শিরোনাম

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ২০:৩৮, মার্চ ২৪, ২০১৯

নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির আন্দোলনের পঞ্চম দিন গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের আশ্বাস পেয়ে এক মাসের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্দোলনরত শিক্ষকদের কাছে এসে এই আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের শুরুতে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) করা হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনকারী নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে গিয়ে তিনি এই আশ্বাস দেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন, শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন।তবে এক মাসের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ফের কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। আপনারা সরকারের প্রতি আস্থা রাখুন, ঘরে ফিরে যান। আগামী অর্থবছরের শুরুতে যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিওকরণ শুরু হবে। তিনি বলেন, শুধু এমপিওভুক্ত করলেই হবে না। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আর্থিক সঙ্গতির বিষয়। সেটাও আমাদের ভাবতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি এমপিওভুক্তির বিষয়ে আন্তরিক। দীপু মনি বলেন, আমি শিক্ষক পরিবারের সন্তান। আমার মা ৪০ বছর ধরে শিক্ষকতা করেছেন। আপনাদের দুঃখ-কষ্ট আমি বুঝি। সুতরাং আমার ওপর আস্থা রাখুন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ শুরু করেছিলেন। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আপনারা আস্থা রাখুন। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। আপনাদের খালি হাতে ফেরানো হবে না। শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের পর জরুরি বৈঠকে বসেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতারা। বৈঠক শেষে তারা কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংগঠনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার কর্মসূচি স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের শুরুতে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আমাদের দেখা করিয়ে দেবেন। এই আশ্বাসে আমরা আগামী এক মাসের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছি। ডলার বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাসে একমাসের জন্য আন্দোলনে বিরতি দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে যদি আমাদের দাবি পূরণ হয়, প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের সঙ্গে দেখা করে আমাদের কথা শুনেন, তাহলে আমরা আর আন্দোলনে আসব না। আর তা না হলে একমাস পর আমরা আবার এসে রাজপথ দখল করব। সেই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন চলবে।তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যার ওপর আমাদের আস্থা আছে। আমরা বিশ্বাস করি, অসহায় গরিব শিক্ষকদের তিনি বঞ্চিত করবেন না, আমাদের সমস্যাগুলো অনুধাবন করতে পারবেন। তিনি নিশ্চয় আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবেন। সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত কুমার সানা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমাদেও সাক্ষাৎ করিয়ে দেবেন। তা ছাড়া শিগগিরই এমপিওভুক্তির বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তার সম্মানার্থে আমরা কর্মসূচি স্থগিত করেছি। দেশের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। শিক্ষকদের সঙ্গে ছিলেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও। এমপিওভুক্তির দাবিতে কয়েক বছর ধরেই এ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষকরা। এবার নিয়ে শিক্ষকরা ৩০তম বারের মতো আন্দোলনে নেমেছেন।এর আগে গত বছরেও দাবি আদায়ে ১৭দিন অনশন করেছিলেন তারা। পরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে অনশন ভেঙে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন এমপিওর বাইরে থাকা এসব শিক্ষক-কর্মচারীরা। জানা যায়, মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা এমপিওভুক্তির দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করেছেন শিক্ষকরা। চলমান এই আন্দোলন শিক্ষকদের ৩০তম বারের আন্দোলন। এর আগে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন দীর্ঘদিন যাবৎ নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্তির দাবিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন জানিয়ে এসেছে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত বছরের ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনাদের দাবি মেনে নিয়েছেন, অনশন ভেঙে আপনাদেরকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে বলেছেন। সে সময় শিক্ষকরা আশ্বস্ত হন এবং অনশন ভেঙে চলে যান। একই বছরের ১১ জুলাই তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা সচিবের সাথে শিক্ষকদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। ওইদিন বিকেলে শিক্ষকদের অনশনস্থলে এসে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, রাশেদা কে চৌধুরী এবং তারেক জিয়া উদ্দিন এসে শিক্ষকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনাদের দাবি মেনে নেবেন। আপনারা অনশন ভেঙে বাড়ি ফিরে যান। শিক্ষকরা তখন আশ্বস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা ফের রাজপথে নামেন।আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওর দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের জন্য কদম ফোয়ারা থেকে প্রেস ক্লাবের গেট পর্যন্ত রোদ, ধুলোবালি, মশার কামড় উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে ৩০তম দিবারাত্রি অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষক-কর্মচারী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এবারো আশ্বাস পেলাম। দেখা যাক আশ্বাসের বাস্তবায়ন কতটুকু হয়।এদিকে গত পাঁচদিনের কর্মসূচিতে অন্তত ১৫ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বরগুনা জেলার তালতলি উপজেলার শিক্ষক শৈলেন চন্দ্র মজুমদার (৫০) স্ট্রোক করে জাতীয় হূদরোগ হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, সারাদেশে ৫ হাজার ২৪২টি নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষক রয়েছেন। তারা ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত