শিরোনাম

একটি টিপের ওপর প্রতিকৃতি আঁকতে চারুশিল্পী প্রিয়াংকা

শিমুল বিশ্বাস, চাটমোহর (পাবনা)  |  ২০:০৮, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

কখনও তিনি মেয়ে, কখনও স্ত্রী, কখনও একজন মা। তবে তার বড় পরিচয় তিনি একজন চারুশিল্পী। বাজারের সাধারণ টিপকে রং-তুলির ছোঁয়ায় অসাধারণে পরিণত করা এই চারুশিল্পীর নাম প্রিয়াংকা সিকদার। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বাঙালির সংস্কৃতি থেকে শুরু করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মাদার তেরেসা, বেগম রোকেয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ নানা গুণীজনের প্রতিকৃতি এঁকেছেন তিনি কপালের টিপে। রং-তুলির ছোঁয়ায় যে ‘অসাধারণ’ কিছু হতে পারে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। শখের বসে টিপের ওপর তৈরি করা শিল্পকর্ম তাকে এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

প্রিয়াংকা সিকদার জানান, রাজবাড়ির পাংশা উপজেলায় শৈশব পার করলেও রাজশাহী শহরের বেলদার পাড়ায় বেড়ে ওঠা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইনে মাস্টার্স শেষ করেছেন আঁকিবুঁকির কাজ শুরু। বাবা জয়দেব সিকদার কারুশিল্পের ব্যবসা করেন। মা নীলিমা সিকদার গৃহিণী। প্রায় ছয় বছর আগে বর্তমানে চাটমোহরের ইউএনও সরকার অসীম কুমারের সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের আড়াই বছর বয়সী একমাত্র সন্তান অরিত্র। সংসার সামলানোর পাশাপাশি পড়াশোনা, ফ্রিল্যান্সিং, পোস্টার ডিজাইন, বইয়ের কভার ডিজাইন, টি-শার্ট ডিজাইন করাসহ নানা কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন প্রিয়াংকা।

তিনি জানান, ছোট বেলায় বাবা-মা’র উৎসাহে চিত্রকর্মের প্রেরণা পেলেও শ্বশুড় অমূল্য সরকার ও স্বামী অসীম কুমারের উৎসাহ তাকে আরও নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ছোটদের জন্য ‘রবিনের একদিন’ বইয়ের ডিজাইন, ‘ছোটদের নজরুল’ নামে বইয়ের ইলাস্টেশনের কাজ করাসহ অসংখ্য কাজ করেছেন। এছাড়া চাটমোহর উপজেলায় বিভিন্ন দিবসের আমন্ত্রণ পত্রের (কার্ড) ডিজাইনও তিনি করেছেন। এবার পয়লা বৈশাখে সাজের জন্যও এঁকেছেন অনেক টিপ। শুধু ইউএনও’র স্ত্রী হিসেবে নয়, কর্মময়ী একজন নারী হিসেবে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।

প্রিয়াংকা বলেন, একটি টিপের ওপর প্রতিকৃতি আঁকতে সময় লাগে প্রায় আধা ঘন্টা। এই টিপ তিনি নিজে পড়েন, অন্যকে উপহার দেন। ভারতের প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী ঊষা উথুপ, দেশের মধ্যে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল আঁকিবুঁকি করা টিপ পড়তেন। তাদের কপালের সেই টিপ দেখে ভাল লেগে যায়। এরপর থেকেই টিপের ওপর প্রতিকৃতি আঁকানো শুরু।

স্ত্রীর এমন কাজে বেশ গর্বের সাথে ইউএনও সরকার অসীম কুমার জানালেন, ‘সন্তান, সংসার সামলিয়ে সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করা সত্যি দূরহ। আমি তার রুচি ও মননশীল কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। তার কাজ আমাকে সত্যিই গর্বিত করেছে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত