শিরোনাম

বিসিএস ছেড়ে শিক্ষকতা

প্রিন্ট সংস্করণ॥মো. মমিন সরকার, শেকৃবি  |  ০৮:৪৪, জুলাই ১৯, ২০১৯

লাখো তরুণের স্বপ্ন বিসিএস ক্যাডার হওয়া। অনেক ত্যাগের ফসল এই বিসিএস ক্যাডার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েও তা ছেড়ে দিয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা।

যারা বিসিএসের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে অন্যান্য পেশায় গিয়েছেন তাদের মধ্যে কৃষিবিদ মমিনুল হক রবিন অন্যতম।

৩৭তম বিসিএস এ কৃষি ক্যাডারে ৩০ তম স্থান অর্জন করেন রবিন। কিন্তু শিক্ষকতাকে ভালোবেসে শেষ পর্যন্ত ছেড়েছেন ক্যাডার সার্ভিসের লোভনীয় চাকরি।

৫১টি পদের বিপরীতে হাজারো প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে কৃষি ক্যাডারের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হোন ।

এজন্য তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে এক সুদীর্ঘ পথ। প্রিলিমিনারি, লিখিত, ভাইবা-প্রতিটি ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করেন রবিন। কিন্তু গবেষণা এবং শিক্ষকতা করার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার সুযোগ পেয়ে বিসিএস ছেড়ে চলে আসেন শিক্ষকতায়।

রবিনের জন্ম নেত্রকোণার বারহাট্টায়। বাবা এ কে এম শামছুল হক এবং মাতা মিনারা আক্তার। ৭ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট রবিন। ছোট হওয়ায় সবার আদর কুড়িয়েছেন তিনি। পেয়েছেন মা-বাবার অনুপ্রেরণা আর বড় ভাই-বোনদের সহযোগিতা।

ছোটবেলা থেকে রবিনের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। শহীদ সৈয়দ নজরুল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নেন। ভাগ্যে হয়ত ইঞ্জিনিয়ার লেখা ছিল না। ভর্তি হন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

রবিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ১ম দিকে পড়াশোনা তুলনামূলকভাবে কম করতাম। পরবর্তীতে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠি। ৩য় বর্ষ থেকে গবেষণার প্রতি আমার আগ্রহ জন্মে ।

৪র্থ বর্ষে ১ম সেমিস্টারে সিজিপিএ-৩.৮৭ এবং ২য় সেমিস্টারে সিজিপিএ-৩.৮৮ পেয়ে অনার্স শেষ করি। কৃষি রসায়ন বিভাগে সিজিপিএ-৪.০০ পেয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করি।

ছাত্রজীবনেই আমার ১৬ টি গবেষণাপত্র প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন জার্নালে। গবেষণার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। তখন থেকে ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হব।

কিন্তু দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ম্লান হয়ে যায়। তখন বিসিএস এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী , আগারগাঁও লাইব্রেরিতে গিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করতাম। ৩৬ তম বিসিএস এর জন্য প্রস্ততি নিলেও ৩৭তম বিসিএস এ তার ফল পাই। প্রিলিমিনারি, লিখিত, ভাইবা পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হই।

এদিকে অধরা স্বপ্নে ফুল ফোটে। দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিযোগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। তখন শিক্ষক হওয়ার আশার আলো সঞ্চার হয়। নিজের লালিত স্বপ্ন পূরণের যেন একটা সুযোগ পেলাম। অনার্স-মাস্টার্সের ফলাফল, গবেষণাপত্র সব মিলিয়ে আশাবাদী ছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পাব।

সৃষ্টিকর্তার কৃপায় স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়। ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করি।

যোগদানের মাস তিনেক পরেই ৩৭ তম বিসিএস (কৃষি) এর গেজেট প্রকাশিত হয়। কৃষি ক্যাডার অনেক পরিশ্রমের ফসল হলেও থেকে যাই শিক্ষকতায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনে রবিন পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। এক সময় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হন। একসাথে ছাত্রসংগঠন এবং ভালো রেজাল্ট-এ বিষয়ে রবিন বলেন, আমি সবসময় পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিতাম, পাশাপাশি সংগঠনে সময় দিতাম।

ছাত্রলীগের মিটিং-মিছিলে অংশগ্রহণ করতাম। আমি ছোটবেলা থেকেই ধৈর্যশীল ছিলাম। যার ফলাফল ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবন পর্যন্ত পেয়েছি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ছাত্রজীবনে সংগঠন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে লেখাপড়ার ক্ষতি করে নয়। সবার আগে পড়াশোনা ঠিক রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীরা কোন পেশাকে বেছে নিবে- এ উদ্দেশ্যে রবিন বলেন , সবার আগে নিজের ভালোলাগাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীরা শুরু থেকেই বিসিএস এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করে। কিন্তু বিসিএস একমাত্র পেশা নয়। ছাত্র-ছাত্রীদের একাডেমিক পড়াশোনায় আগে গুরুত্ব দিতে হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রবিন বলেন, যেহেতু আগে থেকেই আমার গবেষণা করার ইচ্ছা। তাই এখন থেকে গবেষণার প্রতি আরো জোর দিব।

ভবিষ্যতে উচ্চতর গবেষণার জন্য বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত