শিরোনাম

চলনবিলে মহিষ গাড়ীর কদর বাড়ছে

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি  |  ১৩:৪৪, মে ১০, ২০১৯

এক কালে গ্রামীণ জনপদের উঁচু-নীচু দূূূর্গম পথ পারি দিয়ে মালবহনের জন্য গরু ও মহিষ গাড়ীর কোনো বিকল্প ছিলনা। ৩০ বছর আগেও এই গাড়ী দুটির ব্যাপক ব্যবহার ছিল। সেকালের জনপ্রিয় এই পরিবহন দুটো বর্তমান যুগে একেবারেই বিলুপ্তের পথে। কালের বিবর্তনে প্রযুক্তির উন্নয়নের ধারায় এসেছে মটর চালিত বিভিন্ন যানবাহন।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও পরিবেশ বান্ধব সেকালের সেই জনপ্রিয় যানবাহন আবারও ফিরে এসেছে দেশের বৃহত্তম চলনবিল অঞ্চলে। চলতি ইরি-বোরো ধান কাটার এই মৌসুমে কৃষি প্রধান চলনবিল অঞ্চলের জমি থেকে পাকা ধান পৌছে দিচ্ছে কৃষকের বাড়ি।

সম্প্রতি নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত সাত পুকুড়িয়া ও ডাহিয়ার মাঠে গিয়ে মহিষ গাড়ীতে ধান আনার দৃশ্য চোখে পড়ে। প্রায় ২০-২৫টি মহিষ গাড়ীর একটি দল সারিবদ্ধ ভাবে বিল মাঠের দুরের জমি থেকে গাড়ী বোঝাই পাকা ধান বহন করে আনছেন কৃষকের খোলায়।

এভাবে জমি থেকে কৃষকের বাড়ি পৌছে দিতে বিঘা প্রতি মজুরী নিচ্ছেন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫ শত টাকা। সাতপুকুড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ,মকবুল ও তাহের মোল্লা বলেন- আমাদের জমি বিলের মধ্যে থাকায় কাদা-পানি ও উচু নীচু দুরের পথ পারি দিয়ে শ্রমিকরা মাথায় করে ধান বহন করতে আগ্রহী হয়না।

যার কারণে কোনো শ্রমিকই এই দুরের জমিগুলোর ধান কাটতে রাজি হয় না। তাই মহিষ গাড়ী ভারা জরে ধান আনার ব্যবস্থা করছি। তারা আরও বলেন-এই বিলের তলীর জমিগুলো নীচু হওয়ায় বিপদের সীমা নাই। একটু বৃষ্টি হলেই জমির ধান তলিয়ে যায়। তাছাড়া
কোনে কোনো বছর আগাম বন্যার পানি আসলে পাকা ধান কেটে আনার আগেই তলিয়ে যায়।

কৃষকরা আরও বলেন- গত বছর থেকে এই মৌসুমে ভারাটে মহিষ গাড়ী আসায় আমাদের খুব উপকার হচ্ছে। এর আগের কয়েক বছর ধরেই এ সব জমির ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে।

নাটোরের লালপুর থেকে আসা ভারাটে মহিষ গাড়ীর চালক গাড়িয়াল মতলেব সরদার বলেন- আমরা ১৮ টি মহিষ গাড়ীর একটি দল এই এলাকায় ৮-১০ দিন ধরে কাজ করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে আরও সপ্তাহ খানেক কাজ করবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত