শিরোনাম

রাজু ভাস্কর্যের উপর প্রাইভেটকার তুলে দিলেন এক তরুণী

১৯:৩৪, জুন ১৩, ২০১৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের বেদিতে একটি বেপরোয়া প্রাইভেটকার উঠে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভাস্কর্যের কোনো ক্ষতি না হলেও ভাস্কর্যের চারপাশে থাকা লোহার বেস্টনি দেয়াল ভেঙে গেছে। গাড়িটির সামনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার এসআই টিপু সুলতান।

তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরের দিক থেকে ঢাকা মেট্রো-গ ৩৯-৯৪০৯ নেমপ্লেটের প্রাইভেটকারটি প্রচণ্ড গতিতে আসছিল। টিএসসি এলাকায় মোড় ঘোরার সময় চালক গাড়িটি বেদিতে তুলে দেন। এতে ভাস্কর্যের চারপাশে থাকা লোহার বেড়াটি ভেঙে গেছে এবং গাড়িটিও দুমড়ে গেছে। গাড়িটি জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়িটিতে দুইজন নারী আরোহী ছিলেন। এদের একজনই গাড়িটির চালকের আসনে ছিলেন। একজন নারী টয়োটা প্রিমিও মডেলের গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি গাড়িটি সোজা ভাস্কর্যের বেদিতে তুলে দেন। খুব ভোরে এ ঘটনা ঘটায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে বেলা আরেকটু বাড়লে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটতে পারতো।

এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি ফেইসবুক গ্রুপে আরিফুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘আজ রাজু ভাস্কর্য কালকে আমাকে গাড়ীর নিচে ফেলে পিষে ফেলতে কতক্ষণ? সারারাত নেশা করে ক্যাম্পাসে এসে মাতলামি করার ফলে এই অঘটন। আর ক্যাম্পাসের ফুলেল রোডে তো দিনের বেলায় মোটরসাইকেলের প্রতিযোগিতা চলে, যার ফলে প্রায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।’

ফারজানা ফারুকি মিম লিখেছেন, ‘প্রায়ই রাস্তা পার হতে যেয়ে গাড়ির খুব কাছ থেকে বেঁচে ফিরি। অনেক সময় হালকা ধাক্কাও লাগে গায়ে, তখন গাড়ি থামে। রিক্সাও থামে না, পারলে গায়ের উপর দিয়েই যায়। আমার তো মনে হয় ক্যাম্পাসের রাস্তায় গাড়ির ধাক্কা খেয়ে একদিন মরে যাবো। যে কেউ যেতে পারেন।’

আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল লিখেছেন, ‘ঢাবি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে। তাই বলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে আপনি যা ইচ্ছে তাই করবেন? ক্যান্টনমেন্ট তো জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সেখানে কি আপনারা হাই-স্পিডে গাড়ি চালান? সেখানে কি মদ খেয়ে গাড়ি উঠিয়ে দেন? ঢাবির ফুলার রোডের মত সেখানেও রেসিং খেলেন? রাস্তায়, দেয়ালের পাশে সুযোগ পেলে সেনানিবাসেও কি মুত্রবিসর্জন করেন? সেনানিবাসেও কি ট্রাক, ভারী যানবাহনের অবাদ চলাচল করে? সেখানেও কি ফুল ভলিউমে গান বাজাতে বাজাতে ড্রাইভিং করা যায়?’

ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গাড়ির নিয়ন্ত্রণ করতে এর আগেও আন্দোরনে নেমেছিল শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে। ফের দাবি উঠেছে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করার।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রেলিং মেরামত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গাড়িটি আটক করা হয়েছে। আলোচনা করে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, বহিরাগত সমস্যা ও বিশেষ করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর বিষয়ে প্রক্টর বলেন, আমাদের ক্যম্পাসটা রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। তাই আমরা রাস্তা বন্ধ করে দিতে পারি না। তবে কিছু রাস্তা যেখানে এ ধরণের ঘটনা বেশি ঘটে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত