শিরোনাম

বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা যবিপ্রবি ভিসির

প্রিন্ট সংস্করণ॥এম এ রহমান, যশোর প্রতিনিধি  |  ০১:৪২, মে ২০, ২০১৮

দুর্নীতির কাছে মাথা নত না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘বাধা যত বড়ই হোক না কেন, সেটা যদি হিমালয়েরও চেয়ে বড় হয় তাহলেও আমি মাথা নত করবো না। আমি যতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আছি, ততদিন বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখবো।’গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের চ্যান্সেলর সম্মেলন কক্ষে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বর্ণনা দেন। অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো পর্যন্ত এমন কোনো অঘটন ঘটেনি যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘকাল বন্ধ হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনেক অঘটন ঘটেছে, তবে নিয়োগ কেউ বন্ধ করতে পারেনি। স্বচ্ছভাবে যে নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল, সেটাই হয়েছে। আপনারা আমার প্রতি আস্থা রাখতে পারেন, যতদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আছি, ততদিন বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখবো। লিখিত বক্তব্যে ড. আনোয়ার হোসেন দেশের অর্থনৈতিক এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সমুদ্র জয়, সীমান্ত জয়ের পর এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ জয়ের কথা তুলে ধরেন। ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি যে সময় দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন নিয়োগ প্রক্রিয়ার নানা অনিয়মের বিষয়ে আপনাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রশ্ন তুলেছিলেন। গত এক বছরে একজন অধ্যাপক, সাত জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩৭ জন প্রভাষক, পাঁচ জন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা এবং ২১ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট ৮৬ জনকে নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, উন্মুক্ত নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ে যে স্বজনপ্রীতি মুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ হয়, সেটা সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীতে যেসব পদে নিয়োগ হবে সেখানেও স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত নিয়োগ পরীক্ষা হবে। দুর্নীতিমুক্ত মেধাভিত্তিক নিয়োগের সকল প্রচেষ্টা নেয়া হবে - এ ব্যাপারে আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’ ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি একজন অ্যাকাডেমিশিয়ান এবং গবেষক। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পরপরই অ্যাকাডেমিক উন্নয়নের জন্য আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কেন্দ্রীয় বা অভিন্ন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার ছিল না। ফলে বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ বা সেমিস্টারের পরীক্ষা বিক্ষিপ্তভাবে বছরের বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হতো। এতে অযাচিত কালক্ষেপণ হতো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সম্পন্ন করা দুরূহ হয়ে উঠছিল। এখন একটি কেন্দ্রীয় এবং অভিন্ন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে একজন শিক্ষার্থী ভর্তির পরপরই জানতে পারছে, কখন তার ক্লাস শুরু হবে; কবে পরীক্ষা হবে এবং ফলাফল প্রকাশ হবে। অধ্যাপক আনোয়ার আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার জন্য গত এক বছরে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশ্বমানের হ্যাচারি অ্যান্ড ওয়েটল্যাব এবং জেনোম সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জেনোম সেন্টারের কাজ ৯৫ শতাংশ এবং হ্যাচারির কাজ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন এবং ঈদুল ফিতরের অবকাশের পর জেনোম সেন্টারটির কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী জুলাই মাসে হ্যাচারির নির্মাণ কাজও শেষ হবে বলে আমরা আশাবাদী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড সকলকে অবহিত করার জন্য ‘সমাচার’ নামে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশ করা হচ্ছে উল্লেখ করে ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা জার্নাল প্রকাশনাকে নিয়মিত করার এবং এটাকে ইনডেক্সভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ এবং দপ্তরকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় এনে তাদের এক বছরের কর্মকা-সমূহ নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউজিসির বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আওতায় কোন বিভাগ ও দপ্তর কোন প্রক্রিয়ায় কি সেবা দিচ্ছে, এ নিয়ে সিটিজেন চার্টার প্রণয়ন ও তথ্য কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা অচীরেই বাস্তবায়িত হবে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় সমাবর্তনের কথা উল্লেখ করে ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ। এ সমাবর্তনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন জার্মানির নাগরিক রসায়নশাস্ত্রে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. রবার্ট হিউবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ইউরোপীয় কোনো বিজ্ঞানী প্রথম দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। এমন জগৎখ্যাত বিজ্ঞানীর আগমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে আনন্দে উদ্বেলিত করে। অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন এবং ইসিজি মেশিন স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে একটি অত্যাধুনিক ফিজিওথেরাপি সেন্টারও স্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আমাকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন, গত এক বছরে তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ আবুল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনিছুর রহমান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, জীব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. কিশোর মজুমদার, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অনুুষদের ডিন ড. ওমর ফারুক, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. নাসিম রেজা, বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জিয়াউল আমিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুর রশীদ, পরিচালক (পরিকল্পনা, পূর্ত ও উন্নয়ন) পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারি, পরিচালক (হিসাব) জাকির হোসেন, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা দীপক কুমার মন্ডল, গ্রন্থাগারিক স্বপন কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।
এদিকে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান যবিপ্রবির শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি, কর্মচারী সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড শাখা, বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ ও অফিসসমূহ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত