শিরোনাম

বিলুপ্তির পথে দৌলতপুরের কামারশিল্প

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি  |  ২৩:৪৪, মে ১৫, ২০১৯

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে মানুষের জীবনধারা। সেই সাথে বদলে গেছে মানব রুচি। দিন বদলের প্রতিযোগিতার সাথে তাল মিলিয়ে যেসব শিল্প মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরি করতে পারছে না তার প্রথম সারিতে রয়েছে কামার শিল্প।

আধুনিকতার চাহিদা মেটাতে না পারায় দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে কামার শিল্প। আর কামার শিল্পিদের জীবনে নেমে আসছে চরম দুর্দিন।

সম্প্রতি এ শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক টানাপড়েনে ও বিপাকে পড়েছে শিল্পীরা। দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করেও দুই-বেলা পেট পুরে খাওয়ার সৌভাগ্য হচ্ছে না তাদের। তাছাড়া অর্থাভাবে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সর্বক্ষেত্রেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে কামার শিল্প কারিগররা।

ফলে ইতোমধ্যে অনেকেই ছেড়ে দিয়েছে বাপ-দাদার এ পেশা। উপজেলার ফিলিপ নগর কামার শিল্পের কারিগর সাজদার কর্মকার (৫০) জানান, দেশজুড়ে দা, বটি, খন্তা, কুড়াল, কোদাল, ছুরি, নিড়ানি, লাঙলের কিছু চাহিদা থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসান হচ্ছে আমাদের।

এ শিল্পের প্রধান উপকরণ হচ্ছে লোহা ও ইস্পাত। লোহা ও ইস্পাতের অস্বাভাবিক হারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এক বস্তা কাঠ কয়লা ক্রয় করতে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা লাগে। যা ২-৩ বছর আগে অর্ধেকেরও কম মূল্যে পাওয়া যেত। অথচ আমাদের তৈরি জিনিসপত্রের দাম খুব একটা বাড়েনি।

উপজেলার আল্লার দর্গা হিন্দু পাড়ার কামার শিল্পের সুদিপ্ত কর্মকার বলেন, আমি ২৪ বছর ধরে কামার শিল্পের কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে কয়লা ও লোহার দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধিতে লোকসান শুনতে হচ্ছে।

তাই সরকার যদি আমাদের কামার শিল্পের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়ায় হয়তো আবার এ শিল্প মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। তাছাড়া এখন আধুনিক প্রযুক্তিতে স্টিল দিয়ে নির্মিত দা, ছুরি, কুড়ালসহ অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ বাজারে রেডিমেট কিনতে পাওয়া যায়।

তাই অনেকে আমাদের তৈরি জিনিস ক্রয় করতে চায় না। এমতাবস্থায় সরকারসহ দেশের সকল বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন অসহায় এ সম্প্রদায়ের কামার শিল্প কারিগর।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত