শিরোনাম

কলেজে ভর্তি: আবেদন করেনি আড়াই লাখ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৫:৪১, মে ২৫, ২০১৮

এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেও এখনও কোথাও ভর্তির জন্য আবেদন করেনি সারাদেশের প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থী।তিন দফায় ভর্তি আবেদনের প্রথম দফায় গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪মে) পর্যন্ত প্রায় ১৩ লাখ ৪ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে।

আন্তঃবোর্ড সূত্রে জানাগেছে, ৮টি সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সারাদেশে মোট ২৮ লাখ ৭৬ হাজার ৩০০টি আসন আছে। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডে মোট ৭ হাজার ৩১৯টি কলেজ আছে। চলতি বছর মোট পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডে ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৫ জন, মাদরাসা বোর্ডে ২ লাখ ৩ হাজার ৩৮২ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৮২ হাজার ৯১৭ জন।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আসন সংখ্যায় কোনো সংকট হবে না বলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। তবে সাময়িক এ বিশাল ছাত্র সংখ্যার ভর্তি কার্যক্রমে বেশকিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। অনেক শিক্ষার্থীর অগোচরেই তার রোল ও রেজি: নাম্বার নিয়ে অন্য কেউ ভর্তির জন্য আবেদন করেছে। ফলে প্রকৃত শিক্ষার্থীরা পড়তে হয়েছে নানা বিড়ম্বনায়।

এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ কলেজ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম আমার সংবাদকে বলেন, এবছর অনলাইন আবেদন ছিলো স্বতঃস্ফূর্ত। তবে কিছু ফেইক ভর্তির আবেদনের বিষয় শিকার করে তিনি বলেন, গতবারের তুলনায় এবছর সমস্যাটা অনেক অল্প। এত বড় একটা কার্যক্রম সেখানে একটু-আধটু সমস্যা হতেই পারে। আমরা এ বিষয় খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছি বলে জানান এ কর্মকর্তা। যারা ফেইক ভর্তির সমস্যায় পড়ছে তারা সরাসরি বোর্ডে এসে সমাধান করছে।

ভর্তিতে আসন সংকট হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম বলেন, আমাদের ঢাকা বোর্ডে আসনে কোনো ঘাটতি নেই। আসন সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনধাপে এই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। তবে সবাই ভালো কলেজগুলো চয়েজ করে আবেদন করলেও জিপিএ পয়েন্ট বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে জানান বোর্ডের উপ কলেজ পরিদর্শক।

প্রথম দফায় ভর্তি আবেদনের সময় আর বাড়ানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আন্তঃবোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, যারা আবেদন করেনি, তারা আরও দু'বার আবেদনের সুযোগ পাবে। প্রায় আড়াই লাখের বেশি শিক্ষার্থী আবেদনের বাইরে থাকার কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর কিছু শিক্ষার্থী নানা কারণে ঝরে যায়। এবারও একই কারণে ঝরে যাবে। তবে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হতে হতে এ সংখ্যা আরও কমে আসবে।

এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ শিক্ষার্থী। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ১৩ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬ জন শিক্ষার্থী। সে হিসাবে এখনও ২ লাখ ৭১ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেনি।

তবে কারিগরিতে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছে বলে জানান ঢাকা বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবির। তিনি বলেন, ভর্তি কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি তা বলা যাবে না। তবে পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, প্রায় লাখের ওপর শিক্ষার্থী প্রতি বছর একাদশ শ্রেণির ভর্তির বাইরে থাকে। এবারও তেমন হতে পারে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারও ভর্তি কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। বিরাটসংখ্যক শিক্ষার্থীর আবেদন না করা প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, প্রতি বছর কিছু শিক্ষার্থী ঝরে যায়- এটা সত্য। তবে তাদের অনেকেই কারিগরি ও বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরে সবচেয়ে বেশি ৩৮ দশমিক ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যায়। বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বিয়ে, দূরে কলেজ ও নিরাপত্তার অভাবে এ স্তরে সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ে মেয়েরা।

নীতিমালা অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের আবেদন আগামী ৫ ও ৬ জুন গ্রহণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ জুন। এবার শিক্ষার্থী ভর্তির নিশ্চয়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হবে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হবে ১৯ ও ২০ জুন। দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ২১ জুন। তৃতীয় পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ করা হবে ২৪ জুন এবং ফল প্রকাশ ২৫ জুন।

প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসহ (মাইগ্রেশন) অন্যান্য কাজ শেষ করে ২৭ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে ভর্তির কাজ শেষ হবে। ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই থেকে। এবছর বিভাগীয় ও জেলা সদরের কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে শতভাগ আসনে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। তবে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির পর যদি বিশেষ অগ্রাধিকার কোটার কোনো আবেদনকারী থাকে, তাহলে মোট আসনের অতিরিক্ত হিসেবে নির্ধারিত কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। নির্ধারিত কোটা আছে ১১ শতাংশ।

তবে এবার এসব কোটায় যদি প্রার্থী না পাওয়া যায়, তবে এ আসনগুলোর আর কার্যকারিতা থাকবে না। স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্ষেত্রে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণির নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত