শিরোনাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

ঢাবি প্রতিনিধি  |  ১৬:৪১, অক্টোবর ১৬, ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ' ইউনিটের প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল প্রকাশ করেন।

চলতি বছর ‘ঘ’ ইউনিটে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সম্মিলিতভাবে (বিজ্ঞান, মানবিক ও বিজনেস শাখা) শতকরা ২৬ দশমিক ২১ শতাংশ। যা অন্য যেকোনো বারের চেয়ে দ্বিগুণ।

শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও মোবাইলে ফল জানতে পারবেন। যেকোনো মোবাইল অপারেটরের মেসেজ অপশনে গিয়ে DU স্পেস GHA স্পেস ভর্তি পরীক্ষার রোল নম্বর লিখে ১৬৩২১ নম্বরে পাঠিয়ে ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসইট admission.eis.du.ac.bd থেকে ফল জানা যাবে।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮ হাজার ৪৬৩ জন। এ বছর ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজার ৩৪১জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭০ হাজার ৪৪০ শিক্ষার্থী।

পাসকৃত সব শিক্ষার্থীকে ২২-৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে বিস্তারিত এবং বিষয় পছন্দক্রম ফরম পূরণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোটায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ১৭-২৪ অক্টোবরের মধ্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিস হতে সংগ্রহ করে সঠিকভাবে পূরণ করে ডিন অফিসে জমা দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ফল নিরীক্ষণের জন্য ফি প্রদান সাপেক্ষে ১৭-২২ অক্টোবরের মধ্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে আবেদন করা যাবে।

এর আগে, গত শুক্রবার ৮১টি কেন্দ্রে ঢাবি ঘ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর পূর্বেই সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে অনেক পরীক্ষার্থীর হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জারে হাতে লিখিত প্রশ্নপত্র আসে। পরে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে হাতে লিখিত ঐ প্রশ্নপত্রের ৭২ টি প্রশ্ন ও উত্তরের হুবহু মিল পাওয়া যায়। এই ঘটনায় শুক্রবার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটির প্রধান মুহম্মদ সামাদ জানান, মেসেঞ্জারে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র আসার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। ওই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় ছয়জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। যাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রিমান্ডে নিয়েছে।

এদিকে, প্রশ্নপত্রফাঁসের অভিযোগ ওঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে পুনঃগ্রহণের দাবিতে রাজু ভাষ্কর্যের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন আখতার হোসেন নামের এক ঢাবি শিক্ষার্থী। তিনি আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে থাকেন। তিনি আজ (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১২:৩০ থেকে অনশন শুরু করেছেন তিনি।

দেখা গেছে, রাজু ভাষ্কর্যের সামনে ছাতা মাথায় বসে বই পড়ছেন এক শিক্ষার্থী। তার পিছনে কিছু ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। তাতে লেখা আছে, ‘পরীক্ষার এক মিনিট আগেও প্রশ্ন পাওয়া গেলে, তবুও তা প্রশ্নফাঁস', ‘প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তার চাই', ‘জালিয়াতদের বিচার চাই', ‘হোতাদের বিচার চাই', ‘অনশন', ‘প্রশ্নফাঁস না মেধাবীদের গলায় ফাঁস’ ইত্যাদি।

আখতার হোসেনের কাছে অনশনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমার প্রধান দাবি পুনরায় পরীক্ষা নেয়া। ঘ-ইউনিটের পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দেওয়া পর্যন্ত আমি আমার অনশন চালিয়ে যাব। এছাড়াও আমার আরও তিনটি দাবী রয়েছে

১. প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা দিতে হবে।পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ ছাড়া যাতে কারো হাতে প্রশ্ন না আসে।
২. এ পর্যন্ত জালিয়াতি করে যারা ভর্তি হয়েছে সবাইকে বহিষ্কার করতে হবে।
৩. প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে"।

এ বিষয়ে প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার মতপ্রকাশের অধিকার আছে। রাজু ভাষ্কর্যের সামনে বসে যে কেউ তার মতপ্রকাশ করতে পারে। আমরা আমাদের কাজ করে যাব। আজ বিকেলে রেজাল্ট হবে। এখানে ৯৫ হাজার ছেলেমেয়ের ভবিষ্যত জড়িত।'

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত