শিরোনাম
ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধন

ছাত্রসংগঠনগুলোর বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য সময়বৃদ্ধি

ঢাবি প্রতিনিধি  |  ১৮:৪৭, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আগামী সোমবার সন্ধা পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০জানুয়ারি) ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন । বৈঠক শেষে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের অংশ হিসেবে গঠনতন্ত্রে যুগোপযোগী সংশোধন আনতে ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ১৩টি ছাত্র সংগঠনের সাথে বৈঠক করেছে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চেীধুরী সিনেট ভবনের সভাকক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়ে দেড়টা পর্যন্ত চলে।

এতে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। পরে বৈঠকের বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান ও অন্যান্য ছাত্র নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধন হয়েছিল। এরপর আর নির্বাচন না হওয়ায় এটিকে আর পরিমার্জন করার প্রয়োজনীয়তাও অনুভূত হয়নি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতি শিগগিরই একটি সুন্দর ডাকসু নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর, তাই আমরা ছাত্র নের্তৃবৃন্দদের সঙ্গে আলাপ করেছি। এখানে প্রায় সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন অংশগ্রহণ করে গঠনতন্ত্রের কোথায় কোথায় সংযোজন-বিয়োজন দরকার সে বিষয়ে তাদের বক্তব্য দিয়েছে। যেহেতু অনেকে দাবি করছে তারা পর্যাপ্ত সময় পায়নি সেজন্য আগামী সোমবার পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনগুলোর লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করতে সময় বর্ধিত করা হয়েছে।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসুর গঠনন্ত্র বেশ আগে প্রণীত হয়েছিলো। তাই গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রের কোনো সংশোধনী প্রয়োজন হলে তা সভায় সিদ্ধান্ত হবে। এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র যাদের ভোটার বলে চিহ্নিত করবে তারাই ভোটার হবে। উপাচার্য বলেন, আমাদের ভেতরে বাহিরে কাজ একই। সবকিছুই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হচ্ছে। ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন করার প্রয়াস আমাদের। সেভাবেই আমরা এগুচ্ছি।

বৈঠকে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সুর্যসেন হলের প্রভোস্ট ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, আইন অনুষদের ডিন ড. রহমতুল্লাহ, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, শামসুন নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সুপ্রিয়া সাহা।

বৈঠকের শুরুর আগেই সভাস্থলে উপস্থিত হন ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ইম্মে হাবিবা বেনজীর, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মো. ফয়জুল্লাহ সহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নের্তৃবৃন্দ। পরে তারা একসাথে সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। তবে বৈঠক শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট পর প্রক্টরিয়াল টিমের গাড়িতে করে যোগ দেন ছাত্রদলের বিশ^বিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী।

ছাত্রসংগঠনগুলোর দাবিসমূহ
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছাত্রসংগঠনগুলো ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধন, পরিমার্জনের বিষয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। পরে তাদের দাবিসমূহ নিয়ে আলাদাভাবে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তারা।

বৈঠকসূত্রে জানা যায়, সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ভোটার ডাকসুতে সেক্রেটারিয়েট এর সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যাকেন্দ্রিক আলাদা সম্পাদক পদ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে।

বৈঠক শেষে ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা বৈঠকে আমাদের প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেছি। গঠনতন্ত্রের কিছু ধারায় আমাদের মনে হয়েছে এখানে টাইমফ্রেম বেঁধে দেওয়া প্রয়োজন। কারা ভোটার বা প্রার্থী হতে পারবে এ বিষয়ে বলেছি। আমরা চাই সকল সংগঠন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।’

তবে নির্দিষ্ট কোন দাবি জানায়নি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তবে বর্ধিত সময়ের মধ্যে তাদের বক্তব্য লিখিতভাবে জানানো বলে জানিয়েছেন ঢাবি ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী । তনি বলেন, আমরা সোমবার প্রত্যেকটি বিষয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেব। ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি না হলে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঈঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, সহাবস্থান নিশ্চিত হলেই নির্বাচনে অংশ নেব। আমরা সে রকম হবে বলেই আশা করি।

সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘সহাবস্থ্না নিশ্চিত না হলে আমরা নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারি।’
উলেখ্য, অনেকদিন যাবত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিবেশ নেই বলে অভিযোগ করে তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আসছে ছাত্রদল ও বাম সংগঠনগুলো। তবে তাদের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ।

এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘ আমরা তো মনে করি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী তারা ক্যাম্পাসে আসছেন, আড্ডা দিচ্ছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি তাদের মতাদর্শ গ্রহণ করে নেয়, তাহলে তারা ক্যাম্পাসে আসতে পারবে। কেউতো তাদের বাধা দিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রভোস্ট কমিটি সকল হলে সহাবস্থান আছে বলে আমাকে অবহিত করেছেন। সকল শিক্ষার্থীই ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যাবলি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করতে পারছে।

এ বিষয়ে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্রে সভাপতিকে একচেটিয়া ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এতে পদাধিকার বলে সভাপতি (উপাচার্য) নির্বাচিত প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করতে পারেন। তাই আমরা সভাপতির ক্ষমতার হ্রাস চেয়েছি ।

এছাড়াও ক্যাম্পাসে সহাবস্থান না থাকা ও অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনাবাসিক হওয়ায় হলের বাহিরে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করার দাবি জানিয়েছি। আমরা মনে করি ডাকসুতে কিছু পদ পরিমার্জন ও সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যেহেতু দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি তাই আমরা একটি নির্দিষ্ট সেশন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়ার বিষয়টি বলেছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত