শিরোনাম

১০ বছর পর অধ্যক্ষ পাচ্ছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০০:৩৪, জানুয়ারি ০৮, ২০১৯

রাজধানীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আগ্রহের তালিকার শীর্ষে থাকা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলছে অধ্যক্ষ ছাড়া। বিভিন্ন সময় অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি উঠলেও কোনো এক অজানা কারণে শেষ পর্যন্ত আর অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়নি প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি। তবে এবার অধ্যক্ষ পেতে যাচ্ছে রাজধানীর সবচেয়ে নামিদামি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। পদটিতে নিয়োগ পেতে ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন ১৬ জন প্রার্থী। গত মাসের ৯ তারিখে অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চলতি মাসের ১ তারিখে শেষ হয় আবেদন প্রক্রিয়া। যে ১৬ জন প্রার্থী পদটিতে নিয়োগ পেতে আবেদন করেছেন তার মধ্যে ৬ জন্য অভ্যন্তরীণ প্রার্থী। বাকি ১০ জন বাইরের। গভর্নিং বডির সদস্যরা বলছেন, এবার সকল বাধা অতিক্রম করে আগামী দুই মাসের মধ্যে অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৮ সালের পর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পূর্ণকালীন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়নি। দীর্ঘ এ সময় প্রতিষ্ঠানটি চলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে। আর অধ্যক্ষ না থাকায় একদিকে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হয়েছে অন্যদিকে বারবার বিতর্কের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়ার পিছনে একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহলের হাতও ছিলো বলে মনে করেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। গত ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে টনক নড়ে সংশ্লিষ্টদের। আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং গভর্নিং বডির পদত্যাগ দাবি করে। অশান্ত হয়ে পড়ে ক্যাম্পাস। ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় গভর্নিং বডি। তবে এবারো কথিত সেই মহলটি নিয়োগ বন্ধে উঠেপড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়ার পিছনে ভর্তি বাণিজ্য, কেনাকাটা বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে সকল বাধা উপেক্ষা করে এবার স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার। তিনি বলেন, গত মাসের ৯ তারিখে আমরা অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও রয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা হবে।শিক্ষকরা বলছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং উত্তরোত্তর শিক্ষার মান বাড়াতে স্থায়ী অধ্যক্ষ খুবই জরুরি। আমরা চাই দ্রুতইঅধ্যক্ষ নিয়োগ হোক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা বোর্ড এবার কঠোর হলে অধ্যক্ষ নিয়োগে কোনো সমস্যা থাকবে না।
দশম শ্রেণির ছাত্রী শাহেলা নাজনীন বলেন, আমাদের অরিত্রী এবং তার বাবা-মায়ের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে, অধ্যক্ষ থাকলে হয়তো তা হতো না। তাই আমিও চাই পদটিতে দ্রুত নিয়োগ দেয়া হোক। প্রতিষ্ঠানটির দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূলত ভর্তিবাণিজ্য আর কোচিং বাণিজ্যই অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়ার বড় কারণ। রাজধানীর এতো বড় এবং স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ১০ বছর ধরে অধ্যক্ষ নেই, অথচ মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নিলো না, যা খুবই হতাশার। তিনি আরও বলেন, শুনলাম এবার অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এটা খুবই ইতিবাচক।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত