শিরোনাম

তিতুমীরের সামনে খোলা ম্যানহোল, তৈরি হচ্ছে ডেঙ্গুর ‘আঁতুর ঘর’

শাহাদাত হোসেন নিশাদ, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি  |  ২০:১৮, আগস্ট ০৯, ২০১৯

রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত সরকারি তিতুমীর কলেজের গেটে পাশের ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে।

ম্যানহোলগুলো অত্যন্ত সরু ও অপরিষ্কার থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন ময়লা আটকে গিয়ে সামান্য বৃষ্টি হলেই কলেজের মূলগেটে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। ভোগান্তিতে পড়ে কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।

আবার অনেকগুলো ম্যানহোলে ঢাকনা না থাকায় সেখানে হাঁটাচলা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

দেশের সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে সরকারি তিতুমীর কলেজে। কিন্তু এতো শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় নানান ধরণের ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। কলেজ এলাকায় ম্যানহোলগুলোর উপর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী যাতায়াত করে থাকে।

ম্যানহোল সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলছে, এ ধরণের বিভিন্ন সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সহজে সমাধান মেলে না। যে কারণে ভোগান্তির মধ্য দিয়ে আমাদের চলতে হয়।

এদিকে বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সেখানে তৈরি হচ্ছে ডেঙ্গু মশার ‘আঁতুর ঘর’!

মহাখালীতে অবস্থিত কলেজের মূল ফটকের সামনে থেকে ২য় গেট পর্যন্ত ১৪টি ম্যানহোল রয়েছে। যার ৩-৪ টি ঢাকনা একেবারে শূন্য। আর দুটি ম্যানহোলের ঢাকনা প্রায় ভাঙা। এছাড়াও কলেজের বিপরীত সড়ক ও ওয়ারলেস গেইট যেতে কয়েকটি ম্যানহোল চোখে পড়বে। যেগুলোর সিংহভাগই ভাঙাচোরা।

দুয়েকটার ঢাকনা যাও আছে তাও আবার লক্কড় ঝক্কর। এসব ম্যানহোল খোলা ও অপরিস্কার থাকায় ক্ষতিকর মশা বাসা বানাচ্ছে। গর্তগুলোতে রীতিমতো চলছে মশার রাজত্ব।

ম্যানহোলের এই বিপদজনক অবস্থা দেখে তিতুমীর কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জাহান ইজান বলেন, আমাদের কলেজের মেইন গেটে যাওয়ার ফুটপাতের অবস্থা খুবই খারাপ। অনেকগুলো ম্যানহোলেই নেই ঢাকনা। আবার কয়েকটি ভাঙা। এখানে হাটা-চলা করতেও আমাদের বেশ অসুবিধা হয়।

মামুন সোহাগ নামে ১ম বর্ষের এক ছাত্র বলেন, এখানকার ঢাকনা ছাড়া এই ম্যানহোলগুলোতে অনেক মশা দেখা যায়। দেশে যেভাবে এডিস মশার উৎপাত দেখা যাচ্ছে তাতে মশার উৎপাত ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে।

এছাড়াও কিছুদিন আগে ম্যানহোলে ঢাকনা না থাকার কারণে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

অনেক দিন ধরেই এই অবস্থা দেখে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বিরক্ত। সর্বশেষ গত শনিবার ক্লাস শেষে ফেরার পথে ম্যানহোলে পড়ে যান তিতুমীর কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাওসিফ মাইমুন। এ ঘটনায় তিনি পায়ে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন।

আহত শিক্ষার্থী তাওসিফ মাইমুন বলেন, আমি প্রায়ই এখান দিয়ে যাতায়াত করি। আমার কয়েকজন বন্ধু এই ম্যানহোলে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন, সর্বশেষ আমি শনিবার ক্লাস করে ফেরার সময় ম্যানহোলে পড়ে আঘাত পাই। আমি এখন ঘর থেকে বের হতে পারি না। পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা।

এছাড়াও কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবেদা সুলতানা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকা সত্যিই বিপদজনক। আমরা এর আগেও এমন সমস্যায় সিটি কর্পোরেশনকে জানিয়ে ঢাকনা লাগানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। যদিও এটা আমাদের অধীনে নয় তবুও আমরা দ্রুত এটা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা করব।

তিনি আরো বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কলেজকে এডিস মশার আক্রমণ প্রতিহত করতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেছি। শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা দিতে আমরা তিতুমীর কলেজ কর্তৃপক্ষ সর্বদাই কাজ করে যাব।

এদিকে ২০ নং ওয়ার্ড় কাউন্সিলর মো. নাছিরের সাথে কথ বললে তিনি জানান, তিতুমীর কলেজের সামনের ড্রেন ও ভাঙা ম্যানহোলগুলো সম্পূর্ণ নতুনভাবে তৈরি করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে বাজেটও পাশ হয়েছে। ড্রেনগুলো মেরামত হলে মশা একেবারেই কমে আসবে।

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত