শিরোনাম

বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের আপন শুধু রোদ-বৃষ্টি

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০১:২৮, জুলাই ০৯, ২০১৯

সুনামগঞ্জের আমড়াপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পারুল আক্তার। ২০০৯ সাল থেকে শিক্ষকতা করছেন।

কর্মজীবনের দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিনা বেতনে পাঠদান করে এসেছেন। মানুষ গড়ার মহান দায়িত্ব নিলেও নিজের ভাগ্য গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

এখন দুবেলা দুমুঠো খাবার আর একমাত্র কন্যাসন্তানকে মানুষ করতেই হিমশিম খাচ্ছেন এই শিক্ষক। আক্ষেপ করেই বলেন, ব্যক্তিজীবনে আমি ব্যর্থ।

দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করলেও কোনো বেতন-ভাতা পাইনি। গত ১৬ জুন থেকে প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় পড়ে আছি।

কিন্তু এমন আপন কাউকে পাইনি যারা আমাদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আমাদের আপন শুধু রোদ আর আষাঢ়ের বৃষ্টি!

এ আক্ষেপ শুধু পারুল আক্তারের একার নয়, জাতীয়করণবঞ্চিত ৪ হাজার ১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও।

গত কয়েক বছর ধরে জাতীয়করণের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও অধরাই থেকে গেছে বেতন-ভাতার স্বপ্ন। তাই ফের কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

গত ১৬ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি শেষে ২৯ জুন প্রতীকী অনশন করেন শিক্ষকরা। এরপর ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত অনশন করেন তারা।

এসময় পর্যন্ত সরকারের সংশ্লিষ্টরা খোঁজখবর না নেওয়ায় ৩ জুলাই থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

গতকাল আমরণ অনশনের ষষ্ঠদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অনশন করেছেন শিক্ষকরা।

গতকাল সোমবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের বামপাশের সড়কে ত্রিপল টাঙিয়ে বসে আছেন শতশত শিক্ষক। তাদের সাথে রয়েছে ছোট-ছোট ছেলেমেয়ে। অসুস্থ হয়ে শুয়ে আছেন কেউ কেউ।

কয়েকদিন না খেয়ে কথা বলার মতো শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন একাধিক ইনজেকশন পুশ করার সত্যতা মিলেছে।

এছাড়া সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড. তপন কুমার মণ্ডলকে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সঙ্গে কর্তব্য পালনের সুপারিশ করা হয়েছে।

মুন্নির বড় ভাই হাসিবুল রুবেল বলেন, এখনো আইসিইউতে অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে মুন্নি। চিকিৎসক বলেছেন তার সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগবে।

তবে আরও কতদিন লাগবে সুস্থ হতে এ বিষয়ে চিকিৎসকরা কিছু বলতে পারেনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন বলেন, সার্বক্ষণিক মুন্নির বিষয়ে খোঁজ রাখা হচ্ছে। তার পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। মুন্নির উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে আরও টাকা দেয়া হবে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তরা হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে রোববার ডা. তপন কুমার মন্ডল ও নার্স কুহেলিকা গোপালগঞ্জের আমলী আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন।

বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ূন কবির তাদের জামিন মঞ্জুর না করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ দিন নার্স শাহানাজ পারভীন আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ মামলার তদন্তকাজ চলছে। তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত