শিরোনাম

জেএসসি-জেডিসিতে কমল নম্বর-বিষয়, থাকছে এমসিকিউ

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৬:৪৯, মে ৩১, ২০১৮

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টফিকেটে (জেডিসি) তিনটি করে বিষয়ের পাশাপাশি পরীক্ষার নম্বর ২০০ কমানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩১মে) সচিবালয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এতদিন জেএসসি-জেডিসিতে বাংলা ও ইংরেজির দুটি করে পত্রে ১৫০ করে নম্বরের পরীক্ষা হত। এখন আর আলাদা পত্র নয় একেকটি বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেএসসিতে এখন ৮৫০ নম্বরের পরিবর্তে ৬৫০ নম্বর এবং জেডিসিতে ১০৫০ নম্বরের পরিবর্তে ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

সভা শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় সাতটি বিষয়ে মোট ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এই সুপারিশ আমরা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির সমাপনীতে চতুর্থ বিষয়সহ ১০টি বিষয়ে মোট ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র মিলে ১৫০ করে ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। সেখান থেকে বাংলায় ৫০ এবং ইংরেজিতে ৫০ কমিয়ে ১০০ নম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর চতুর্থ বিষয়ের ১০০ নম্বরকে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়নে নেওয়া হবে। ফলে এখন থেকে এই ২০০ নম্বর কমে জেএসসিতে ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। আর জেডিসিতে আগে ১০৫০ নম্বরের পরীক্ষা হতো। এখন থেকে ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

শিক্ষাসচিব বলেন, ‘জেএসসিতে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র মিলে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। একইভাবে ইংরেজিতেও দুই পত্র মিলে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।’
তিনি বলেন, ‘নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তবে গণিত, ধর্ম, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা আগের মতোই আগের নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে।’

সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ এসেছে শিক্ষার্থীদের ওপর লেখাপড়ার চাপ বেশি হচ্ছে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয় ও নম্বর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শিখন ফলাফল অক্ষুণ্ন রেখে নম্বর ও বিষয় কমানো হয়েছে, যাতে একজন শিক্ষার্থী সঠিক শিক্ষাটা আয়ত্ত্ব করতে পারে। শিক্ষার আসল লক্ষ্য যেন ব্যাহত না হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বোর্ড চেয়ারম্যানদের সুপারিশের ভিত্তিতে বিষয় এবং নম্বর কমানো হয়েছে। সে অনুযায়ী সিলেবাসও তৈরি করা হবে। যেহেতু বিষয় এবং নম্বর কমানো হয়েছে, তাই শিক্ষার্থীদের ওপর এর কোনো চাপ পড়বে না।’ ‘২০১৯ সালে আমরা কারিকুলামে হাত দেব। তখন আরও বড় আকারে বিষয় কমবে। কারণ, তখন আমরা সবকিছু ভাবনা-চিন্তায় রেখেই কারিকুলাম করব।’

চলতি বছরে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় এমসিকিউ থাকবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে এমসিকিউ বাদ দেয়া যাবে না। তবে আমরা এই পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনব। হয়তো শিক্ষার্থীদের এক লাইন করে উত্তর লেখা লাগতে পারে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত