শিরোনাম
ঢাবিতে ছাত্রদের অনশন

‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তিপরীক্ষা বাতিলের দাবিতে অনশন

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:৪৭, অক্টোবর ১৮, ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তিপরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে আমরণ অনশন করছেন আখতার হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী। সে ঢাবির আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। জিয়া হলের আবাসিক ছাত্র আখতার হোসেন ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তিপরীক্ষায় ১৩তম এবং ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় ৮৮তম হয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভার্স্কযের পাদদেশে অনশন শুরু করেন তিনি। গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনশনরত আখতার হোসেনের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেনি। এমনকি আইন বিভাগের কোনো শিক্ষকও খোঁজ নেয়নি তার। এদিকে আমরণ অনশনরত আখতার হোসেনের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা বিতর্কিত এই ভর্তিপরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে ভর্তিপরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানায়। গতকাল বুধবার বিকালে রাজু ভাস্কর্যে এসে এ ঘোষণা দেয় তারা। এছাড়া আজ দুপুরে এই পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করবে সংগঠনটি। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর আমার সংবাদকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হচ্ছে। এতে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে স্বপ্নের এই বিশ^বিদ্যালয়। তাই বিতর্কিত এই ভর্তিপরীক্ষা বাতিল করে আমরা নতুন করে স্বচ্ছ একটি পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তির দাবি জানাচ্ছি। দাবি না মানা হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।’ অনশনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমি ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে এখানে বসেছি। যে প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সেটা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারি না। আমার বিবেক আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’ আখতার হোসেন তার ‘ফেসবুকে লিখেছেন, প্রশ্নফাঁসের মতো একটা ঘৃণ্য বিষয়ের প্রতিবাদে নেমেছি। একুশ ঘণ্টা (গতকাল দুপুর পর্যন্ত) হয়ে গেল, আমি অনশন চালিয়ে যাচ্ছি। অথচ আমার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটিবারও আমার সাথে দেখা করার প্রয়োজন বোধ করেনি। শুনেছি তারা একাডেমিক কাজে ব্যস্ত।’ তিনি আরও লিখেছেন ‘আমি জানি, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়বো, ঠিক এ জাতির মতো। আমি দিশাহারা, ঠিক এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। এ বিশ্ববিদ্যালয় আজ মৃত্যু মুখে পতিত আর আমিও। কিন্তু, আমি ঠিক এভাবে মরতে চাই না। আমি চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শক্ত দুটি হাত আমার গলা চেপে ধরুক আর আমার শেষ নিশ্বাসের ধাক্কাটা তাদের মুখে গিয়ে লাগুক। তবেই একটু শান্তি পাই। কিন্তু স্যার, এ লাশের ভার বইতে পারবেন তো?’ এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নেওয়া এবং ফল প্রকাশ করা একাডেমিক কার্যক্রমের অংশ। গণতান্ত্রিক পরিবেশে সবাই দাবি পেশ করতে পারে। তবে কে, কী দাবি করছে তা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।’
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত