শিরোনাম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একডেমিক ফলাফলে ছাত্রীরা এগিয়ে!

রাবি প্রতিনিধি  |  ১৯:০৪, মার্চ ১৯, ২০১৯

বাংলাদেশ এখন উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যার অংশীদার নারী পুরুষ উভয়ই। টানা তৃতীয়মেয়াদে আমাদের দেশকে যিনি নেতৃত্ব দিয়ে আসছে তিনিও নারী। বলা যায় নারীরা এখন পুরুষের পাশাপাশি দেশের হাল ধরেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি এগিয়ে তারই প্রমান মিলেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাডেমিক ফলাফলে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮টি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা ও নতুন বিভাগগুলোর সর্বশেষ পরীক্ষা মিলিয়ে মোট ৩৪টি বিভাগে ছাত্রীরা প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এর মধ্যে ১৮টি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান ছাত্রীদের দখলে। বাকি বিভাগগুলোতে ছাত্ররা প্রথম হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন ছাত্রীরাই। শুধু স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষায় নয়, বিভাগের অন্য বর্ষের ফলাফলেও ছাত্রীরা শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এমনকি সব বিভাগের ফলাফলে শীর্ষ ১০ জনের অন্তত ৫ জনই ছাত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার তথ্য মতে, চলতি শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৮ হাজার ২৩০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২৫ হাজার ৫৭৯ জন ও ছাত্রী ১২ হাজার ৫৫১ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮টি বিভাগের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৫৩টি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা ও নতুন ৫টি বিভাগের সর্বশেষ পরীক্ষার ফল মিলিয়ে ৩৪টি বিভাগে ছাত্রীরা প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। ২৪টি বিভাগে ছাত্ররা প্রথম হলেও দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান ছাত্রীদের দখলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি অনুষদে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলা অনুষদের ১২টি বিভাগের ৮টিতে ছাত্রী ও ৪টিতে ছাত্র, আইন অনুষদের ২টি বিভাগের একটিতে ছাত্রী ও অন্যটিতে ছাত্র, বিজ্ঞান অনুষদে ৯টি বিভাগের ৫টিতে ছাত্রী ও ৪টিতে ছাত্র, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ৫টি বিভাগের ৪টিতে ছাত্রী ও অন্যটিতে ছাত্র, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১০টি বিভাগের ৬টিতে ছাত্রী ও ৪টিতে ছাত্র, জীব ও ভ‚-বিজ্ঞান অনুষদের ৭টি বিভাগের ৪টিতে ছাত্রী ও ৩টিতে ছাত্র, কৃষি অনুষদের ৪টি বিভাগের ২টিতে ছাত্রী ও ২টিতে ছাত্র, প্রকৌশল অনুষদের ৬টি বিভাগের ২টিতে ছাত্রী ও ৪টিতে ছাত্র এবং চারুকলা অনুষদের ৩টি বিভাগের ২টিতে ছাত্রী ও অন্যটিতে ছাত্র প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

শুধু স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলে নয়, বিভাগের অন্য বর্ষের ফলাফলেও (প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষ) ছাত্রীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এমনকি, কোনো কোনো বিভাগে ছাত্রীদের ফল অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী বিভাগের ৬৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু আমার সংবাদ কে বলেন, ‘পড়াশুনা করার জন্য একটা সুন্দর পরিবেশের দরকার হয়, আর আমি মনে করি সে পরিবেশটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ে আছে। আমাদের এখানে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার কারন মেয়েদের সাথে চলনসই আমাদের সুন্দর নির্মল পরিবেশ আর, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অধিক পরিমানে শ্রম। এই সুন্দর পরিবেশে ছাত্রীরা যে সময়টুকু পড়াশুনা করে ছেলেরা সেই সময়টুকু এই সুন্দর পরিবেশেই অযথা আড্ডায় মেতে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম ফারুক সরকার টুক আমার সংবাদ কে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মেয়েদের সব ক্ষেত্রে পদচারণা চোখে পড়ার মত। বর্তমানে মেয়েদের থেকে ছেলেদের পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসাবে আমি যেটা দেখি সেটা হল- ছেলেরা খুব বেশি বাইরের বিভন্ন কাজে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে সেটার কারণে তাদের যে একাডেমিক পড়াশুনা সেটার দিকে তারা লক্ষ্য রাখতে পারছে না। ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটি মুক্ত জ্ঞানচর্চার জায়গা এখানে একটা ছেলেকে নিজেই ডিসিশন নিতে হয়ে সে কী করবে এবং ডিসিশন নিতে গিয়ে অনেক ছেলে ভূল পথে পা বাড়ায়। অন্যদিকে মেয়েরা খুব রক্ষণশীল হওয়ার কারণে তারা তাদের ডিসিশনটা সঠিক ভাবে নিতে সক্ষম হয়। এজন্য স্বভাবতই ছেলেদের এসব কারণেই একাডেমিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে আমি মনে করি।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা আমার সংবাদ কে বলেন, আমদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বিভন্ন ক্ষেত্রে নারীদের যে পদচারণ‍া তারই উৎসাহ উদ্দীপনার প্রতিফলন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ভাল ফলাফলের কারণ বলে আমি মনে করি তাছাড়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুসারে মেয়েদের হলে অনেক তাড়াতাড়ি ফিরতে হয় এর কারণে তারা পড়াশুনার সুযোগ একটু বেশি পায় অন্যদিকে ছেলেদের রুমে ফেরা নিয়ে কোন বাধাধরা নিয়ম না থাকার কারনে অনেক ছেলে রাতে পড়াশুনা করার জন্য যে রুমে ফিরতে হবে সেটাই ভুলে যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত