শিরোনাম

ডাকসুর আজীবন সদস্য শেখ হাসিনা, নুরের বিরোধিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৪:২৮, মার্চ ২৩, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর আজীবন সদস্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাকসুর কার্যকরী সভা। শনিবার (২৩ মার্চ) সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাদের মতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এর বিরোধিতা করেছেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর।

ডাকসুর প্রথম কার্যকরী বৈঠকে শেখ হাসিনাকে আজীবন সদস্য করার প্রস্তাব তোলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহরিমা তানজিনা অর্ণি। বৈঠকে ডাকসুর কেন্দ্রীয় ২৫ নেতার মধ্যে ২৪ জন এ প্রস্তাবে সম্মতি দেন।

শেখ হাসিনা ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে তিনি ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এমনকি রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।
এছাড়াও ক্যাম্পাসে সাইকেল- রিকশার আলাদা লেন, রিকশা ভাড়া নির্ধারণ, চালকদের নির্ধারিত পোশাকে ক্যাম্পাসে ৩০০-৩৫০টি রিক্সা নির্ধারণ করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ছাত্রলীগ।

শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করার প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পদাধিকারবলে ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

তিনি জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সদস্যপদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

প্রস্তাবের বিরোধিতার কারণ হিসেবে নুর বলেন, ‘এই নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের কাছে এই নির্বাচন বিতর্কিত বলে বিবেচিত হয়েছে। তাই আমি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছি।’

অপরদিকে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৫ জনের মধ্যে ২৪ জন সম্মতি দিয়েছেন। তাই একজনের বিরোধিতা গ্রহণযোগ্য হয়নি।’

এর আগে, শনিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় ডাকসুর প্রথম কার্যকরী সভা বসে। সভায় যোগ দেন ভিপি নুরুল হক নুর, জিএস গোলাম রাব্বানীসহ নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস গোলাম রাব্বানী। এরপর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

অন্যদিকে হলে গেস্টরুম কালচার বন্ধ এবং রুম দখলদারি বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাবনা দিয়েছেন ভিপি নুর।
দীর্ঘ ২৮ বছর বন্ধ থাকার পর ১১ মার্চ ডাকসু ও হল সংসদগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের দিন হলগুলোর ভোটকেন্দ্রে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেন ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

নির্বাচনে ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয়ী হয় ছাত্রলীগের প্যানেল। এছাড়া ১৮টি হল সংসদের ১২টিতে জয়ী হয় ছাত্রলীগের প্যানেল। বাকি হলগুলোর ভিপি-জিএসসহ বেশকিছু পদে জয়ী হন স্বতন্ত্ররা। আর ডাকসুর সহসভাপতিসহ (ভিপি) দুটি পদে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা জয়ী হন।

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গত ২১ মার্চ সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসু সভাপতি মো. আখতারুজ্জামান। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এরই মধ্যে নবনির্বাচিত কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। অবশেষে গতকাল বিকেলে সহসভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।

মধুর ক্যান্টিনে এ ঘোষণা দিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে আগামীকাল (শনিবার) অনুষ্ঠেয় ডাকসুর কার্যকরী সভায় আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করব। পুনর্নির্বাচনের দাবিসহ শিক্ষার্থীদের অন্য যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধান করতে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে।

পুনর্নির্বাচনের চাওয়া আমাদের বরাবরের মতোই রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম এবং ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব অঙ্গসংগঠন বা কথা বলার জায়গা রয়েছে, সেসব জায়গায় অনিয়ম নিয়ে কথা বলতেই আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি।

শিক্ষার্থীদের সম্মতিক্রমে দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানিয়ে নবনির্বাচিত ডাকসু ভিপি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের যে সিদ্ধান্ত সেটা আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ করেই নিয়েছি। তারা মনে করে, আমরাও মনে করি যে পুনর্নির্বাচনের জন্য দায়িত্ব নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া উচিত এবং আমি সেটা করব।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্রী হল আর বিজয় একাত্তর হল ছাড়া অন্য হলগুলো প্রশাসন যেন ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের কাছে ইজারা দিয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীকে জোর করে মিছিল-মিটিং করানো যাবে না এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে হলে সিট দেয়া যাবে না।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত