শিরোনাম

সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে রাবি

মুজাহিদ হোসেন, রাবি  |  ১৬:১৩, জুলাই ১৮, ২০১৯

রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্র পদ্মার কোল ঘেঁষে ঢাকা টু রাজশাহী মহাসড়কের পাশে মতিহারের সবুজ চত্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অবস্থিত। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ ক্যাম্পাসের মূল ফটক পেরিয়ে সবুজ বৃক্ষে আচ্ছন্ন করে আকর্ষণে বাড়িয়ে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা।

ক্যাম্পাসের বিশেষ আকর্ষণ- প্যারিস রোড, সাবাস বাংলা মাঠ, শহীদ মিনার, মসজিদ, বুদ্ধিজীবী চত্তর, বধ্যভূমি, সিনেট ভবন, সাত পুকুরসহ নানা ব্যতিক্রমী স্থাপনা। আর এই ব্যতিক্রমী এ স্থাপনাগুলোকে ঢেলে সাজানোসহ নতুন কিছু স্থাপনার কাজ শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়া।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত পুকুর সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজ গত মে মাসে শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় সাত পুকুর গবেষণা প্রকল্পভুক্ত পুকুরগুলোতে মাছের পোনা অবমুক্তসহ সৌন্দর্যায়নের কাজ প্রায় শেষের দিকে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্যারিস রোডের সৌন্দর্য বাড়ানো, সিনেট ভবনের সামনে বইয়ের ভাস্কর্য এবং মূল ফটকের দক্ষিণ পূর্ব কোনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ফলক তৈরি করার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন উপ-উপাচার্য।

সরোজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড এর দুইদিকে পরিষ্কার করা, ঘাস এবং ছোট ছোট ফুল গাছ লাগানো শুরু হয়েছে। সাত পুকুর সংস্কারে পুকুরের চারপাশ বাঁধা, সবুজ ঘাস, গাছ লাগানো এবং শিক্ষার্থীদের মুক্ত পরিবেশে পড়াশুনার জন্য বসার স্থান সহ আলোর ব্যবস্থা করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এছাড়া সিনেট ভবনের সামনে বইয়ের ভাস্কর্যের নতুন স্থাপনা এবং মূল ফটকের দক্ষিণ পূর্ব কোনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ফলক তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।

সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষা, সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পুকুরগুলোর পাড়বাধাঁইসহ সংরক্ষণের কথা চিন্তা করে উপ-উপাচার্য সাত পুকুর গবেষণা প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্পের কাজ অতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রতিটি পুকুর পাড়ে শিক্ষার্থীদের মুক্ত পরিবেশে বসে পড়াশোনা করার সুযোগ থাকবে, রাতে কালার লাইটের ব্যাবস্থাও থাকবে। সেই সাথে পুকুরে গোসল করা সাঁতারকাটাও যাবে। তবে মাছ ধরা নিষেধ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন দুটি স্থাপনার কাজ ও প্রায় শেষের দিকে।

এর আগে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের সবাইকে উপ-উপাচার্য সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প লেখা গেঞ্জি উপহার দিয়ে ক্লিন ক্যাম্পাস, গ্রিন ক্যাম্পাস স্লোগান বাস্তবায়িত করতে সবাইকে উৎসাহী করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক রায়হান বলেন, ‘সম্প্রতি সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক এর পাশে এবং সিনেট ভবনের সামনে যে দুটি স্থাপনা গড়ে উঠছে। এটা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে কী না আমার জানা নেয়। আর এটা অন্যান্য জায়গায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি এবং সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিবে বলে আমি মনে করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যপারে ট্যুরিজম এ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের প্রভাষক সাজু সরদার বলেন, ‘আমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক সুন্দর ও সাজানো গোছানো। আর এই সাজানো গোছানো ক্যাম্পাসকে আমাদের মাননীয় উপ-উপাচার্য আরও সৌন্দর্যবর্ধন ও নতুন স্থাপনার জন্য যে প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ শুরু করেছেন তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আহবায়ক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. চৌধুরী জাকারিয়া বলেন, ‘পুকুর সংস্কার ও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজসহ কিছু নতুন স্থাপনার মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে রোল মডেল হিসাবে তৈরি করতে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, যথা সময়েই এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। এক্ষেত্রে কোন রকম গাফিলতি করা হবে না। তার মতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ কর্মচারীদের কাছে সৌন্দর্যের এক নতুন মাত্রা যোগ হবে।’

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত