শিরোনাম

দেড় যুগে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট সংস্করণ॥সাদিকুর রহমান  |  ১২:২৭, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

আম, লিচু আর কাটারিভোগ চালের জেলা দিনাজপুর। কৃষি খাতে সমৃদ্ধ এই জেলায় ১৯৯৯ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত হয় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ৮৫ একর জমি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সংক্ষেপে বলা হয় হাবিপ্রবি। দিনাজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। আজ ১৯তম বর্ষে পদার্পণ করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে আছে দিনাজপুরের বিখ্যাত লিচু গাছ। ক্যাম্পাসের ভিতরে কমপক্ষে ১০০ টি লিচু গাছ আছে। ডক্টর অব ভেটেরিনারী মেডিসিন অনুষদ ভবনের সামনে আছে বিশাল লিচু বাগান। ক্যাম্পাসের ভিতরে আছে কয়েকটি দর্শনীয় স্থান যেমন, ময়না দ্বীপ, উট পাখির খামার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনে আছে ময়নাদ্বীপ নামে একটি উঁচু টিলা। শিক্ষার্থীদের কাছে এই টিলা ময়না দ্বীপ নামে পরিচিত।এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে উট পাখির খামার। গবেষণার জন্য ২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে উটপাখির বাচ্চা নিয়ে আসা হয়। গবেষণার জন্য নিয়ে আসা হলেও দর্শনার্থীদের কাছে উট পাখির খামার আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মাৎসর্গকারী মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে ২০১৬ সালে নির্মাণ করা হয়েছে ‘মুক্তিযোদ্ধা কর্নার’। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের একটি অংশ মুক্তিযোদ্ধা কর্নার যেখানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন গ্রন্থ এবং দলিলপত্র পাওয়া যায়। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিদেশী শিক্ষার্থী আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়। সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটানের নাগরিকগণ এখানে লেখা পড়া করতে আসেন। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর মিলিয়ে দুই শতাধিক বিদেশী শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৪৪ টি বিভাগ, নয়টি অনুষদ আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানে কাজ করছে বিভিন্ন সংগঠন-বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সাংবাদিক সমিতি, ডিবেটিং সোসাইটি, রোভার স্কাউট, শিল্প ও সাহিত্য সংগঠন, প্রথম আলো বন্ধুসভা, কালের কন্ঠ শুভ সংঘ, হাবিপ্রবি মজার স্কুল, দানেশ ব্লাড ব্যাংক। ১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। পরে ২০০১ সালের ৪ জুলাই জাতীয় সংসদে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয় এবং ৮ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। আজ মঙ্গলবার দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেম। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিক থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশ ও জাতির কল্যাণে হাজার হাজার বছর কাজ কবে যাবে এমনটিই প্রত্যাশা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত