শিরোনাম

একাদশের শিক্ষার্থী পায়নি এক হাজার কলেজ

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন  |  ০০:৩২, জুন ১৪, ২০১৮

জিপিএ-৫ মিললেই ভার্সিটিতে চান্স পাওয়া যায়। এই সূত্র থেকে অনেকেই সরে আসছে এখন। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় সচেতন হয়েছে অনেকেই। যত্রতত্র গড়ে ওঠা ভুঁইফোঁড় কলেজগুলোকে এখন আর কেউ বিশ্বাস করছেন না। প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে সারা দেশের ১৭৩টি কলেজে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তির জন্য আবেদন করেনি। গত ৯ জুন প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফলাফলে দেখা গেছে ৮৬৬টি কলেজকে শিক্ষার্থীরা আবেদনের তালিকায় রাখলেও কোনো শিক্ষার্থী পায়নি। শিক্ষার্থী না পাওয়া বেশির ভাগ কলেজ ঢাকা বোর্ডের অধীন ঢাকা শহরে। সব মিলিয়ে এক হাজার ৩৯টি কলেজ প্রথম দফায় প্রকাশিত ভর্তি ফলাফলে শিক্ষার্থীশূন্য রয়েছে। তবে আরো দুই দফা ভর্তি নিশ্চয়নের সুযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীশূন্য থাকলে কলেজগুলো বন্ধ করে দেয়ার আভাস দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এবার সারা দেশে ১৬ হাজার ৪০৬টি কলেজে ভর্তির আবেদন নেয়া হয়। এর মধ্যে ১৭৩টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করেনি। ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী কমপক্ষে দশটি কলেজ পছন্দ দিতে পারেন। মেধা অনুযায়ী বোর্ড থেকে কলেজ নির্ধারণ করে দেয়া হয়। আর শিক্ষার্থীরা ৮৬৬টি কলেজ পছন্দ দিলেও শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী পায়নি এসব কলেজ। আন্তঃবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১৩৫টি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি আবেদন করেনি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালের ২৪শে নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে উচ্চ মাধ্যমিকে শতভাগ ফেল করায় এবং একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি না হওয়ায় ২১৯টি কলেজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়। গত বছর ১৪৩টি কলেজ বন্ধ করা দেয়া হয়েছে। তবে কলেজগুলোর কোনো কোনোটি এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে।  একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৭৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১২ লাখ ৩৮ হাজার ২৫২ জনকে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। যা মোট আবেদনের ৯৬ শতাংশ। বাকিরা কোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়নি। তারা দ্বিতীয় ধাপে পুনরায় আবেদন করতে পারবে। দ্বিতীয় দফায় সুযোগ না পেলে তৃতীয়বার সুযোগ পাবে। এবার আসনের চেয়ে শিক্ষার্থী কম হওয়ায় সবাই সুযোগ পাবে। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থী না পাওয়া বেশির ভাগ কলেজ ঢাকা বোর্ডের অধীন ঢাকা শহরে। প্রয়োজন না থাকলেও বোর্ডের সাবেক কয়েকজন কলেজ পরিদর্শক টাকার বিনিময়ে নতুন নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পাঠদানের অনুমতি দেয়ার পক্ষে প্রতিবেদন দেন। আর কলেজের অনুমোদন দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। এসব কলেজের অধ্যক্ষ ও কর্মকর্তারা প্রশ্ন ফাঁস, জিপিএ-৫ বিক্রি ও পরীক্ষা কেন্দ্রে অলিখিত চুক্তির মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দিয়ে আসছে।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজধানীসহ দেশের অলিগলিতে ভাড়া বাসায় গড়ে উঠেছে ভুঁইফোঁড় কলেজগুলো। মানহীন এসব কলেজের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ নেই। এসব কলেজে নেই ভালো খেলাধুলার ব্যবস্থা, নেই বিনোদন ও সংস্কৃতি চর্চার জায়গা। কোনো কোনো কলেজে রয়েছে ক্লাসরুম সংকট। আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। সর্বোপরি মানহীন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করায় বোর্ড পরীক্ষায় ফল খারাপ করছে। আগে চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ফেলে ভুঁইফোঁড় কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম চালুর পর কলেজগুলোর আসল চিত্র বেরিয়ে আসে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিজেদের পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন। এতেই বিপাকে পরে অখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত