ্ধি ও খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর স্বপ্নে শুরু হয়ে গেলো বিশ্বকাপ। তখন ক্রিকেটের সবকিছুই ইংল্যান্ডকেন্দ্রিক; তাই এমন একটি আয়োজন শুরু করতে স্বাগতিক বাছাইয়ে খুব একটা ভাবনা-চিন্তা করতে হয়নি আয়োজকদের। ইংল্যান্ডের ৬টি ভেন্যুতে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন শুরু হয়ে গেলো বিশ্বকাপ।

৮ দলের এই টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রুডেন্সিয়াল অ্যাসিউরেন্স কোম্পানির নামে নামকরণ করা হলো প্রুডেন্সিয়াল কাপ! তখনকার ৬টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের বাইরে শ্রীলঙ্কা ও ইস্ট আফ্রিকা অংশ নিলো বিশ্বকাপে। প্রতিটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ৬০ ওভারের। প্রথম রাউন্ডে আটটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেললো। গ্রুপের সেরা দুটি করে চার দল এলো সেমিফাইনালে। আর ফাইনালে অনুমান মতোই বাজিমাত করলো ক্লাইভ লয়েডের প্রবল পরাক্রমশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ফাইনালে সেঞ্চুরি করে অমর এক তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেললেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লয়েড নিজেই। লর্ডস, বার্মিংহাম, নটিংহাম, দ্য ওভাল, ম্যানচেস্টার ও লিডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় সবগুলো ম্যাচ। ৮টি দেশের অংশগ্রহণে ৭ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ১৫ দিন ধরে চলে এ আসর। স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও অন্য ৫টি টেস্ট খেলুড়ে দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে অংশ নেয় শ্রীলঙ্কা ও পূর্ব আফ্রিকা। পূর্ব আফ্রিকা মূলত কেনিয়া, উগান্ডা, তাঞ্জানিয়া এবং জাম্বিয়ার খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া। বর্ণবাদী আচরণে নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার জায়গায় সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেয়েছিল দলটি।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে। ৬০ ওভারে রেকর্ড ৩৩৪ রান করেছিল ইংল্যান্ড। তার জবাবে ৩ উইকেটে ১৩২ রান করে ভারত। হারে ২০২ রানের রেকর্ড ব্যবধানে! সে ম্যাচে ওপেনিং নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ১৭৮ বলে মাত্র ৩৬ রান করেছিলেন সুনিল গাভাস্কার। এতো বড় স্কোর তাড়া করতে নেমে কেন এমন ব্যাটিং করেছিলেন তিনি তা আজও রহস্যই থেকে গেছে। মজার ব্যাপার সে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় বলেই কট বিহাইন্ড হয়েছিলেন গাভাস্কার। তবে এজ খুব সূক্ষ্ম হওয়ায় কেউ আবেদন করেননি। ফলে আম্পায়ারও আউট দেননি। বহু বছর পর এ কথা নিয়েই বলেছেন এ ভারতীয়।

টুর্নামেন্টে সব ম্যাড়মেড়ে ম্যাচই দিয়েই আগাচ্ছিল। গ্রুপ পর্বের প্রায় সব ম্যাচই একতরফা। শেষ দিনে এজবাস্টনে পাকিস্তান বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল অবশ্য নাটকীয়তায় ঠাঁসা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬০ ওভারে ২৬১ রানের টার্গেট দিয়েছিল পাকিস্তান। সে লক্ষ্য তাড়ায় ২০৩ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে বসে ক্যারিবিয়ানরা। শেষ উইকেটে অ্যান্ডি রবার্টসকে নিয়ে ৬৪ রানের অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়ে পাকিস্তানকে হতাশায় ডোবান ডেরেক মারে। টুর্নামেন্টও যেন প্রাণ পায়।

১৯৭৯ : ওয়েস্ট ইন্ডিজ
সাদা চোখে দ্বিতীয় বিশ্বকাপটিকে বলা যায় ১৯৭৫ সালের প্রথম সংষ্করণের হুবহু প্রতিলিপি। এবারও ইংল্যান্ডে খেলা, আট দলের টূর্নামেন্ট, ছয়টি ভেন্যুতে খেলা, এবারও পৃষ্ঠপোষক প্রুডেন্সিয়াল এবং এবারও ক্লাইভ লয়েডের হাতে ট্রফি। পার্থক্যটা কোথায়? পার্থক্য বুঝতে হলে সে সময়ের ক্রিকেট রাজনীতিতে ফিরে যেতে হবে। ক্যারি পেকারের ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটের দাপটে তখন বিশ্ব ক্রিকেটের মূল প্রতিষ্ঠানমুখীতা কেপে গেছে। সেই সময়ে এই বিশ্বকাপটি ছিল আইসিসির অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা।

১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলিয় ব্যবসায়ী ক্যারি পেকার তখনকার আইসিসির সঙ্গে প্রবল মতোবিরোধের জের ধরে আয়োজন করেন ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেট। আইসিসির নিষেধাজ্ঞার হুমকি ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও তখনকার দিনের এই ‘আইসিএল’-এ যোগ দেন বিশ্বের নামকরা সব ক্রিকেটার।

আইসিসির সাদা পোশাক ও লাল বলে দিনের আলোয় ‘ম্যাড়মেড়ে’ ওয়ানডের বিপরীতে ক্যারি পেকার সামনে নিয়ে আসনে মোড়ক ভাঙা ঝা চকচকে এক ক্রিকেটের প্রদর্শনী। রঙ্গীন পোশাক, সাদা বল (হলুদাভ), ফ্লাড লাইটের আলোয় খেলা, এক গাদা ক্যামেরায় খেলা সমপ্রচার মিলিয়ে ক্যারি পেকার সাহেব তখন বিশ্ব ক্রিকেটেরই প্রধাণ আকর্ষণ হয়ে দাড়ালেন। আজও চ্যানেল নাইনের সেই সময়ের খেলা সমপ্রচারকে তাক লাগানো এক ব্যাপার বলে মনে করা হয়।

এই অবস্থায় প্রথম শুরু হওয়া আইসিসি ট্রফির ফাইনাল খেলা শ্রীলঙ্কা ও কানাডাকে সঙ্গে নিয়ে আট টেস্ট খেলুড়ে দেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হল দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। তাতেই খুব একটা রক্ষা হয়নি। পরের দু বছর ওয়ার্ল্ড সিরিজে আরও আরও তারকা যোগ দিয়েছেন। এই বিশ্বকাপে খেলা হিসেবে মনে রাখার মতো ব্যাপার নিশ্চয়ই ফাইনালে ভিভ রিচার্ডসের দূরন্ত সেই সেঞ্চুরি।

১৯৮৩ : ভারত
দুটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। ১৯৭৫ সালের পর ১৯৭৯ সালেও চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চার বছর বিরতি দিয়ে ১৯৮৩ সালে আবারও মাঠে গড়ালো বিশ্বকাপের তৃতীয় আসর। এবারও কাগজে-কলমে শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বরং, বলা চলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তখন যে শক্তি, তাতে তাদের সামনে দাঁড়ানোর মত সাহসও যেন কারো ছিল না।

কিন্তু কি আশ্চর্য, সেই পরাক্রমশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই কি না ফাইনালে হারিয়ে বসলো পুঁচকে ভারত! ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অঘটন বলা হয় ফাইনালে ভারতের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হারানোর সেই ঘটনাকে। সে সঙ্গে ক্যারিবীয়দের বাইরে প্রথমবারেরমত কপিল দেবের নেতৃত্বে প্রথম ভারত জিতে বিশ্বকাপের শিরোপা। টানা তৃতীয়বারেরমত বিশ্বকাপের স্পন্সর প্রুডেনশিয়াল বীমা কোম্পানি। যে কারণে বিশ্বকাপের নামকরণও প্রুডেনশিয়াল বিশ্বকাপ। এবারও অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৮টি।

তবে ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে এবার। ১৫ ম্যাচের জায়গায় হয়েছে ২৭ ম্যাচ। এর কারণও আছে। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল পরস্পর দু’বার করে মুখোমুখি হয়েছে। যে কারণে প্রতিটি দলের ৩ ম্যাচের পরিবর্তে খেলতে হয়েছে ৬টি করে ম্যাচ। ১৯৮৩ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই তুমুলভাবে জমে ওঠে নাটকীয়তা। ক্যারি পেকার ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট সিরিজের পর ওয়ানডে ক্রিকেটের নব উদ্যমে যাত্রা শুরু বলা যায় ১৯৮৩ বিশ্বকাপ। তবে সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, এই বিশ্বকাপের শুরুতে ঘটে যাওয়া নাটকীয়তা।

একে নাটকীয়তা বললে কম বলা হয়। ‘বি’ গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচেই দুই টপ ফেবারিট অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিলো যথাক্রমে দুই আউট সাইডার জিম্বাবুয়ে এবং ভারত। ১৯৮৩ বিশ্বকাপের নাটকীয়তার এই শুরু। একেবারে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত এই ‘অঘটনপর্ব’ চলেছে। ইংল্যান্ডে টানা তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এই বিশ্বকাপে ফরম্যাট ও আইন কানুনে বেশ নতুনত্ব যোগ করা হয়। এই বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে ম্যাচের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ডাবল। সে সঙ্গে অন্তত একটি ভেন্যুতে ৩০ গজ সার্কেল চালু করা হলো।

১৯৮৭ : অস্ট্রেলিয়া
বিশ্বকাপ খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করলো ১৯৮৭ সালে। এর আগের টানা তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছে ইংল্যান্ডে। এবার প্রথমবারের মতো সমুদ্র পার হয়ে এই আসর বসলো ভারত ও পাকিস্তানে। শুধু ভেন্যুতেই নয়, আয়োজনের আরও অনেক দিকেই লাগলো পরিবর্তণের ছোয়া। সবচেয়ে বড় পরিবর্তণ হল এখনকার পরিচিত আকার, মানে ৫০ ওভারের ওয়ানডে ক্রিকেট শুরু হল এই বিশ্বকাপে। পৃষ্ঠপোষক প্রুডেন্সিয়ালের জায়গা নিলো ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স।

আর এইসব পরিবর্তনকে দারুন অর্থবহ করে প্রথম শিরোপা জিতলো অস্ট্রেলিয়া। অনেক নাটকীয়তা স্বত্ত্বেও দুই স্বাগতিক প্রতিবেশীকে ছিটকে দিয়ে ফাইনালে চলে গেলো অ্যাশেজ জুটি ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডের জন্য স্বপ্নটা ছিল, নিজেদের দেশের বাইরের প্রথম আসরের ট্রফিটা ঘরে তুলে তিনবারের হাহাকার ঘোচানো। আর অস্ট্রেলিয়ার বিগত সোনালী প্রজন্মের জন্য এটা ছিল প্রয়োজন। দুইয়ে মিলে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল দেখা গেল। ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ট্রফি স্পর্শ করলো অস্ট্রেলিয়ানরা।

১৯৯২ : পাকিস্তান
ক্যারি পেকার সাহেব দাবি করতে পারে, আইসিসি তার থেকে ‘মাত্র’ ১৫ বছর পিছিয়ে। রঙ্গীন পোশাক, ফ্লাড লাইট এর আগে টুকটাক পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন ওয়ানডেতে চালু হয়েছে। তবে এবারই প্রথম আইসিসি পুরোপুরি এই পথে পা বাড়ালো। সেই সঙ্গে খেলোয়াড়দের জার্সির পেছনে নাম লেখা, সাদা বল, ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশন এবং দুই প্রান্তে দুই নতুন বল মিলিয়ে একেবারে আজকের দিনের ক্রিকেট ডানা মেললো ১৯৯২ বিশ্বকাপে এসে। খেলার আইনকানুনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটা এলো বৃষ্টি আইন।

এর আগে রান গড়ের সুবাদে পরে ব্যাট করা দলের সামনে লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া হত। এবার ‘সেরা ওভার’ আইনে বিকট লক্ষ্য দাড়ানো শুরু হল বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ইনিংসে। আর তার সবচেয়ে বড় শিকার হল দক্ষিণ আফ্রিকা। দ. আফ্রিকার বিশ্বকাপ অভিযান এবারই শুরু হল। বর্ণবাদের অভিযোগে নিষিদ্ধ থাকা ক্রিকেটের এই দাপুটে দলটি ১৯৯১ সালে আইসিসির অনুমতি পেল আবার ক্রিকেট খেলার। ফলে তাদের জায়গা দিতে বিশ্বকাপের ফরম্যাটে ব্যাপক রদবদল আনতে হলো। রাতারাতি ৯ দলের এই টূর্নামেন্টকে এক গ্রুপের প্রথম পর্বে পরিণত করা হল; যেখান থেকে সেরা চার দল খেললো সেমিফাইনালে।

এই সেমিফাইনালেই ভুতুড়ে বৃষ্টি আইনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আফ্রিকানদের লক্ষ্য দাড়িয়েছিল ১ বলে ২২ রান! এই বিশ্বকাপের ক্রিকেটকে সবচেয়ে বড় উপহার ছিল পিঞ্চ হিটার ও পাকিস্তানের রোমাঞ্চকর ক্রিকেট। ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশনের সুবিধা নিয়ে ইয়ান বোথাম ও মার্ক গ্রেট ব্যাচরা এক মারকাটারি ব্যাটিং উপহার দিলেন প্রথম ১৫ ওভারে। যার ধারাবাহিকতা এখনও চলছে। তবে সবাইকে ছাপিয়ে গেল ইমরান খানের উদ্ভাবনী ও আকর্ষনীয় নেতৃত্বে ওয়াসিম আকরাম, ইনজামামউল হক, মুশতাক আহমেদদের গল্পগাথা। যে গল্প দিয়ে একমাত্র ট্রফিটি ঘরে তুলে ফেললো এই দলটি।

১৯৯৬ : শ্রীলঙ্কা
প্রথম ১৫ ওভারের ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতার নিয়ম চালু হয় ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে। আর এর চার বছর পর এসে সেই নিয়মকে একটা নতুন মাত্রায় নিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। তখনও পর্যন্ত প্রথম ১৫ ওভারে ৫০ থেকে ৬০ রান হওয়াটাকেই যথেষ্ট বলে মনে করা হত। সেটাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভারত, কেনিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লঙ্কান দলটি প্রথম ১৫ ওভারে তোলে যথাক্রমে ১১৭, ১২৩ ও ১২১ রান। এর মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল কোয়ার্টার ফাইনালের।

এরপর সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষেও শ্রীলঙ্কা প্রথম ১৫ ওভারে করে ৮৬ রান। এর পিছনে ছিল কোচ ডেভ হোয়াটমোরের ক্রিকেট মস্তিষ্ক। আর মাঠে সেটা করে দেখাতে দুই ওপেনার সনাথ জয়সুরিয়া ও রমেশ কালুভিতারানা। সেমিফাইনালে ইডেন গার্ডেন তো বটেই গোটা ভারতকেই কাঁদিয়ে ছাড়ে শ্রীলঙ্কা। এক লাখ দর্শকের সামনে প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা করে আট উইকেটে ২৫১। আর ৩৫ তম ওভারে মাত্র ১২০ করতেই আটটি উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। এরপর হতাশ সমর্থকদের ‘বোতল-হামলা’য় প্রায় ২০ মিনিটের মত বন্ধ থাকে ম্যাচ। এরপর পুনরায় খেলা শুরু হলেও দর্শকদের থামিয়ে রাখা যাচ্ছিল না। ম্যাচ রেফারি ক্লাইভ লয়েড তাই বাধ্য হয়েই শ্রীলঙ্কাকে জয়ী ঘোষণা করে দেন।

যদিও পরবর্তীতে এই সিদ্ধন্ত নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। লাহোরের গাদ্দাফী স্টেডিয়ামের ফাইনালে বড় একটা জুয়াই খেলে শ্রীলঙ্কা। ইতিহাস বলে প্রথমে ব্যাট করারাই জিতে বিশ্বকাপের শিরোপা। আর শ্রীলঙ্কা টসে জিতে নেয় বোলিং। মার্ক টেলরের ৭৪ রানের ইনিংসে ভর করে সাত উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া করে ২৪১ রান। জবাবে মাত্র ৪২ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে লঙ্কানরা। এরপরেই দৃশ্যপটে হাজির হন অরবিন্দ ডি সিলভা। তার অপরাজিত ১০৭ রানের কল্যানেই শেষ পর্যন্ত প্রথম বারের মত বিশ্বকাপ জিতে নেয় কোন স্বাগতিক দেশ। অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গার হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি ওঠার সাথে সাথে নিজেদের ক্রিকেটের নতুন পর্বে পা রাখে দেশটি।

১৯৯৯ : অস্ট্রেলিয়া
তিনটি আসর পর বিশ্বকাপ আবারও ফিরে আসলো ইংল্যান্ডে। তবে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপকে মনে রাখে অন্য একটা কারণে। সেবারই যে প্রথম বিশ্বকাপের মত বড় আসরে খেলে ফেললো আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বাংলাদেশ। প্রথম অংশগ্রহণে হতাশ কিন্তু করেনি বাংলাদেশ। প্রথম দুই খেলায় নিউ জিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারে তারা। তবে তৃতীয় ম্যাচে আইসিসির সহযোগী সদস্য হিসেবে তখনকার সতীর্থ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পায় প্রত্যাশিত জয়। আগে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৮৫ রান তোলে বাংলাদেশ। মিনহাজুল আবেদীনের অপরাজিত ৬৮ রান ইনিংসটি টেনে নেয় অত দূর। এরপর স্কটল্যান্ডকে ১৬৩ রানে অলআউট করে ২২ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের প্রথম জয়। দ্বিতীয় জয়টি আরো বিখ্যাত।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে তখনও পর্যন্ত অপরাজিত পাকিস্তানকে যে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ! নিজেরা ৯ উইকেট ২২৩ রান তোলার পর পাকিস্তানকে ১৬১ রানে অলআউট করে ৬২ রানের সেই ঐতিহাসিক জয়। ১০ ওভারে ৩১ রান দিয়ে তিন উইকেট নেওয়ায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ খালেদ মাহমুদ সুজন। বাংলাদেশের উত্থান বাদেও মনে রাখার মত অনেক কিছুই রেখে গেছে বিশ্বকাপ।

ল্যান্স ক্লুজনারের ‘নায়ক’ থেকে ট্র্যাজিক নায়ক’ হয়ে ওঠা; সেমিফাইনালে অ্যালান দিগ্বিদিকশূণ্য সেই দৌড়; দক্ষিণ আফ্রিকানদের আবারও চোকার হয়ে ওঠা; শেন ওয়ার্নের স্পিন-বিষ; সুপার সিক্স নিয়মের প্রচলন এতো কিছুর পরও শেষটায় এসে উত্তেজনা ধরে রাখতে পারেনি বিশ্বকাপ। ফাইনালটা হয়েছিল একেবারেই একতরফা। ৩৯.১ ওভার ব্যাটিং করে মাত্র ১৩২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ ট্র্রফি জঢ নিশ্চিত করে মোটে ২০.১ ওভারেই; তাও মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে। শুরু হয় অজেয় অস্ট্রেলিয়ার যুগ।

২০০৩ : অস্ট্রেলিয়া
১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত ফাইনালে উঠেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপরে কেবল ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপেই ফাইনালে দেখা যায়নি দলটিকে। এরপর ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু করে টানা চারটি বিশ্বকাপের আসরে ফাইনালে চলে যায় অস্ট্রেলিয়া। এক অর্থে তাই ২০০৩ সালের বিশ্বকাপটাকে বলা যায় অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্ত বিস্তারের আরেকটি ধাপ। বিশ্বকাপে তাদের সামনে প্রায় কোন দলই দাঁড়াতে পারেনি। প্রায় এক তরফা লড়াইয়েই আবারও বিশ্বকাপটা নিজেদের করে নেয় তারা। আর সেই আধিপত্তের বড় একটা নজির দেখা যায় ফাইনালেই।

সেবার, প্রথমে ব্যাট করে ৩৫৯ রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের ফাইনালে এখন পর্যন্ত এটাই কোন দলের দলীয় সর্বোচ্চ রান। এর চাপে ভেঙে পরে ভারত। ৩৯ ওভার এক বলে অল আউট হওয়ার আগে ভারত করতে পারে মাত্র ২৩৯ রান। বড় জয় নিয়েই বিশ্বকাপটা নিজেদের করে নেয় দলটি। বড় চমক দেখায় কেনিয়া। টুর্নামেন্টের সহযোগী আয়োজক দেশটি পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে। সেবারই প্রথম ও শেষবার আইসিসির সহযোগী কোন দেশকে দেখা যায় শেষ চারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য ২০০৩ সালের বিশ্বকাপটা ভুলে যাওয়ার এক মিশন। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপটা অভিষেক হিসেবে দারুন কাটে বাংলাদেশের। কিন্তু, চার বছর পরের গল্পের পুরোটাই হতাশার কাব্য। গ্রুপ পর্বের কোন ম্যাচেই জিততে পারেনি খালেদ মাসুদ পাইলটের দল। এমনকি দুর্বল কানাডা ও কেনিয়ার বিপক্ষেও হারতে হয়।

২০০৭ : অস্ট্রেলিয়া
রহস্যময় মৃত্যু, অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনা, বিশাল বাজেট ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ক্রিকেট বিশ্বে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছিলো ২০০৭ বিশ্বকাপ। তবে, সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভারতকে চোখের জলে ভাসিয়ে বাংলাদেশের প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করা ছিল এই আসরের উল্লেখযোগ্য দিক। সেই সাথে লঙ্কান বোলার লাসিথ মালিঙ্গার টানা চারটি উইকেট। চালু করা হয় থার্ড আম্পায়ার পদ্ধতি। সবকিছু মিলিয়ে কমতি ছিলো না ক্রিকেটীয় উন্মাদনা।

আমাদের নিয়মিত আয়োজন ফিরে দেখা বিশ্বকাপে আজকে থাকছে ২০০৭ বিশ্বকাপ। প্রায় তিন দশক পর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল বরণ করে নিলো ক্রিকেট বিশ্বকাপকে। তবে, শিরোপা নয় বিশ্বকাপের নবম আসরের আয়োজক হিসেবে।আইসিসির পূর্ণ সদস্যের ১০ দেশ ছাড়া আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মাধ্যমে ২০০৭ বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছিলো কেনিয়া, কানাডা, স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও বারমুডা। প্রথমবারের মত ১৬টি দেশে চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশ নিয়েছিলেন ২৪টি ম্যাচে।

এদিকে অঘটনের রচনা হয়েছে গ্রুপ ‘ডি’তে। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে অংশ নেয়া আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে বসে ইনজামাম, ওয়াসিম ও ইউসুফের মত তারকা খচিত পাকিস্তান। সুপার এইট নিশ্চিত করে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড। এখানেই শেষ নয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হারের ক্ষত ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই হোটেল রুমে মৃত অবস্থায় পাওয়া পায় পাকিস্তানের কোচ বব উলমারকে। রহস্যময় মৃত্যু প্রাথমিক তদন্তে খুন বলে দাবি করলেও দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে উলমারের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলেই ঘোষণা করে ক্যারিবিয়ান পুলিশ। সুপার এইটে অনুষ্ঠিত হয় ২৪টি ম্যাচ।

অপরাজিত হয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমি ফাইনালে টিকিট কাটে চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। সেমিফাইনালে অন্যদেশ গুলো হল শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালের প্রথম টিকিট কাটে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে, চোকার দক্ষিণ আফ্রিকাকে থমকে দিয়ে ফাইনালের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়া। ২৪ এপ্রিল কিংস্টন ওভালে ফাইনালে বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে গিলক্রিস্টের রেকর্ড ঝড়ো ১৪৯ রানের উপর ভর করে ২৮১ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় অস্ট্রেলিয়া।

জবাবে, সাঙ্গাকার ও মাহেলা জুটির ১১৬ রানের উপর ভর করে জয়ের স্বপ্ন বুনতে থাকে লঙ্কানরা। কিন্তু আলোক স্বল্পতার কারণে তিন ওভার আগে খেলা স্থগিত হলে জয় উৎসব শুরু করে অজিরা। পরবর্তীতে দু’দলের অধিনায়কের সম্মতিতে জয়ী ঘোষণা করা হয় অস্ট্রেলিয়াকে। যা বিশ্বকাপে অজিদের ৪র্থ শিরোপা। আর ম্যাচটি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়া হয় ম্যাচ রেফরি সহ ম্যাচের তিন আম্পায়ারকে।

২০১১ : ভারত
বিশ্বকাপ নিয়ে এবার অনেক আগে থেকেই আলোচনা শুরু হয়। লাহোরে ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের উপর বোমা হামলার জের ধরে পাকিস্তান হারায় তাদের আয়োজক হওয়া যোগ্যতা। তাদের যে ১৪ টি ম্যাচ আয়োজনের কথা ছিল সেসব পরে ভাগাভাগি হয়ে যায় বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে। মনোরম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পর্দা উঠে বিশ্বকাপে।

উদ্বোধনী ম্যাচে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে ৮৭ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই ভাবে দাপট দেখিয়ে যায় ভারত। শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এবার ওয়ানডে বিশ্বকাপও জিতে নেয় ভারত। ফাইনালে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মত স্বাগতিক কোন দেশ নিজেদের সমর্থকদের সামনে তুলে ধরে বিশ্বকাপ। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেয় ছয় উইকেটের ব্যবধানে।

ব্যাট-বলের অনন্য পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স দেখান যুবরাজ সিং। টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার তার হাতে। বিদায় বেলায় থাকা ব্যাটিং কিংবদন্তী শচীন টেন্ডুলকারও গোটা ক্যারিয়ারের একমাত্র অপ্রাপ্তি মুছে ফেলেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য টুর্নামেন্টটা হয়ে আছে হতাশার এক ইতিহাস হয়ে। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ছয়টি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জিতেছিল সাকিব আল হাসানের দল। সমান ম্যাচ জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজও।

কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যথাক্রমে ৫৮ ও ৭৮ রানে অল আউট হওয়ার স্মৃতি। নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে শেষ আটে চলে যায় ক্যারিবিয়রা।

২০১৫ : অস্ট্রেলিয়া
২০১৫ সালের শুরুটাই ছিলো ক্রিকেট বিশ্বকাপের উত্তেজনায় ভরপুর। যেখানে, বিশ্বের ক্রিকেট পাগল জাতি কিউই ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিলের অপরাজিত ২৩৭ রানের দানবীয় ইনিংস দেখেছে, সাথে ছিলো শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারার বিশ্বকাপ মঞ্চে টানা ৪টি সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে রাজসিক বিদায়। পাশাপাশি, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দাপটের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তীর্ণ হয় এই আসরেই। ২০১৫-র ১৪ ফেব্রুয়ারি আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর বসেছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। ১৪টি দেশকে নিয়ে আয়োজিত ১১তম এই আসর ছিলো চমকে ভরপুর।

বাংলাদেশ ও ভারতের কোয়াটার ফাইনালের ম্যাচে কলঙ্কিত এক ঘটনার সাক্ষী হয় পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ভারতের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিতে হয় টাইগারদের। তবে এর বাইরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিউই ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিলের অপরাজিত ২৩৭ রানের ব্যক্তিগত দানবীয় ইনিংস, গেইল স্যামুয়েলসের ৩৭২ রানের পাহাড়সম জুটি ও বিশ্বকাপ ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার করা দলীয় সর্বোচ্চ ৪১৭ রানের ইনিংস দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। কিংবদন্তী ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারার বিদায়।

তবে, সেই বিদায়টা পুল-পর্বের ম্যাচে টানা ৪ ম্যাচে ৪ শতক করে রাজসিক ভাবেই নিয়েছেন তিনি। এদিকে, ফাইনালের ম্যাচে পুরো টুর্নামেন্টে দাপুটে কিউইরা ধরাশায়ী হয় অজিদের কাছে। ফাইনালে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের পঞ্চম শিরোপা ঘরে তোলে অস্ট্রেলিয়া।


#বিশ্বকাপের ফাইনালের নায়ক যারা
এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১১টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়া ক্রিকেটারদের নাম ও সে সকল পারফরম্যান্সের কথা পড়ুন-

ক্লাইভ লয়েড, ১৯৭৫
ইংল্যান্ডে ১৯৭৫ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয় ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। প্রুডেন্সিয়াল প্রাইভেট লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় টুর্নামেন্টটি আয়োজিত হওয়ার কারণে এর নাম দেয়া হয়- প্রুডেন্সিয়াল বিশ্বকাপ। প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় ক্লাইভ লয়েডের তৎকালীন অপ্রতিরোধ্য দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর প্রথম বিশ্বকাপ জিততে দলকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেন ক্লাইভ।
ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ব্যাট হাতে মাত্র ৮৫ বলে ১০২ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন ক্লাইভ লয়েড। এরপর বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান ডগ ওয়াল্টারস ও দলীয় অধিনায়ক ভয়ঙ্কর হতে থাকা ইয়ান চ্যাপেলকে ব্যক্তিগত ৬২ রানে রানআউট করে ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দেন ক্যারিবীয় কিং। ফলে ফাইনাল জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে তোলেন ক্লাইভ লয়েড।

ভিভ রিচার্ডস, ১৯৭৯
১৯৭৫ এরপর ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপও জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে বিশ্বসেরার শিরোপা হাতে তোলে ক্যারিবীয়রা। ফাইনালে ইংলিশদের বিপক্ষে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার (৬০) শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৮৬ রান।থ্রি-লায়ন্সদের বিপক্ষে একাই ১৩৮ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস। এরপর জোয়েল গারনার, কলিন ক্রফটদের বোলিং তোপে মাত্র ১৯৪ রানেই গুটিয়ে যায় মার্ক ব্রেয়ারলির দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি গারনার ম্যাচে ৫ উইকেট পেলেও, রিচার্ডস ১৩৮ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলার কারণে তার হাতেই তুলে দেয়া হয় ফাইনাল সেরার অ্যাওয়ার্ড।

মহিন্দর অমরনাথ, ১৯৮৩
তৃতীয় প্রুডেন্সিয়াল বিশ্বকাপও অনুষ্ঠিত হয় ইংল্যান্ডে। বরাবরের মতো সবাইকে পেছনে ফেলে ৮৩ বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠে যায় ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে উপমহাদেশের প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে উঠে বিশ্বকে চমকে দেয়া ভারত। ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেয় তারা আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৮৩ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। জবাব দিতে নেমে ক্যারিবীয়রা সেদিন দাঁড়াতেই পারেনি ভারতের বোলারদের সামনে।প্রথমে মদন লাল ও পরে মহিন্দর অমরনাথের বোলিং তোপে দিশেহারা হয়ে মাত্র ১৪০ রানের মধ্যে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মদন লাল নেন ৩ উইকেট আর ৭ ওভারে মাত্র ১২ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করেন অমরনাথ। এর আগে, ব্যাট হাতে দলের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৬ রান করায় ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে অমরনাথের হাতে।

ডেভিড বুন, ১৯৮৭
বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া তাদের ইতিহাসে প্রথম ফাইনাল খেলে ১৯৮৭ ভারত বিশ্বকাপে। দ্বিতীয়বারেরমত ফাইনাল খেলতে নেমে বাজিমাত করে ক্যাঙ্গারুরা। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টসে জিতে আগে ব্যাট করে অসিরা। ডেভিড বুনের ইনিংস সেরা ৭৫ রানের উপর ভর করে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৫৩ রান।জবাব দিতে নেমে জয়ের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে যায় ইংলিশরা। তবে শেষতক ৭ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয় তাদের। বলা হয়, বুনের ওই ইনিংসটি গ্লুর মতো অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসটিকে বেঁধে রেখেছিল বিদায় সেদিন আড়াই’শ পেরোতে পেরেছিল অসিরা। তাই ম্যাচ সেরার পুরস্কারও তুলে দেয়া হয় ওপেনার বুনের হাতে।

ওয়াসিম আকরাম, ১৯৯২
১৯৯২ বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। তবে আগের আসরগুলোর মতো এবারও বিশ্বকাপ জয়ের আশাভঙ্গ হয় তাদের। এবার তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ করে পাকিস্তান।অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইমরান খানের নেতৃত্বে আন্ডারডগ হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে আসলেও ফাইনালে উঠে যায় পাকিস্তান। ফাইনালে নিজেদেরকে আনপ্রেডিক্টেবল প্রমাণ করে পাকিস্তান।টস জিতে আগে ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে ২৪৯ রান তোলার পর থ্রি লায়ন্সদের ২২৭ রানের মধ্যে আটকে দিয়ে বাজিমাত করে ইমরান খানের দল।এদিকে পাকিস্তানের হয়ে ব্যাট হাতে মাত্র ১৮ বলে ৩৩ রানের ঝড়ো ক্যামিও খেলার পর বল হাতেও ফাইনালে নিজেকে বেশ সফল প্রমাণ করেন ওয়াসিম আকরাম। ৪৯ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ব্যাটে-বলে দারুণ পাররম্যান্সের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও তাই হাতে তোলেন ওয়াসিম।

অরভিন্দ ডি সিলভা, ১৯৯৬
১৯৮৭ বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে ভারত-পাকিস্তানের পর এশিয়ার তৃতীয় দল হিসেবে ৯৬ ফাইনাল খেলে শ্রীলঙ্কা। আগের আসরগুলোর মতো এশিয়ান দল হিসেবে ফাইনালে না হারার রেকর্ড ধরে রাখে লঙ্কানরা।টসে জেতার পর তৎকালীন লঙ্কান অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় মার্ক টেলরের অস্ট্রেলিয়াকে। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভার শেষে ২৪১ রানে থামে অসিদের ইনিংস। জবাব দিতে নেমে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্ট সেরা সনাৎ জয়সুরিয়া সেদিন মাত্র ৯ রানে রানআউটের ফাঁদে পা দিলেও, অরভিন্দা ডি সিল্ভার অপরাজিত ১০৭ রানের সুবাদে ম্যাচ জিতে নেয় লঙ্কানরা। ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলার জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান ডি সিল্ভা।

শেন ওয়ার্ন, ১৯৯৯
এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে পাকিস্তান। তবে স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়ার কাছে সেদিন পাত্তাই পায়নি ওয়াসিম আকরামের দল। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৩২ রানে গুটিয়ে যায় তারা। জবাব দিতে নেমে মাত্র ২০ ওভারেই ফাইনাল জিতে নেয় অসিরা। ৩৩ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে ধসিয়ে দেয়ায় ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান লেগ স্পিন কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন।

রিকি পন্টিং, ২০০৩
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর প্রথম দল হিসেবে ২০০৩ সালে টানা দুটি বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়া। রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন দল ফাইনালে ভারতকে একপ্রকারে উড়িয়ে দিয়ে জিতে নেয় বিশ্বকাপ। ম্যাচ সেরা হন দলীয় অধিনায়ক পন্টিংই। জোহানেসবার্গে আগে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের তুলোধোনা করে স্কোরবোর্ডে ৩৫৯ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায় অসিরা। পন্টিংয়ের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১৪০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। জবাব দিতে নেমে সৌরভ গাঙ্গুলির ভারত মাত্র ২৩৪ রানেই অলআউট হয়ে যায়।

অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ২০০৭
ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে ২০০৭ সালে হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপ জেতে অস্ট্রেলিয়া। এবারও রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বে শিরোপা উল্লাসে মাতে তারা। ৯৬ বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেবারের শিরোপা হাতে তোলে অসিরা। ফাইনালে লঙ্কানদের বিপক্ষে একাই সব হিসেব ওলটপালট করে দেন ওপেনার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। ম্যাচে একবার জীবন পেয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফাইনাল ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪৯ রানের ইনিংসটি খেলেন গিলক্রিস্ট। বৃষ্টি বিঘ্নিত সেই ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া জেতে ৫৩ রানে। আর গিলক্রিস্টের হাতে তুলে দেয়া হয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

মহেন্দ্র সিং ধোনি, ২০১১
১৯৮৩ বিশ্বকাপের পর আর কখনো শিরোপা জিততে না পারা ভারত দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফাইনালে ওঠে ২০১১ বিশ্বকাপে। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ সহযোগী আয়োজক শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ট্রফি জিতেও নেয় তারা। ফাইনালের নায়ক হন কাপ্তান ধোনিই। শ্রীলঙ্কার দেয়া ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বীরেন্দর শেবাগ ও শচিন টেন্ডুলকারের উইকেট হারালেও গৌতম গম্ভীরের ৯৭ ও ধোনির ৯১ রানের উপর ভর করে ৬ উইকেট হাতে রেখেই পার করে ফেলে ভারত। গম্ভীর ইনিংস সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেললেও ধোনি ঝড়ো ৯১ রান করায় পান ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

জেমস ফকনার, ২০১৫
হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে হতাশাকে পাশ কাটিয়ে উঠে ঘরের মাঠে আয়োজিত ২০১৫ বিশ্বকাপ জিতে নিয়ে ফের বিশ্বমঞ্চের সেরাদের মুকুট মাথায় তোলে অসিরা। মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বে সহযোগী আয়োজক দেশ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে পঞ্চম বিশ্বকাপ জেতে তারা। মেলবোর্নে ফাইনাল ম্যাচে টসে জিতে আগের ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। তবে মিচেল স্টার্ক, মিচেল জনসন ও জেমস ফকনার এই তিন বাঁহাতির বোলিং তোপে মাত্র ১৮৩ রানের মধ্যেই গুটিয়ে যায় ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দল। জবাব দিতে নেমে অধিনায়ক ক্লার্কের সর্বোচ্চ ৭৪ ও স্টিভ স্মিথের ৫৬ রানের সুবাদে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জিতে নেয় স্বাগতিকরা। এদিকে ৩৬ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া অলরাউন্ডার ফকনার পান ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত