শিরোনাম

বাসে চবি ছাত্রী লাঞ্ছিত : অর্থনীতি বিভাগের মানববন্ধন

ইমাম ইমু, চবি প্রতিনিধি  |  ১৪:৪৮, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

গত ১১ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) হতে নগরীর নিউ মার্কেটগামী ৩নং বাসের চালক ও সহাকারী দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী লাঞ্ছনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চবির অর্থনীতি বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বেলা বারোটার দিকে চবি সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আদনান আলীর সঞ্চালনা ও বিভাগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন মজুমদারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন-চবি প্রক্টর প্রফেসর আলী আজগর চৌধুরী, বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. আবুল হোসাইন, প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নুর নবী, সহকারী অধ্যাপক নঈম উদ্দিন হাছান আওরেঙ্গজেব চোধুরী, ঝুলন ধর এবং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও ইয়ং ইকোনোমিস্ট সোসাইটির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

বক্তব্যে চবি প্রক্টর প্রফেসর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, বর্ষা তার সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে সেই সাথে বিভাগের সাবেক-বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে সহযোগিতা করেছে। আইনের বাস্তবায়নের জন্য যেকোনো জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হয়। তারপরেও আমরা চেষ্টা করি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয় যেকোনো প্রতিষ্ঠানের হোক নেক্কারজনক কাজের জন্য শিক্ষকসমাজসহ সবাইকে কাজ করতে হবে।

নঈম উদ্দিন হাছান আওরেঙ্গজেব চোধুরী বলেন, মামলা রুজু করার প্রক্রিয়ায় জড়িত সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা দেখাতে পেরেছি আমাদের কেউ একজন আক্রান্ত হলে আমরা সকলেই তার প্রতিবাদ করতে পারি। আমাদের প্রতিবাদ ব্যবস্থা সব সময় অব্যাহত রাখতে হবে। সবাইকে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হতে হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তোমাদের প্রতিবাদী ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রফেসর ড. আবুল হোসাইন বলেন, এটা শুধু নিন্দাযোগ্য কাজ নয়। সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দেরি হলেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাবো বলে আশা করি। বর্ষা একজন সাহসী মেয়ে। এ ধরণের আঘাত না করলে আরো খারাপ হতে পারতো। ছাত্রীদের দলবদ্ধ হয়ে বাসে যাতায়াত করতে হবে। ছাত্রদের উচিৎ এ ব্যাপারপ তাদেরকে সহযোগিতা করা।

প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, এটা কোন নতুন ঘটনা নয়। এমন হয়রানির বা লাঞ্ছনার ঘটনা অহরহ ঘটছে। বর্ষা সাহসিকতা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বর্ষার এই প্রতিবাদী আচরণের জন্য ধন্যবাদ প্রাপ্য। মূলত প্রতিবাদ না করায় এ ধরণের কুলাঙ্গাররা আস্কারা পেয়ে যাচ্ছে। কোন হয়রানির ইঙ্গিত পেলেই সম্মিলিতভাবে এর প্রতিবাদ জানাতে হবে। একা হলেও কেউ যেন প্রতিবাদ করতে ভয় না পায়। তিনি আরো বলেন, ১নং গেট থেকে যেসব বাস শহরে যায় সেসকল বাসের চালক ও হেল্পারদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাউন্সিলিং দেয়া উচিত।

সহকারী অধ্যাপক ঝুলন ধর বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে আইসিটি যেভাবে কাজ করছে অপরাধী সনাক্ত করা জটিল কোন বিষয় নয়। শুধু পুলিশের সদিচ্ছা ও দায়িত্ববোধের উপর নির্ভর করে। বর্ষার ঘটনায় অভিযুক্তদের নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দেয়া হয়েছে। যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বনিম্ন শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ড। তাই শুধু অপরাধদের আটক করলেই শেষ নয়। আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

ইয়াং ইকোনমিস্ট সোসাইটি (ইয়েস) এর সাবেক সভাপতি ও বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের সহায়তায় উক্ত ঘটনার পরপরই আমরা সিনিয়ররা অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা করি। উত্তেজিত অন্য শিক্ষার্থীদের বুঝাতে থাকি যে আইনী প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে এ ধরনের ঘটনার ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে বর্ষা'র ঘটনায় অভিযুক্ত বাস চালককে তাৎক্ষণিক আটক করাটাই তার ভালো উদাহরণ। তাই শান্তিপূর্ণভাবে যারা আমাদেরকে সহায়তা করেছে তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই ।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ক্লাস শেষ করে আনুমানিক ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ১নং গেইট হতে ৩নং বাসে ওঠেন। বাসটি নগরের রিয়াজুদ্দিন বাজার এলাকায় পৌঁছালে ভুক্তভোগী ছাড়া সব যাত্রী একে একে নেমে গেলে তিনি একা হয়ে যান। এ সময় হঠাৎই বাসটি তার রুট পাল্টে স্টেশন রোডের দিকে চলতে শুরু করে। তখন ভুক্তভোগী মেয়েটি নিরাপত্তার স্বার্থে বাস ড্রাইভারকে বাস থামাতে বললে হঠাৎই বাসের হেলপার তার দিকে ধেয়ে যায় এবং তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তার শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে।

সেসময় দম বন্ধ হয়ে আসলে মেয়েটি আত্মরক্ষার্থে তার হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে হেলপারটিকে আঘাত করে চলন্ত বাস থেকেই লাফ দেয় এবং এক রিকশাওয়ালার সাহায্যে শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে বাসায় ফিরেন।ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে নগরীর কোতায়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনায় বাস চালককে আটক করা হলেও সহকারীকে এখনো আটক করা হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত