শিরোনাম

গঠনতন্ত্র সংশোধনে লিখিত বক্তব্য চায় কর্তৃপক্ষ

প্রিন্ট সংস্করণ॥ রাসেল মাহমুদ  |  ০৩:০৫, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পক্ষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ^বিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ১৩টি ছাত্র সংগঠনের সাথে গঠনতন্ত্র সংশোধন ও যুগোপযোগী ইস্যুতে আলোচনা করেছে কর্তৃপক্ষ। আলোচনায় ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরেন। আর কর্তৃপক্ষ ছাত্রনেতাদের বক্তব্য শোনার পর আগামী সোমবার পর্যন্ত লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনের সময় বেধে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের লাউঞ্জে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে বৈঠক করে কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় এবার প্রার্থিতার বিষয়টি নিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তাছাড়া কারা ভোটার হবেন, কারা প্রার্থী হবেন আর সংবিধান আগের মতোই থাকবে কিনা তা নিয়ে সব মহলেই আলোচনা ওঠে। কারণ ২৮ বছর পূর্বে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সংবিধান বর্তমানে কতোটুকু কার্যকর বা কতোটুকু গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে ছাত্র সংগঠনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নানা আলোচনা হয়। গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে প্রশাসনও। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়।গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান, সদস্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা ও অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা। এছাড়া ১৩টি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিবৈঠক শেষে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়েছিল। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিগগিরই ডাকসু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর, সেজন্য এই কমিটি কাজ করছে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করেছি। এখানে যেসব ছাত্র সংগঠন ক্রিয়াশীল রয়েছে, তারা তাদের বক্তব্য দিয়েছে। কোথায় কোথায় সংযোজন-বিয়োজন দরকার, তা কেউ কেউ লিখিতভাবে, কেউ মৌখিকভাবে জানিয়েছে। যেহেতু অনেকে দাবি করছে, তারা নিজেদের বক্তব্য বা প্রস্তাবনা উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়নি, তাই সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনগুলোকে সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য লিখিত আকারে জমা দিতে পারবে।’বৈঠকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলাদাভাবে তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরেন। বৈঠকসূত্রে জানা যায়, সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ থেকে ডাকসু নিয়ে বেশকিছু দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সেক্রেটারিয়েটের সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যাকেন্দ্রিক আলাদা সম্পাদকের পদ সৃষ্টি অন্যতম।অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা ও ক্যাম্পাসে সকল সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেন সমান সুযোগ পায় সে বিষয়ে প্রস্তাবনা রাখা হয়। বাম সংগঠনের প্রতিনিধিরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল করা (নিয়মিত) শিক্ষার্থীদের সদস্য রাখা, দীর্ঘদিন পরে নির্বাচন হচ্ছে বিধায় একটি নির্দিষ্ট সেশন পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগদান, সভাপতির ক্ষমতা হ্রাস এবং সেক্রেটারিয়েট বডির সদস্যদের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নানা প্রস্তাবনা পেশ করে।বৈঠক শেষে ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা বৈঠকে আমাদের প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেছি। আমরা চাই সকল সংগঠন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।’ ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী তারা ক্যাম্পাসে আসছেন আড্ডা দিচ্ছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি তাদের মতাদর্শ গ্রহণ করে নেয় তাহলে তারা ক্যাম্পাসে আসতে পারবে, কেউতো তাদের বাধা দিচ্ছে না।’ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, ‘আমরা মনে করতে চাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের তিনি বলেন, ‘সহাবস্থ্না নিশ্চিত না হলে আমরা নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারি।’ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর বলেন, ‘ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্রে সভাপতিকে একচেটিয়া ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এতে সভাপতি (উপাচার্য) নির্বাচিত প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করতে পারবে। তিনি যে বিষয়ে চাইবেন সে বিষয়ই আলোচিত হবে। আমরা বিষয়গুলোর পরিবর্তনের প্রস্তাবনা রেখেছি। পাশাপাশি যেহেতু দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি তাই আমরা একটি নির্দিষ্ট সেশন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বলেছি।’ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের ভেতরে-বাইরে কাজ একই। সবকিছুই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হচ্ছে। ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন করার পরিকল্পনায় আমরা অটল। সেভাবেই আমরা এগুচ্ছি।’ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দীকী, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক রাজিব দাস, বিসিএলের ঢাবি সভাপতি চন্দ্র নাথ পাল, সাধারণ সম্পাদক, মাহফুজুর রহমান রাহাত, ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক তমা বর্মন, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীরসহ ১৩টি ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

প্রক্টরিয়াল টিমের পাহারায় বৈঠকে ছাত্রদল নেতারা
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে সংবিধান সংশোধনের বৈঠকে প্রক্টরিয়াল টিমের পাহারায় অংশ নেয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার বৈঠক শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আধাঘণ্টা পূর্বে সকাল সাড়ে ১০টায় উপস্থিত হন ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, সহকারী প্রক্টর মো. বদরুজ্জামান ভুঁইয়া, সহকারী প্রক্টর সীমা ইসলামসহ প্রক্টর টিমের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য ছাত্রদলের নেতাদের পাহারা দিয়ে সভায় নিয়ে আসেন। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকেও পাহারা দিয়ে ক্যাম্পাসে নেওয়া হয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকীকে। ছাত্রদলের নেতারা জানায়, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা নিয়ে সব সময়ই তারা শঙ্কিত। ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ‘এইভাবে নিয়ে আসা মানে বোঝাই যায় ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমরা নিরাপদ নই। তাছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাওয়াতে আমরা সভায় আসতে শঙ্কাবোধ করছি। এজন্য প্রক্টর আমাদের সহযোগিতা করেছে। ডাকসু নিয়ে প্রচারণা চালাতে গেলে তখন আমাদের কে সহযোগিতা করবে? প্রশাসনের উচিত দ্রুতই ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করা।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এটা পাহারা নয়। তারা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিল। আমরা তাদের সহযোগিতা করেছি। আমাদের কাজ সবাইকে সহযোগিতা করা।’

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত