শিরোনাম

জবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ

১৫:১৫, জুন ১৬, ২০১৭

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বাংলা বিভাগে অধ্যয়নরত সোহান নামে এক শিক্ষার্থীর লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় একই বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম ব্যাচের ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসের ওপর দায় চাপিয়ে ফেইসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে কিছু শিক্ষার্থী। এ অপপ্রচারের পিছনে শিক্ষকদের একটি গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

যদিও এ বিয়য়ে নিহত সোহানের পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে জবির জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস ফেইসবুকে প্রচারিত তথ্য-প্রমাণাদি তুলে ধরে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে (আইসিটি) মামলা করার কথা জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ড. মিল্টন বিশ্বাস জবির একজন মাত্র খ্রিস্টান শিক্ষক। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য নিয়ে বিভিন্ন প্রত্রিকায় নিয়মিত কলাম, টেলিভশন টক শো করে যাচ্ছেন তিনি। এতে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে উড়ো চিঠির মাধ্যমে তাকে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী কিছু শিক্ষক আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলে যোগ দিয়ে এ শিক্ষককে জবি থেকে উৎক্ষাতের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বাংলা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মৃত সোহান চারবছর ধরে ফুসফুসের দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। তার অ্যাজমার সমস্যাও ছিলো। সম্প্রতি লিভারে ক্যান্সার ধরা পড়েছিল তার। বাংলা বিভাগের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ২৯ মে ১১তম ব্যাচের দ্বিতীয়বর্ষ প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হয়। সোহান অসুস্থ থাকায় একই ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা পেছানোর কথা বললেও পরবর্তীতে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সোহানও এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে গত ৯ জুন সোহানের মৃত্যু হয়। তার এ অকাল মৃত্যুর পর থেকেই ফেইসবুকে অপপ্রচারে সক্রিয় হয়ে উঠে কিছু শিক্ষার্থী। এ মৃত্যুর জন্য শিক্ষক মিল্টন বিশ্বাসকে দায়ী করে ফেসবুকে অশ্লীল মন্তব্য করে চলেছেন জবির কিছু সাবেক শিক্ষার্থী।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা বিভাগের ১১তম ব্যাচের পরীক্ষা কমিটি এটিকে মিথ্যা ও অপপ্রচার আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

গত দেড় বছর ধরে সোহানকে চিকিৎসা সহায়তাকারী বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, সোহান বেঁচে থাকার সময় তার চিকিৎসার ভার কেউ নেয়নি, অথচ তার মৃত্যুর পর কিছু মানুষ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এটি দুঃখজনক।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতরের পরিচালক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, বাংলা বিভাগের কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী (প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম ব্যাচ) বিভাগ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারা এর আগেও ফেসবুকে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানকে নিয়ে বিকৃত ও নোংরা প্রচার চালিয়েছে। ছাত্রলীগের নামেও অপপ্রচার চালিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা বলেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করার উদ্দেশ্যে নীল দলে অনুপ্রবেশকারী বিএনপি-জামায়াতপন্থী কিছু শিক্ষক ও প্রাক্তন কিছু শিক্ষার্থী নানাবিধ অপপ্রচার চালাচ্ছে। এদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

আর ফেসবুকে প্রচারিত তথ্য-প্রমাণাদি তুলে ধরে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে (আইসিটি) দোষীদের বিচারের আওতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেট বাতিলের সুপারিশ করা উচিত বলেও মনে করেন এ শিক্ষক নেতা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত